ব্রিটেনে ‘সাংবিধানিক সংকট′, জটিলতার মুখে ব্রেক্সিট | বিশ্ব | DW | 19.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্রিটেন

ব্রিটেনে ‘সাংবিধানিক সংকট', জটিলতার মুখে ব্রেক্সিট

ব্রিটেনের সংসদের স্পিকার নতুন করে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করায় সরকার বেকায়দায় পড়লো৷ ইইউ নেতারা সম্ভবত চলতি সপ্তাহে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না৷

ব্রেক্সিটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহে পরিস্থিতি আরো জটিল ও অস্পষ্ট হয়ে উঠছে৷ আগামী ২৯শে মার্চ ব্রিটেন সত্যি ইইউ ত্যাগ করবে কিনা, সেই তারিখ পেছানো সম্ভব হবে কিনা অথবা গোটা প্রক্রিয়া আরো অনিশ্চিত হয়ে উঠবে কিনা, সেই সব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না৷

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে-র অবস্থান এতটাই দুর্বল হয়ে উঠছে যে, তাঁর পক্ষে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার রাশ আর ধরে রাখা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ মঙ্গলবারই তিনি তৃতীয়বারের জন্য সংসদে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন৷ সপ্তাহান্তে কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের সম্মতি আদায়ের চেষ্টায় অগ্রগতির খবর পাওয়া যাচ্ছে৷ দীর্ঘ বিলম্বের ফলে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া বানচাল হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় তাঁদের মধ্যে অনেকেই চুক্তির পক্ষে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত৷ তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে৷

এর মধ্যে সংসদের নিম্ন কক্ষের স্পিকার জন বার্কো জানিয়েছেন, একই অধিবেশনে একই প্রস্তাব দ্বিতীয়বার পেশ করা নিয়মবিরোধী৷ ইইউ থেকে বিচ্ছেদের চুক্তির মধ্যে মৌলিক রদলবল করলে তবেই সেই চুক্তি অনুমোদনের জন্য পেশ করা সম্ভব৷ উল্লেখ্য, গত ১০০ বছরে ব্রিটিশ সংসদের কোনো স্পিকারকে এই নিয়ম প্রয়োগ করতে হয়নি৷ এদিকে ইইউ চুক্তিতে কোনো রদবদল করতে প্রস্তুত নয়৷ ফলে শেষ মুহূর্তে কোনো রকম ছাড়েরও সম্ভাবনা নেই৷ সরকারের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, যে স্পিকার সম্ভবত দীর্ঘ বিলম্বের মাধ্যমে গোটা প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ সংসদের হাতে তুলে দিতে চান৷ তবে অনেক বিশেষজ্ঞ এই পরিস্থিতিকে সাংবিধানিক সংকট হিসেবে তুলে ধরছেন৷

ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এই জটিলতার প্রেক্ষাপটে ইইউ নেতারা সব রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন৷ ২১ ও ২২শে মার্চ ব্রাসেলসে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঠিক কী অনুরোধ করবেন, তার উপর তাঁদের পদক্ষেপ নির্ভর করবে৷ ব্রিটিশ সংসদে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন করা সম্ভব না হলে তাঁর পক্ষে কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া কঠিন হবে৷ ফলে এই সম্মেলনে ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউ নেতারা আদৌ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না, এমন সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে৷ সে ক্ষেত্রে টেরেসা মে আরো কয়েকটি দিন হাতে পেতে পারেন৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইইউ কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এমন অবস্থায় আগামী সপ্তাহে ইইউ নেতারা লিখিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্রেক্সিটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন৷

ব্রেক্সিট বিলম্ব করতে চাইলে ব্রিটেনের সামনে সম্ভবত দুটি বিকল্প খোলা থাকবে৷ জুন মাসের শেষ পর্যন্ত ব্রেক্সিটের তারিখ পেছানো সম্ভব৷ তা না হলে সে দেশকে ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে হবে৷ ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন ও তা কার্যকর করতে ব্রিটেনকে এই সময় দিতে প্রস্তুত ইইউ৷ দ্রুত কোনো সমাধানসূত্র দেখা না দিলে ইইউ ২০২০ সাল পর্যন্ত বিলম্ব চায়৷ তবে ইইউ বিলম্বের অনুরোধ মেনে নেবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ শুধু ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো জটিলতা এড়াতে ব্রিটেনের কাছ থেকে আইনি আশ্বাস আদায় করতে পারে ইইউ৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন