ব্লগার রাজীব হত্যার বিচার নিয়ে সন্তুষ্ট নন বাবা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.02.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ব্লগার রাজীব হত্যার বিচার নিয়ে সন্তুষ্ট নন বাবা

নয় বছর আগে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে হত্যা করা হয়৷ ছেলের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত আর বিচার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বাবা ডা. নাজিম উদ্দিন ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে৷

রাজীব হত্যা আসামিদের সবার সার্বোচ্চ শাস্তি না হওয়ায় ডা. নাজিম উদ্দিন দুঃখ করে বলেন,  ‘‘হাই কোর্টের রায়ের পর খবর-টবর আর রাখি না৷ আমি যতটুকু শুনেছি, আপিল বিভাগে গেছে৷ আমরা ফেডআপ হয়ে গেছি৷’’

আহমেদ রাজীব হায়দার যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন শুরুর ১০ দিনের মাথায় ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মিরপুরের কালশীতে নিজের বাসার কাছে চাপাতি হামলায় খুন হন৷ গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাজীব পেশায় ছিলেন একজন স্থপতি৷তিনি উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির স্বরূপ উন্মোচনে অনলাইনে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন৷

নিষিদ্ধ সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানীর উগ্রবাদী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত ছাত্র মিলে হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়৷ রাজীবের পর পুলিশের তদন্তে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী, ব্লগার, লেখক-প্রকাশক মিলে আরও কয়েকজনের হত্যাকাণ্ডে আনসারুল্লাহর সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসে পুলিশ তদন্তে৷ 

তিন বছর পর ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজীব হত্যা মামলার রায়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র পলাতক রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম দীপের ফাঁসির রায় দেয় ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল৷ বিভিন্ন মেয়াদে আরও ছয়জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়৷ তাদের মধ্যে মাকসুদুল হাসান অনিক, এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজের জরিমানাসহ ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়৷ আনসারুল্লাহ প্রধান মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে ৩ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়৷ রাজীব হত্যায় ‘উসকানিদাতা' হিসেবে রাহমানীর সাজা হয়৷ 

২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল হাইকোর্ট এই শাস্তিই বহাল রাখে৷ রাজীবের বাবা কারাদণ্ড পাওয়া আসামিদের শাস্তি বাড়াতে আবেদন করলে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী শুনানিতে না থাকায় তা খারিজ হয়ে যায়৷

আসামিদের সবার সার্বোচ্চ শাস্তি না হওয়ায় হতাশ বাবা নাজিম উদ্দিন৷ তিনি বলেন, ‘‘টাকা-পয়সা খরচ করে মামলা কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে, জেনে কোনো লাভ নেই বরং কষ্ট বাড়ে৷... মামলার যে প্রসেস, তাতে বিরক্ত, খোঁজ রাখি না৷’’ 

ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত দুজনের মধ্যে রেদোয়ানুল আজাদ রানা ঘটনাস্থলে ছিল না জানিয়ে রাজীবের বাবা বলেন,  ‘‘সে সময় রানা মালয়শিয়া ছিল৷ পলাতক অবস্থায় তার ফাঁসির রায় হয়েছে৷ হাইকোর্টের রায় প্রকাশের সাত দিন আগে তাকে মালয়শিয়া থেকে আনা হয়৷ রানাকে তো রিমান্ডে নেওয়া হয়নি, রানা ঘটনাস্থলে ছিল না৷ যে কোপ দিয়েছিল তার ফাঁসি হয়েছে, আর যে প্রধান সহযোগী, তার যাবজ্জীবন হয়েছে৷’’

রানার নির্দেশে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে মন্তব্য করে নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘‘রানা কার নির্দেশে কাজ করেছে, কে এই নির্দেশ দিয়েছে, সেটা আমরা জানতে পারিনি’’

অন্যদিকে ছেলে হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ থাকলেও অন্য মামলাগুলোর রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ডা. নাজিম বলেন,  ‘‘দিপন হত্যা,অভিজিত হত্যায়আসামিদের সবার ফাঁসি হয়েছে৷ মোটামুটি এটা স্বস্তিদায়ক৷’’  নিজের ছেলের ঘটনায় ‘ন্যায়বিচার পাননি' দাবি করে ডা. নাজিম বলেন, ‘‘যে দুইজনের ফাঁসির রায় হয়েছে, আমার মনে হয় না এদের ফাঁসি হবে৷’’ 

রাজীব হায়দার খুন হওয়ার পর ব্লগার, লেখক, প্রকাশক, ভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধি ও মুক্ত মতের প্রচারকরদের লক্ষ্য করে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একের পর এক জঙ্গি হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটে৷

রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায়, নীলাদ্রিসহ ১১টি হত্যার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে জানিয়ে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,  ‘‘এরইমধ্যে তিনটি মামলার রায় হয়েছে, অন্যগুলোর বিচার চলছে৷’’

এনএস/কেএম (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)  

নির্বাচিত প্রতিবেদন