ব্লগার আসাদ নূর কারাগারে | বিশ্ব | DW | 26.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ব্লগার আসাদ নূর কারাগারে

ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক ব্লগার আসাদ নূরকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে৷ এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়েছিল৷ মামলার আরেক আসামি লিমন ফকিরকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়৷

আসাদুজ্জামান নূর ওরফে আসাদ নূরকে সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ৷ তিনি নেপালের কাঠমাণ্ডু যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চ্যানেল পার হচ্ছিলেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই রেড নোটিশ থাকায়, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ মঙ্গলবার তাঁকে বিমানবন্দর থানা-পুলিশের মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়৷ অসাদ নূরসহ দু'জনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা বরগুনার আমতলিতে চলতি বছরের প্রথম দিকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কটূক্তি করার অভিযোগে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা হয়৷

অডিও শুনুন 00:54
এখন লাইভ
00:54 মিনিট

‘আসাদ নূর ও লিমন ফকিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছি, ঢাকার আইসিটি ট্রাইব্যুনালে বিচারও শুরু হয়েছে'

আমতলি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদ উল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ব্লগার আসাদ নূর ও তাঁর এক সহযোগী লিমন ফকিরের বিরুদ্ধে মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা হয় গত ১১ জানুয়ারি৷ মামলার পরপরই লিমন ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ কিন্তু আসাদ নূর পলাতক ছিলেন৷ কিছু দিন ভারতে পালিয়ে আবারো দেশে ফিরে নেপালে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি৷''

শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘‘এই মামলায় আমরা আসাদ নূর ও লিমন ফকিরের বিরুদ্ধে আগেই চার্জশিট দিয়েছি৷ ঢাকার আইসিটি ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচারও শুরু হয়েছে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আমরা  সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেতাঁদের লেখা ও বক্তব্যসহ তথ্য প্রমাণ দিয়েই চার্জশিট দাখিল করেছি৷'

আসাদ নূরের মামা বরগুনার আমতলির বাসিন্দা ফারুক মৃধা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আসাদ নূরের বাবার বাড়ি গোপালগঞ্জে৷ তার বাবা-মা সিলেটে থাকেন৷ বাবা একজন স্কুল শিক্ষক৷ আমতলির উত্তর টিয়াখালীতে মামার বাড়িতে তাদের বাড়ি আছে৷ মায়ের সম্পত্তিতেই তারা বাড়ি করেছে৷ আমার সঙ্গে আসাদ নূরের তেমন যোগাযোগ নাই৷ সে অনেকদিন ধরে এলাকাছাড়া৷ কতদূর লেখাপড়া করেছে তা আমি ঠিক বলতে পারব না৷ আমি তার বিচার চাই, যে রসুলের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেছে৷''

অডিও শুনুন 03:55
এখন লাইভ
03:55 মিনিট

‘আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করার আগেই আসাদ নূর এলকা থেকে গণরোষের মুখে পালিয়ে যায়’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আমি নিজের চোখে দেখিনি যে সে কী ধরনের অবমাননা করেছে৷ আমি শুনেছি৷ তার বিরুদ্ধে আমতলিতে মিছিল হয়েছে৷ কয়েক বছর আগে সে আমতলি ছেড়েছে৷ শুনেছি ঢাকায় মোবাইল ফোনের ব্যবসা করে৷''

মামলার বাদী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমতলি উপজেলার সভাপতি মূফতি ওমর ফারুক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা জানুয়ারি মাসে তার বিরুদ্ধে মামলা করার আগেই আসাদ নূর এলকা থেকে গণরোষের মুখে পালিয়ে যায়৷ তবে তার সহযোগী লিমন ফকিরকে পুলিশ তখনই আটক করে৷ লিমন ফকির এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে৷ তবে আসাদ কতদূর পড়াশুনা করেছে, তা আমরা জানি না৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমরা মামলার সঙ্গে ফেসবুক পোস্ট এবং ইউটিউব থেকে তার ভিডিও ‘ডাউনলোড' করে জমা দিয়েছি৷ আসাদ ও তার সহযোগী আমাদের প্রিয় রসুল এবং ধর্মকে অবমাননা করেছে৷ বর্তমান সরকার ও পুলিশ নাস্তিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই৷ বাংলাদেশে আর যাতে কোনো নাস্তিকের আবির্ভাব না হয়, এ জন্য আমরা আটক দু'জনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই৷''

অডিও শুনুন 03:20
এখন লাইভ
03:20 মিনিট

‘আমি তার বিচার চাই, যে রসুলের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেছে’

তিনি আরো দাবি করেন, ‘‘আসাদ ও লিমন আমতলিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করত৷ ব্যবসা করতে করতেই তারা নাস্তিকতায় জাড়িয়ে পড়ে৷ মুখেও আপত্তিকর কথা বলত৷''

আসাদ নূরের একটি ফেসবুক পেজ আছে নিজের নামেই৷ সেখানে তিনি নিজেকে ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ইউটিউবার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন৷ বলেছেন,  ‘‘ধর্মান্ধতা দূর করা আমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য৷'' তবে সেখানেও তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো বর্ণনা নেই৷

এদিকে আসাদনূর ডটকম নামের একটি সাইট থেকে আসাদ নূরের মুক্তি দাবি করা হয়েছে৷ সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘আসাদ নূরের মুক্তি চাই৷ ৫৭ ধারা নিপাত যাক৷ বাকস্বাধীনতা মুক্তি পাক৷''

বন্ধু, আপনি কি আসাদ নূরের পক্ষে না বিপক্ষে? লিখুন আপনার মন্তব্য, নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন