ব্ল্যাক হোলের রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে আশার আলো | অন্বেষণ | DW | 20.06.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ব্ল্যাক হোলের রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে আশার আলো

মহাকাশে ব্ল্যাক হোল এমনকি আলোও গিলে ফেলে৷ এমন রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তু সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের সীমা নেই৷ মহাকাশে ভাসমান জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ব্ল্যাক হোলসহ ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে পারে৷

মানুষ শুধু ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বরের প্রভাব দেখতে পায়৷ কখনো সেটি স্পেস বেঁকিয়ে দেয়, অথবা অদৃশ্য মহাজাগতিক বস্তু হিসেবে কোনো নক্ষত্র প্রদক্ষিণ করে৷ ঠিক কোন কোন পর্যায়ে পদার্থ এই ব্ল্যাক হোলের মধ্যে প্রবেশ করে, তা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ দেখা গেছে, সে সময়ে আশেপাশের পরিবেশ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে৷

এমন ব্ল্যাক হোলের চারিপাশে অতিরিক্ত পরিমাণ গ্যাস থাকলে ঘর্ষণের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়৷ ঘর্ষণের ফলে বিশাল মাত্রায় উত্তাপ সৃষ্টি হয়৷ তখন সেটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে৷ ফলে ব্ল্যাক হোলের আশেপাশে অতিরিক্ত মাত্রার আলো দেখা যায়৷ এমন এক ব্ল্যাক হোল গোটা গ্যালাক্সির সব নক্ষত্রের তুলনায় অনেক বেশি আলো সৃষ্টি করতে পারে৷ সেই আলো কিন্তু কেন্দ্রভাগের খুবই ছোট এক অংশ থেকে আসে৷

বর্তমান এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে অসংখ্য গ্যালাক্সি রয়েছে৷ সবক'টির মাঝেই একটি করে ব্ল্যাক হোল থাকলে অতীতের ব্রহ্মাণ্ডেও বিশাল সংখ্যায় এমন কৃষ্ণ গহ্বর ছিল বলে ধরে নিতে হবে৷ এখনো পর্যন্ত প্রায় তিনশর মতো ব্ল্যাক হোল শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে৷

পৃথিবীতে উদ্ভিদ জগতের উৎস বিশ্লেষণ করতে হলে হয়তো ৩০০ বিশাল গাছ দেখতে এবং পরীক্ষা করা যাবে৷ এমন বিশালাকার সিকোইয়াস গাছ বাইরে থেকে অবশ্যই বিস্ময়কর মনে হবে৷ কিন্তু সেটি কীভাবে এত বড় হলো, সেটা হয়ত বোঝা যাবে না৷ চারাগাছ হিসেবে এবং অর্ধেক বড় হবার পর সেটি কেমন দেখতে ছিল, সেই প্রশ্নেরও উত্তর পাওয়া যাবে না৷

সেই উপলব্ধির ভিত্তিতে শুধু সবচেয়ে বড় সিকোইয়াস গাছগুলির দিকে নজর দেবার চেষ্টা করাই যথেষ্ট নয়, ছোট অবস্থায় সেগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখাও জরুরি৷ সেই জ্ঞান সম্বল করে এমন ব্ল্যাক হোলের বিবর্তন প্রক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করা যায়৷ সেগুলির বৃদ্ধির পর্যায় দেখা যাচ্ছে৷ কিন্তু প্রত্যেকটি পর্যায় বেশ দীর্ঘমেয়াদী৷ অর্থাৎ বিশাল আকার ধারণ করতে, পদার্থের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে দশ কোটিরও বেশি সময় লাগে৷

ব্ল্যাক হোলের রহস্য উন্মোচনে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ

বর্তমানে এমন সব বিশাল আকারের ব্ল্যাক হোলের খোঁজ পাওয়া গেছে, যেগুলি বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের ৬০, ৭০ কোটি বছর পর আমাদের সূর্যের তুলনায় একশ কোটি গুণ বড়৷ এত কম সময়ের মধ্যেই এমন বৃদ্ধি হয়েছে৷

সেটা কীভাবে ঘটে, মানুষ তা এখনো ভালো করে জানে না৷ জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ সেই রহস্য সমাধান করতে চলেছে৷ গ্যালাক্সিগুলি একেবারে আদিকালের ব্ল্যাক হোলের অংশবিশেষের সঙ্গে কী করে, আমরা তা দেখতে পাবো৷ কয়েক'শো কোটি বছর পরেও কি সেগুলি একই রকম দেখতে হয়? নাকি সেগুলির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে? যেমন সেগুলির আকার কি কিছুটা এলোমেলো?

এমন প্রশ্নের জবাব পেলে বিশাল ভরসম্পন্ন ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাবে৷ এ ক্ষেত্রে বিশাল বিস্ময় অপেক্ষা করে রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে৷ তখন শুধু ব্ল্যাক হোলের আদি রূপ নয়, অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু সম্পর্কেও অনেক কিছু জানা যাবে৷ সেই প্রশ্নের উত্তর এখনই ফাঁস করা সম্ভব নয়৷ তা না হলে সব উত্তেজনাই বৃথা হবে৷

জেমস ওয়েব মহাবিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচনে আরও অগ্রগতি ঘটাবে৷ বিশেষ করে ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে আরও জ্ঞান অর্জন করা যাবে৷ সবাই জানতে চায় – আমি কোথা থেকে এসেছি? কোথায় যাচ্ছি? ব্রহ্মাণ্ডের অতি দীর্ঘ ইতিহাস সম্পর্কে মানুষ খুঁটিয়ে জানার চেষ্টা করে চলেছে৷

কর্নেলিয়া বরমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়