ব্রেক্সিট কার্যকরে আরও ছয় মাস | বিশ্ব | DW | 11.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্য

ব্রেক্সিট কার্যকরে আরও ছয় মাস

দ্বিতীয় দফায় ব্রেক্সিট কার্যকরের মেয়াদ বাড়ালো ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ জোট থেকে ব্রিটেন কীভাবে বেরিয়ে যাবে তা নির্ধারণে আরও ছয় মাস সময় পেয়েছে তারা৷

ব্রাসেলসে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার বৈঠকের পর ব্রেক্সিট কার্যকরে ব্রিটেনকে আরো ছয় মাস বাড়তি সময় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর নেতারা৷ ১২ এপ্রিলের পরিবর্তে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়েছেন তাঁরা৷ এই সময়ের ভেতরেই ব্রিটেনকে তার রাজনৈতিক অচলাবস্থা ভেঙে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে৷ বেরিয়ে যাওয়ার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক কেমন হবে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মেকে সংসদে চুক্তি পাস করাতে হবে৷ কোনো সিদ্ধান্ত না হলে আবারও চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ঝুঁকিতে পড়তে হবে৷ এমনকি ব্রেক্সিট বাতিলের সুযোগও থাকবে ব্রিটেনের সামনে৷

বুধবারের সম্মেলন

প্রথম দফার বর্ধিত সময়সীমা অনুযায়ী এই শুক্রবার ইউরোপ থেকে ব্রিটেনের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটার কথা ছিল৷ কিন্তু পার্লামেন্টে কোনো চুক্তি পাস করাতে ব্যর্থ হয়ে ইইউর কাছে ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেন টেরেসা মে৷ বুধবার ব্রাসেলসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই জরুরি সম্মেলনে বসেন জোটভুক্ত ২৭ দেশের নেতারা৷ ৫ ঘণ্টা ধরে চলে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক৷ সময় বৃদ্ধির বিষয়ে সবাই একমত হলেও তা কতটা দীর্ঘ হবে তা নিয়েই বিরোধ তৈরি হয়৷ টেরেসা মে ১২ এপ্রিল থেকে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ জুন করার আবেদন করেছিলেন৷ কিন্তু ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্ক, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল থেকে শুরু করে বেশিরভাগ নেতাই এটি এক বছরের জন্য বৃদ্ধির পক্ষে ছিলেন৷ তারা চেয়েছিলেন কোনো ঝুঁকি ছাড়াই ব্রিটেন ধীরে সুস্থে তার সিদ্ধান্ত নিক৷ কিন্তু টেরেসা মেকে তা রাজনৈতিকভাবে কিছুটা বিপাকে ফেলে দিত৷ এমনকি ব্রেক্সিট না হওয়ার পক্ষে জনমতও বেড়ে যেতে পারে এ সময়ের মধ্যে৷ তাই তিনি চান দ্রুত বিচ্ছেদ কার্যকর করতে৷ মের মতো স্বল্প সময়ের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ৷ তাঁর জোরাজুরিতেই শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেন অন্যরা৷ দুই প্রস্তাবের মাঝামাঝি সময় ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা নির্ধারণে সম্মত হন সবাই৷

ব্রিটেনের জন্য শর্ত

সময় বাড়ানোর মাশুল হিসেবে টেরেসা মেকে অবশ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু শর্তও মেনে নিতে হয়েছে৷ তিনি চেয়েছিলেন ইউরোপীয় সংসদের আসন্ন নির্বাচন এড়াতে৷ কিন্তু সেটি অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে৷ বুধবারের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবরের আগে যে-কোনো সময় ব্রেক্সিটকার্যকর করতে পারবে ব্রিটেন৷ সেক্ষেত্রে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচনে তাদের অংশ নিতে হবে৷

তবে মে যদি নির্বাচন এড়াতে চান তাহলে ১ জুনের ভেতর তাঁকে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে হবে৷ সেক্ষেত্রে এই সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তি পাস করাতে না পারলে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পথে হাঁটতে হবে ব্রিটেনকে৷

গত বছর মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ব্রেক্সিট নিয়ে যে চুক্তি করেছেন তাতে আর কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলেও সম্মেলন থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে৷

‘‘সময় নষ্ট করবেন না''

অতিরিক্ত যে সময় দেয়া হয়েছে ব্রিটেন তা যেন নষ্ট না করে সে বিষয়ে জোর দিয়েছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্ক৷ এর ভেতরে ব্রিটেনের জন্য সব ধরণের পথই খোলা আছে বলে জানান তিনি৷ বলেন, চাইলে তারা আটকে থাকা চুক্তি অনুমোদন করতে পারে, বিচ্ছেদের কৌশল বদলাতে পারে, এমনকি ব্রেক্সিট বাতিলও করে দিতে পারে৷ টুস্ক এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধিতে আগ্রহী থাকলেও যতটুকু সময় দেয়া হয়েছে সেটিও যথেষ্ট বলে মনে করেন৷ ‘‘অনুগ্রহ করে এই সময় নষ্ট করবেন না,'' ব্রিটেনের উদ্দেশে বলেন টুস্ক৷

জুনে ব্রিটেনের পরিস্থিতির অগ্রগতি নিয়ে ইইউর নিয়মিত সম্মেলনে পর্যালোচনা হওয়ার কথা রয়েছে৷ তবে টুস্ক বলেন, ‘‘জুনে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না এটি পরিষ্কার৷ মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যাপারেও কোনো রকমের আলোচনা হবে না৷ এমনকি আমি বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করতে চাই না, শুধু সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা অবহিত করা হতে পারে৷''

‘বিচ্ছেদ যত দ্রুত সম্ভব'

এদিকে ছয়মাসের জন্য মেয়াদ বাড়লেও ইইউ'র সাথে বিচ্ছেদ যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করতে চান মে৷ ব্রিটেনের পার্লামেন্টে এখনও কোনো চুক্তি পাস করতে না পারায় অনুশোচনাও প্রকাশ করেন তিনি৷ ‘‘আমি জানি সময় বৃদ্ধির আবেদন করায় অনেকেই হতাশ হয়েছেন,'' বলেন মে৷

ইইউর নির্বাচন এড়াতে আগামী মাসের প্রথম তিন সপ্তাহের মধ্যেই সংসদে ব্রেক্সিট চুক্তি পাস করাতে চান তিনি৷ সেক্ষেত্রে জুনের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যেতে চায় ব্রিটেন৷ বৃহস্পতিবার সম্মেলনের ফলাফল দেশটির সংসদকে অবহিত করার কথা মে'র৷

এফএস/জেডএইচ (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন