ব্রিকসের সহযোগিতা চাইলেন পুটিন | বিশ্ব | DW | 24.06.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্রিকস

ব্রিকসের সহযোগিতা চাইলেন পুটিন

চীনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ব্রিকস সামিট। সেখানে রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন পুটিন। নতুন বাণিজ্যের রাস্তা তৈরি করতে চেয়েছেন।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং সাউথ আফ্রিকাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্রিকস। বৃহস্পতিবার চীনে এই দেশগুলির সম্মেলন বার্ষিক শুরু হয়েছে। সেখানে ভিডিওর মাধ্যমে বক্তৃতা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন। পশ্চিমা দেশগুলিকে এক হাত নিয়ে পুটিন ব্রিকস দেশগুলির কাছে রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পুটিনবলেছেন, রাশিয়ার উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে গোটা বিশ্বে সংকট তৈরি করেছে পশ্চিমা দেশগুলি। ব্রিকসের দেশগুলি এক বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে।

ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা চালানোর পর ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপ এবং অ্যামেরিকা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ছয় দফায় নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ জারি করেছে। সপ্তম প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বেই কমবেশি অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। আফ্রিকায় শুরু হয়েছে খাদ্য সংকট। কারণ, কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।

রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেন কৃষ্ণসাগরে মাইন পেতে রেখেছে বলে তারা সেখানে অবরোধ তৈরি করেছে। কোনো জাহাজকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, ইউক্রেনের দাবি রাশিয়া অবরোধ তৈরি করে রেখেছে বলেই খাদ্যশস্য বোঝাই জাহাজ আফ্রিকার দিকে যেতে পারছে না।

এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে পুটিন বলেছেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে পশ্চিমা দেশগুলি রাশিয়াকে কোণঠাসা করতে চাইছে। কিন্তু এর ফলে গোটা বিশ্বে সংকট তৈরি হচ্ছে। এর দায় পশ্চিমকে নিতে হবে। গোটা পরিস্থিতির জন্য পশ্চিমা দেশগুলিকে দায়ী করে পুটিন বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলির স্বার্থসিদ্ধির কারণেই আজ এই পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়েছে। এই অবস্থায় পুটিন বলেছেন, এক বিকল্প পথ গড়ে তুলতে হবে। এবং সেখানেই ব্রিকস দেশগুলির সাহায্য প্রয়োজন। তারা রাশিয়ার পাশে থাকলে অর্থনীতির এক বিকল্প পথ গড়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্রিকস দেশগুলি সরাসরি রাশিয়ার সমালোচনা করেনি। ইউরোপ রাশিয়ার তেল নেওয়া ্নেকটাই বন্ধ করে দিলেও রাশিয়া একাধিক ব্রিকস দেশকে তেল বিক্রি করছে। বিশ্ব বাজারে এখনো পর্যন্ত রুবলের দাম পড়েনি।

চীনের প্রতিক্রিয়া

চীন প্রথম থেকেই রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়াকে কার্যত সমর্থন জানিয়েছে চীন। চীনের রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং বলেছেন, যে কায়দায় পশ্চিম নিষেধাজ্ঞা জারি করছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। নিজেদের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার অস্ত্রটিকে তারা ব্যবহার করছে বলে শিয়ের অভিযোগ। এর ফলে ঠান্ডাযুদ্ধের আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা কঠিন কাজ বলে মনে করেন চীনের প্রধান।

ব্রিকস বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে চীন। বছরে ২৭ দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করে ব্রিকস রাষ্ট্রগুলি। এর ৭০ শতাংশই করে চীন।

রাশিয়া এবং চীনের এই আহ্বানের পর ব্রিকসের বাকি দেশগুলি কী পদক্ষেপ নেয়, সে দিকেই তাকিয়ে বিশেষজ্ঞরা। ভারতের অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। ভারত এখনো পর্যন্ত কূটনৈতিকভাবে রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে একটি ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু ব্রিকসে যেভাবে রাশিয়া এবং চীন সরাসরি বিকল্প পথের ডাক দিয়েছে, তাতে ভারতকে এবার স্পষ্ট অবস্থান নিতে হতে পারে বলে মনে করছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, পিটিআই, এএফপি)

সংশ্লিষ্ট বিষয়