ব্রেক্সিট আলোচনায় অগ্রগতি | বিশ্ব | DW | 08.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্রেক্সিট

ব্রেক্সিট আলোচনায় অগ্রগতি

ইইউ, আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেনের মধ্যস্থতাকারীরা দৃশ্যত ব্রেক্সিট আলোচনায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করেছেন৷ এবার যুক্তরাজ্য ও ইইউ'র ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে কথাবার্তা শুরু হতে পারে বলে মনে করে ইউরোপীয় কমিশন৷

ইইউ কমিশনের প্রধান জঁ ক্লোদ ইয়ুঙ্কার শুক্রবার ব্রাসেলসে বলেন যে, ব্রিটেন এবং ইইউ ব্রেক্সিট ডিভোর্স চুক্তি সম্পর্কে ‘পর্যাপ্ত প্রগতি’ অর্জন করেছে, যার ফলে উভয় পক্ষ এবার আলাপ-আলোচনার পরবর্তী পর্যায়ে যেতে পারবে৷

ইইউ প্রশাসন জানায় যে, জটিল আলোচনার পর একটি আপোশে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, যার ফলে ব্রেক্সিট আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও একটি উত্তরণের পর্যায় সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে৷

ইউরোপীয় পরিষদের সভাপতি ডোনাল্ড টুস্ক সাংবাদিকদের বলেন, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা- এই তিনটি ক্ষেত্রে ব্রিটেনের সঙ্গে ইইউ'র ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে পরস্পরের মনোভাব যাচাইয়ের জন্য ‘প্রাথমিক আলোচনা’ এবার শুরু হতে পারবে৷ আপাতত একটা আপোশ সম্ভব হলেও, ‘সবচেয়ে সমস্যাকর চ্যালেঞ্জ’ এখনও সামনে রয়েছে বলে টুস্ক বিশেষভাবে উল্লেখ করেন৷

উত্তরণের সময় ব্রিটেনকে ইইউ'র যাবতীয় আইনকানুন মেনে চলতে হবে ও তার বাজেট অনুদান দিয়ে যেতে হবে৷ এছাড়া ব্রিটেন ইইউয়ের বিচার বিভাগের রায় মেনে চলতে বাধ্য থাকবে৷ তবে ব্রিটেন জোটের বাকি ২৭টি দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না৷

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্রেক্সিট সংক্রান্ত তিনটি মূল বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেছিল: আইরিশ সীমান্ত, একটি আর্থিক বন্দোবস্ত ও যুক্তরাজ্যে ইইউ নাগরিকদের অধিকারসমূহ৷

‘‘এটা একটা শক্ত আলাপ-আলোচনা, কিন্তু আমরা একটি প্রাথমিক সাফল্য অর্জন করেছি৷ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমরা যে ন্যায্য আপোশ করতে পেরেছি, সে বিষয়ে আমি সন্তুষ্ট,’’ বলেন ইয়ুঙ্কার৷

‘কঠোর’ আইরিশ সীমান্ত নয়

বৃহস্পতিবার লন্ডনে সারারাত ধরে ইইউ ও আইরিশ মধ্যস্থদের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে শুক্রবার সকালে বিমানযোগে ব্রাসেলস যাত্রা করেন৷ আইরিশ সীমান্ত নিয়ে অচলাবস্থা দূর হবার পর তিনি ইয়ুঙ্কারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন৷

উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে সীমান্ত ব্রেক্সিট আলাপ-আলোচনায় একটি মূল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷ মে'র উত্তর আইরিশ জোট সহযোগীরা আইরিশ সীমান্তের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সংক্রান্ত বয়ান নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন৷

মে বলেন যে, আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে ‘কোনো ‘কঠোর সীমান্ত’ থাকবে না এবং যুক্তরাজ্য ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে শান্তি চুক্তি বজায় রাখার নিশ্চয়তা দেবে৷ উত্তর আয়ারল্যান্ডের ব্রিটেনপন্থি ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টি বা ডিইউপি মে'র সরকারকে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাচ্ছে৷ ডিইউপি'র প্রধান আর্লিন ফস্টার স্কাই নিউজ-কে বলেছেন যে, ‘‘আইরিশ সাগরের ভিতর দিয়ে কোনো রেখা চলে না যাওয়ায়’’ তিনি খুশি৷ 

‘‘আমরা স্পষ্ট স্বীকৃতি পেয়েছি যে, গোটা যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিত্যাগ করছে, ইইউ'র সিঙ্গল মার্কেট ও কাস্টমস ইউনিয়ন পরিত্যাগ করছে,’’ বলেন ফস্টার৷

মে বলেন যে বহু ‘আদানপ্রদানের’ পর বাকি দু'টি মুখ্য ব্রেক্সিট বিষয়ে ঐকমত্যে আসা সম্ভব হয়েছে৷ ফলে ইইউ ও ব্রিটেনে মোট ৪০ লাখ ইইউ বা ব্রিটিশ নাগরিকের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে এবং ডিভোর্স বিলের ক্ষেত্রে দু'পক্ষ ‘‘ব্রিটিশ করদাতার পক্ষে ন্যায্য একটি বন্দোবস্তে’’ পৌঁছাতে পেরেছে৷

এই ‘ব্রেকথ্রু’ অর্জনের মেয়াদ শেষ হচ্ছিল আগামী রবিবার, কেননা, ইইউ নেতৃবর্গ ডিসেম্বরের ১৪-১৫ তারিখে একটি শীর্ষবৈঠকে মিলিত হয়ে ব্রেক্সিট আলোচনার পরবর্তী পর্যায় শুরু করার সবুজ সঙ্কেত দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল৷ এ কারণে একটি ম্যারাথন আলাপ-আলোচনায় শেষ প্রতিবন্ধকতাগুলি দূর করার সার্বিক প্রচেষ্টা করা হয়৷

এসি/এসিবি (রয়টার্স, এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়