ব্রেক্সিট চুক্তি ‘মৃত′, এবার সৎকারের পালা | বিশ্ব | DW | 13.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্রিটেন

ব্রেক্সিট চুক্তি ‘মৃত', এবার সৎকারের পালা

ব্রিটিশ সংসদ আবার ব্রেক্সিট চুক্তির বিরোধিতা করলো৷ এবার চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ও ব্রেক্সিটের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার পালা৷ কিন্তু কোনো বিকল্পের প্রশ্নে ব্রিটেনে ঐকমত্য দেখা যাচ্ছে না৷

ব্রিটেনের সংসদে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ব্রেক্সিট চুক্তির পরাজয় ঘটলো৷ মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ‘পরিবর্তিত' চুক্তি পেশ করেও শেষরক্ষা করতে পারলেন না৷ এবার প্রতিশ্রুতিমতো তিনি বুধবার চুক্তিহীন ব্রেক্সিট সম্পর্কে সংসদের রায় নেবেন৷ তারপর বৃহস্পতিবার ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানোর প্রশ্নে সংসদে আবার ভোটাভুটি হওয়ার কথা৷

সোমবার রাতে ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গ শহরে প্রধানমন্ত্রী ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকার আইরিশ সীমান্তে বিতর্কিত ব্যাকস্টপ ব্যবস্থা সম্পর্কে নতুন বোঝাপড়ার ঘোষণা করেছিলেন৷ মূল চুক্তির পাশাপাশি বাড়তি এক নথিতে ইইউ আইনি আশ্বাস দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্রিটেনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুল্ক জোটে না রাখার অঙ্গীকার করেছিল৷ মঙ্গলবার দুপুরে ব্রিটেনের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ্রি কক্স সেই নথির মূল্যায়ন করে বলেন, বাস্তবে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে৷ অর্থাৎ ব্রিটেন ইইউ শুল্ক ব্যবস্থার কাঠামোয় আটকা পড়তে পারে৷ এমন ব্যাখ্যার পর সংসদে ভোটাভুটির ফল সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাষ পাওয়া গিয়েছিল৷

এমন প্রেক্ষাপটে ব্রেক্সিটের নির্ধারিত সময়সীমার মাত্র দু'সপ্তাহ আগে ব্রিটেন আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো৷ প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইইউ নেতাদের সঙ্গে ব্রেক্সিটের মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনা মোটেই সহজ হবে না৷ কারণ ইইউ এমন আবেদনের কারণ জানতে চাইবে৷ মে প্রশ্ন তোলেন, সংসদ কি ব্রেক্সিট সম্পূর্ণ বাতিল করতে চায়? অথবা দ্বিতীয় গণভোটের আয়োজন করতে চায়? নাকি অন্য কোনো চুক্তির ভিত্তিতে ইইউ ত্যাগ করতে চায়? উল্লেখ্য, ব্রিটিশ এমপি-রা এতকাল ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ায় শুধু বিরোধিতার প্রশ্নে ঐক্য দেখিয়ে এসেছেন, কোনো একটি বিকল্পের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সমর্থন নেই৷

ব্রাসেলসে ইইউ পরিষদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্ক-এর এক মুখপাত্র বলেন, ব্রেক্সিটের মেয়াদ বাড়াতে ব্রিটেন যদি সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে আবেদন করে, সে ক্ষেত্রে ২৭টি ইইউ সদস্য দেশ একযোগে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে৷ ইইউ-র প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে বলেন, ব্রিটেনে বিচ্ছেদ চুক্তির অনুমোদনের জন্য ইইউ যা সম্ভব সে সব করেছে৷ কিন্তু এই অচলাবস্থা একমাত্র ব্রিটেনেই দূর করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন৷ তাঁর মতে, মঙ্গলবারের পর চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের আশঙ্কা আরও বেড়ে গেল৷

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস মনে করেন, ব্রিটেন চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পথেই এগোচ্ছে৷ তাঁর মতে, এবার দুই পক্ষকে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে৷ আগামী ১৭ দিনে অনিয়ন্ত্রিত ব্রেক্সিট এড়ানোর যাবতীয় প্রচেষ্টা চালানো হবে বটে, কিন্তু ব্রিটেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর তা নির্ভর করবে৷ এমন পরিস্থিতিতে জল্পনাকল্পনা করা উচিত নয়, বলেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী৷

এই অবস্থায় ইইউ ব্রিটিশ সংসদে বুধ ও বৃহস্পতিবারের ভোটাভুটির দিকে নজর রাখবে৷ তবে নতুন করে বিচ্ছেদ চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনার পথে যেতে প্রস্তুত নয় ব্রাসেলস৷ সোমবারই জঁ ক্লোদ ইয়ুংকার সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, যে ব্রিটেন কোনো তৃতীয় সুযোগ পাবে না৷ আগামী ২১ ও ২২শে মার্চ ব্রাসেলসে ইইউ শীর্ষ বৈঠকে ব্রেক্সিট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পারে৷ ব্রিটেন ব্রেক্সিটের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে ইইউ সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷ একটি দেশও বিরোধিতা করলে ব্রিটেন ২৯শে মার্চ চুক্তি ছাড়াই ইইউ ত্যাগ করতে বাধ্য হবে৷

এসবি/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন