ব্লগার হত্যার তদন্তে কেন ধীরগতি? | বিশ্ব | DW | 17.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ব্লগার হত্যার তদন্তে কেন ধীরগতি?

এলজিবিটি অধিকার কর্মী জুলহাস মান্নান ও তাঁর বন্ধু, নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যায় জড়িত সন্দেহে আরো একজনকে পুলিশ আটক করেছে৷ কিন্তু এই মামলা এবং কাছাকাছি সময়ে জঙ্গি হামলায় নিহত অনেক মামলারই কোনো অগ্রগতি নেই৷

বুধবার আসাদুল্লাহ নামে যে একজনকে টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে সরাসরি জুলহাস-তনয় হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল বলে পুলিশের দাবি৷ সে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার প্রশিক্ষক ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ ২০১৬ সালে উত্তর বাড্ডায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সে সন্দেহভাজনদের একজন৷ পুলিশ জানায়, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগ দেয়ার আগে আসাদুল্লাহ যশোরের নওয়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সদস্য ছিল৷

গত বছরের ২২ জুলাই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে শেখ আবদুল্লাহ, ওরফে জুবায়ের নামে আনসার আল ইসলাম (এবিটি)-র এক শুরা সদস্যকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ এ নিয়ে মোট চারজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হলেও মামলার তদন্ত কবে শেষ হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় পুলিশ৷

২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাতে কলাবাগান লেক সার্কাস এলাকার বাসায় ঢুকে জুলহাস ও তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়৷

২০১৩ সালে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ গঠিত হওয়ার পর থেকে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কমপক্ষে ১০ জন ব্লগার, লেখক, প্রকাশক ও ভিন্ন চিন্তার মানুষকে হত্যা করা হয়৷ প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পিছনেই কোনো-না-কোনো জঙ্গি সংগঠন চড়িত বলে পুলিশ বিভিন্ন সময় জানিয়েছে৷

২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পল্লবীতে হত্যা করা হয় ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাজীব হায়দারকে৷ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার শেষে রায় দেয়া হয়েছে৷

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির উল্টো দিকে হত্যা করা হয় বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার ড. অভিজিৎ রায়কে৷ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো চলছে৷ অভিজিতের পরিবার এরইমধ্যে কয়েকবার তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে

একই বছরের ১২ মে সিলেটের সুবিদবাজার এলাকায় ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ এবং ৭ আগস্ট ঢাকার গোড়ানে নিজ বাসায় হত্যা করা হয় ব্লগার নীলাদ্রি চ্যাটার্জি নিলয়কে৷

এই হত্যাকাণ্ডগুলোর কোনোটিরই তদন্ত শেষ হয়নি৷ কবে শেষ হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই৷

ওই বছরের ৩০ মার্চ ঢাকার তেজগাঁ এলাকায় ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে হত্যা করা হয়৷  এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে৷

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সাল আরেফীন দীপনকে হত্যা করা হয়৷ তিনি ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক ছিলেন৷ একই সময়ে লালমাটিয়ায় প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল, ব্লগার রণদীপম বসু ও তারেক রহিমকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা৷ এই দু'টি ঘটনার কোনোটিরই তদন্তে অগ্রগতি নেই

অডিও শুনুন 01:48

আমার কাছে মনে হয়েছে, তদন্তে কোনো কিছু আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে: নূর খান

২০১৬ সালের এপ্রিলে ঢাকায় হত্যা করা হয় অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিমউদ্দিন সামাদকে৷ এই মামলার তদন্তেও অগ্রগতি নেই৷

গত বছরের ১১ জুন মুন্সিগঞ্জের সিরজদিখানে হত্যা করা হয় মুক্তমনা লেখক ও বিশাখা প্রকাশনীর মালিক শাহজাহান বাচ্চুকে৷

মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ব্লগার ও মুক্তচিন্তার লেখকদের হত্যার পর দু-একটি মামলার তদন্তে আমরা অগ্রগতির খবর পেয়েছি৷ কিন্তু বাকি মামলাগুলোর তদন্তে আমরা ধীর গতি লক্ষ্য করছি৷ আমার কাছে মনে হয়েছে, তদন্তে কোনো একটা কিছু আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে৷ তদন্তকারী সংস্থাগুলো কাজ করছে৷ আমার ধারণা তারা তথ্যও পাচ্ছেন৷ কিন্তু তারা কৌশল হিসেবে আমাদের তথ্য জানতে দিচ্ছেন না৷ হতে পারে তদন্তের স্বার্থে তারা এটা করছেন৷’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা দেখছি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দু-একজন ধরা পড়লেও তারা ক্রস ফরারে যাচ্ছে৷ এটা গ্রহণযোগ্য নয়৷ তাতে আমরা আরো অনেক তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি৷ আর এটা আইনের পরিপন্থি৷ কেউ কেউ বলছেন, আসামিরা জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়৷ আমার কথা হলো, তদন্ত সঠিক এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক হলে আসামি ছাড়া পাবে না৷’’

অডিও শুনুন 02:48

আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এসব হতাকাণ্ডের পিছনে কারা, তাদের উদ্দেশ্য কী: মাসুদুর রহমান

তবে ঢাকা মেট্রোপলিন পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তদন্তে অবহেলা বা ধীরগতি আমরা বলতে পারি না৷ কারণ, প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাই শুরুতে ছিল ক্লুলেস৷ আর আমাদের কাছে এটা ছিল নতুন পরিস্থিতি৷ কিন্তু আমাদের কাছে এখন বিষয়টি পরিষ্কার এবং এইসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গিদের কয়েকটি সংগঠন জড়িত৷ আনসার আল ইসলাম, নব্য জেএমবিসহ আরো কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে৷ এখন আমরা সুনির্দিষ্টভাবে দায়ীদের চিহ্নিত করছি৷ আমরা কয়েকটি মামলা ডিটেক্ট করেছি৷ তবে সমস্যা হলো, এইসব জঙ্গি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, তাদের একাধিক ছদ্ম নাম এবং তারা মোটিভেটেড, ফলে তাদের আইনের আওতায় আনতে কিছুটা সময় লাগছে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের তদন্তের মূল কাজ হয়ে গেছে৷ আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, এসব হতাকাণ্ডের পিছনে কারা, তাদের উদ্দেশ্য কী৷ এখন  তাদের আইনের আওতায় আনতে খুব বেশি সময় লাগবে না৷’’

মাসুদুর রহমান আরো বলেন, ‘‘হোলি আর্টিজানের পর আমরা জঙ্গিদের মূল শক্তি ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছি৷ আশা করি তারা আর মাথাচাড়া দিতে পারবে না৷ আমরা আত্মতৃপ্তিতে ভুগছি না৷ আমাদের জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত আছে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন