ব্রেক্সিটে দেরি চান না জনসন | বিশ্ব | DW | 10.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্রিটেন

ব্রেক্সিটে দেরি চান না জনসন

ব্রিটিশ সংসদের প্রবল চাপ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী জনসন কোনোমতেই ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়াবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন৷ সংসদ তাঁর আগাম নির্বাচনের উদ্যোগ আবার বানচাল করে দিয়েছে৷

সোমবার গভীর রাতে প্রায় এক মাসের জন্য সংসদ মুলতুবি করেও শেষরক্ষা করতে পারলেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন৷ মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই সংসদ তাঁর পরিকল্পনার পথে এতগুলি বাধা সৃষ্টি করবে, এমনটা তিনি সম্ভবত ভাবতে পারেন নি৷ সোমবার রানির স্বাক্ষরের পর চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা প্রস্তাব আইনে পরিণত হয়েছে৷ ১৫ই অক্টোবর তাঁর আগাম নির্বাচনের প্রচেষ্টাও দ্বিতীয়বারের জন্য বানচাল করে দিয়েছে সংসদ

একই সঙ্গে আরেকটি প্রস্তাবের মাধ্যমে সংসদ সরকারের উদ্দেশ্যে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পরিকল্পনা সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছে৷ সেইসঙ্গে সংসদ মুলতুবি রাখার বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ বার্তাগুলির প্রতিলিপিও প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়েছে৷ 

তবে ভেঙে গেলেও মচকাতে প্রস্তুত নন বরিস জনসন৷ সংসদের অধিবেশনের শেষ লগ্নে তিনি বলেন, আইন পাশ হলেও তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ করবেন না৷ তাঁর সাফ কথা, ‘‘আমার হাত বেঁধে দিলেও আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ায় বিলম্ব চাইবো না৷'' সেইসঙ্গে তিনি আবার বলেন, সরকার ইইউ-র সঙ্গে বোঝাপড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ তবে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে সরকার ব্রেক্সিট কার্যকর করতে বিলম্ব করবে না৷ জনসন বলেন, তিনি আগামী ১৭ই অক্টোবর ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে গিয়ে চুক্তির জন্য চেষ্টা চালাবেন৷

বরিস জনসনের সরকার কি তাহলে আইন ভাঙতে চলেছে? পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব সংসদে বলেন, সরকার অবশ্যই আইনকানুন মেনে চলবে, তবে কিছু ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী আইন ও আইনি পরামর্শের কারণে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠতে পারে৷

ব্রিটিশ সংসদ ব্রেক্সিটের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য চাপ দিলেও ইইউ সেই আবেদন মঞ্জুর করবে কিনা, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে৷ বিশেষ করে সোমবার আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যে আইরিশ সীমান্তে ব্যাকস্টপের স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প না দিলে তাঁর পক্ষে কোনো সমঝোতায় সমর্থন দেওয়া সম্ভব নয়৷ শুধু সহজ প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তিনি মতবদল করবেন না৷ আয়ারল্যান্ড ও ইইউ বার বার জানিয়ে দিয়েছে, যে ব্রিটিশ সরকার ব্যাকস্টপের কোনো স্পষ্ট বিকল্প পেশ করে নি৷

বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি কর্বিন সোমবার বলেন, তাঁর দল আগাম নির্বাচনের জন্য ব্যাকুল হয়ে রয়েছে বটে, তবে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের আশঙ্কা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সেই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানাবেন না৷

সোমবার মধ্যরাতের পরেও সংসদের পরিবেশ ছিল উত্তেজনায় ভরা৷ স্পিকার জন বার্কো ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা করে সরকারের উদ্দেশ্যে সংসদের মর্যাদা খর্ব না করার আবেদন জানান৷ সরকার প্রায় এক মাসের জন্য সংসদের অধিবেশন মুলতুবি রাখার যে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বার্কো সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন৷

এসবি/কেএম (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন