ব্রিটিশ তরুণের সাগর পথে বিশ্ব পরিভ্রমন | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 28.08.2009
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

ব্রিটিশ তরুণের সাগর পথে বিশ্ব পরিভ্রমন

সতের বছর বয়সে একা সাগর পথে বিশ্ব পরিভ্রমণ করে রেকর্ড গড়ল এক ব্রিটিশ তরুণ৷ তার নাম মাইক পারহাম৷ বৃহস্পতিবার গ্রীনিচ মান সময় নয়টায় সে কর্নওয়ালের লিজার্ড পয়েন্টে তার এই ভ্রমণের ইতি টেনেছে৷

default

টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে পারহাম জানায়, তার জীবনের এক স্বপ্ন সফল হল৷

নৌবাহিনার অফিসারের ছেলে মাইক পারহামের ছোট বেলা থেকেই ছিল সাগরের প্রতি গভীর আকর্ষণ ৷ সাগরকে জয় করার স্বপ্ন তার বহু বছরের৷ মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই সে সাগরে পাল তোলা নৌকা চালিয়েছে৷ আর তাই এই বিশ্ব রেকর্ডকে তার জীবনে প্রথম হিসাবে ধরে নিলে চলবেনা৷ এর আগে মাত্র ১৫ বছর বয়সে সে একাই পাড়ি দিয়েছিল অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে৷ সেটাও ছিল এক বিশ্ব রেকর্ড৷

Mike Perham mit 17 Jahren der jüngste Allein Einhand Weltumsegler

মাইক তার ৯মাস ১৩ দিনের এই সমুদ্রযাত্রায় রাতে মাত্র ২০ মিনিট ঘুমোতেন

২০০৮-এর ১৫ই নভেম্বর তারিখ দক্ষিণ ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথ থেকে যাত্রা শুরু করে এই সাহসী তরুণ৷ গেল ৯ মাসে সে সাগরের বুক চিরে ৪০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে৷ যাত্রাপথে সে পর্তুগাল, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ আফ্রিকা, অষ্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড পার হয়ে শেষ লক্ষ্য স্থলে এসে পৌছায়৷ যে-বোটে মাইক সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে তার নাম ‘টোটালিমানিডটকম'৷ ৫০ ফুট দীর্ঘ এই বোট৷

এই বিশাল যাত্রাপথ তার জন্য খুব একটি সুখের ছিল না৷ কোথাও তাকে বিরূপ প্রকৃতির হাতে পড়তে হয়৷ মুখোমুখি হতে হয় হারিকেন বা ভয়ঙ্কর ঝড়ের কবলে৷ যুদ্ধ করতে হয়েছে ১৫ ফুট উঁচু ধেয়ে আসা সাগরের ঢেউএর সঙ্গে৷ আবার কোথাও সাগরের শান্ত আবহাওয়া তাকে দ্রুত নিয়ে গিয়েছে লক্ষ্যের দিকে৷ কয়েকবার তাকে তার ছোট্ট বোটটি মেরামতও করতে হয়েছে৷

তারপরও পারহাম তার লক্ষ্য থেকে একমূহূর্তের জন্যও পিছপা হয়নি৷ টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সে বলছে , মাঝে মাঝে আমার মনে হয়েছে এটি আমি কি করছি৷ কিন্তু আমার মনের মধ্যে কোন সন্দেহ ছিল না যে আমি পারবো না৷

Mike Perham mit 17 Jahren der jüngste Allein Einhand Weltumsegler

তার নাম মাইক পারহাম

মাইক তার ৯মাস ১৩ দিনের এই সমুদ্রযাত্রায় রাতে মাত্র ২০ মিনিট ঘুমোতেন৷ আর এই সময় তার বোট চলতো স্বয়ংক্রিয় অটো পাইলটের মাধ্যমে, যা রাডার দিয়ে নিয়ন্ত্রিত৷ প্রতিদিন বরাদ্দ ছিল ৫০০০ ক্যালোরির খাবার৷ নুডলস, ভাত বা টিন জাতীয় খাবার সবই ছিল সঙ্গে ৷

বোটে মাইক তার অবসর সময়কাটিয়েছেন আইপডে গান শুনে অথবা ডিভিডি দেখে৷ আর স্যাটেলাইট ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তো ছিলোই৷

লন্ডনে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এর চিফ এডিটর ক্রেইগ গ্লেনডাই পারহামের এই সাহসী সফর সম্পর্কে বলছেন, মাইক তার এই সফরের মধ্য দিয়ে নিখুঁত ভাবে প্রমাণ করে দিল যে সে সত্যিই পারে যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে৷ মাইক আরো জানায়, জোর মানসিক ও শারীরিক শক্তি থাকলেই কারো পক্ষে এটি করা সম্ভব৷

মাইক তার এই সফলতার জন্য তার পরিবার এবং যারা তাকে সহায়তা করেছে বা সাহস জুগিয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে৷

মাইক যার রেকর্ড ভাঙল, ক্যালিফর্নিয়ার থাউজেন্ড ওকস-এর সেই তরুণ, জাক সান্ডারল্যান্ড, মাইকের চেয়ে মাত্র কয়েকমাস বড়৷ ১৩ মাসে একই ধরণের সমুদ্রযাত্রা করে সে বিশ্বরেকর্ড করে৷ মাইকের নতুন রেকর্ড ভাঙ্গার জন্য অপেক্ষায় আছে ডাচ তরুণী লাউরা ডেকার৷ তার বয়স ১৩ বছর৷ যাত্রার অনুমতি পাবার পর সে যদি সাগর পাড়ি দিতে রওনা হয় এবং সে-যাত্রা সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতে পারে তাহলেই মাইকের রেকর্ড ভেঙে দেবে লাউরা৷

প্রতিবেদক: ঝুমুর বারী

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন