ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ দুর্নীতি | আলাপ | DW | 16.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ দুর্নীতি

পৃথিবীতে পদ্মাসেতুর চেয়ে দীর্ঘ সেতু আছে৷এর চেয়ে দৃষ্টিনন্দন সেতু আছে৷ আছে প্রযুক্তি ও গুণগত মানসম্পন্ন সেতু৷ সেসব সেতু আমাদের নয়, পদ্মাসেতু আমাদের৷ফলে পদ্মাসেতু আমাদের গর্ব, পদ্মাসেতু আমাদের গৌরব৷

পৃথিবীতে পদ্মাসেতুর চেয়ে দীর্ঘ সেতু আছে৷ এর চেয়ে দৃষ্টিনন্দন সেতু আছে৷আছে প্রযুক্তি ও গুণগত মানসম্পন্ন সেতু৷সেসব সেতু আমাদের নয়, পদ্মাসেতু আমাদের৷ফলে পদ্মাসেতু আমাদের গর্ব, পদ্মাসেতু আমাদের গৌরব৷

এই পদ্মাসেতু নির্মাণকে কেন্দ্র করে পৃথিবীতে আলোচিত হয়েছে বাংলাদেশ৷সেই আলোচনা হয়েছে নেতিবাচক অর্থে, ইতিবাচক অর্থে নয়৷ দুর্নীতির অভিযোগ ও  বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল৷ক্যানাডার আদালতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার মধ্য দিয়ে যার সমাপ্তি হয়৷কিন্তু পদ্মাসেতু আলোচনা থেকে চলে যায় না৷ পদ্মাসেতু আলোচনায় থাকে বাজেট ও প্রযুক্তিগত জটিলতাকে কেন্দ্র করে৷

বিশ্বব্যাংক ঋণ সহায়তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর নিজস্ব অর্থে পদ্মাসেতু নির্মাণের ঘোষণা দেয় সরকার৷সেই অনুযায়ী কাজ চলছে পদ্মাসেতুর৷ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থে সেতুর মূল কাজ করছে চীনের প্রতিষ্ঠান৷ শুরুতে পদ্মাসেতু ছিল ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প৷তারপর কাজের সময় বাড়তে থাকে,পাল্লা দিয়েবাড়তে থাকে বাজেট৷ রেল লাইন পরে সংযোজনের কারণে বাজেট বেড়েছে৷ তারচেয়ে বেশি বেড়েছে সময় ক্ষেপন এবং অযৌক্তিক কারণে৷১০ হাজার কোটি টাকার পদ্মাসেতুর বাজেট এখন প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা৷তার মানে শুরুতে যে বাজেট ছিল সেই বাজেটে সেতু নির্মিত না হওয়ায়,প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে৷অর্থাৎ, কমপক্ষে তিনটি পদ্মাসেতুর টাকায় নির্মিত হচ্ছে একটি পদ্মাসেতু৷ এ সবই জনগণের করের টাকা৷ পৃথিবীতে নির্মাণ সামগ্রীর ব্যয় খুব বেশি বাড়েনি, কিন্তু পদ্মাসেতুর খরচ বেড়েছে প্রায় তিনগুণ৷

এত বিপুল পরিমাণ ব্যয় বাড়লেও পদ্মাসেতুর বড় রকমের কিছু ত্রুটির বিষয় সামনে এসেছে৷ একটি জায়গায় রেল লাইনের সঙ্গে সেতুর সড়ক লাইন সাংঘর্ষিক হয়ে গেছে৷একটি বড় লড়ি সেতু থেকে নামতে পারবে না৷উপরের অংশে আটকে যাবে৷এত বড় এবং বিপুল বাজেটের একটি সেতুর ক্ষেত্রে এমন ভুল নজিরবিহীন, যা পদ্মাসেতুর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয়েছে৷এই নকশা সংশোধনে সময় এবং ব্যয় দুটোই বাড়বে৷ তিনগুণ বেশি ব্যয়ের পদ্মাসেতুর আরো একটি বড় দুর্বলতা এক লাইনের রেলপথ৷ যখন বাংলাদেশের রেলপথের অন্যতম দুর্বলতা হিসেবে আলোচিত হচ্ছে এক লাইনের রেলপথ৷ তখন পদ্মাসেতুর মতো আধুনিক সেতুতে নির্মান হচ্ছে এক লাইনের রেল, যা ১০০ বছরেরও বেশি আগে হার্ডিঞ্জ ব্রিজে নির্মিত হয়েছিল৷ আমাদের রেলপথের অন্যতম যে দুর্বলতা তা পদ্মাসেতুর রেলপথেও থেকেই গেল৷ বঙ্গবন্ধু সেতুর রেল লাইনে দুর্বলতার কারণে এখন নতুন আরেকটি রেলসেতু নির্মাণের আলোচনা চলছে৷আগামী ২০-৩০ বছরের মধ্যেই হয়ত আলাদা করে রেলের জন্যে সেতুর আলোচনাও সামনে আসবে৷ সেকারণে পদ্মাসেতুতে দুই লাইনের রেলপথ অপরিহার্য ছিল৷ এত বাজেট বাড়লেও তা করা হয়নি৷

পদ্মাসেতুর বাজেট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা নদীর ভয়াবহতার আরেকটি যুক্তি সামনে আনা হয়৷ পদ্মার স্রোত ও তলদেশের মাটির প্রকৃতি ‘ইউনিক', যা অন্য কোথাও পাওয়া যায়নি৷ বিষয়টি সত্যি ইউনিক, না তাড়াহুড়োর ফসল, না চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা,না শুধুই বাজেট বৃদ্ধির কৌশল,যার কোনো সুরাহা হয়নি৷বাজেট বেড়েছে,বেড়েছে সময়৷২০২২ সালেও পদ্মাসেতুর কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ আশঙ্কা সত্যি হলে বাজেট আরো বাড়বে৷

শুধু পদ্মাসেতু নয়, বাংলাদেশের প্রায় সব সেতু-সড়ক-ফ্রাইওভারের নকশায় ত্রুটি ও বাজেট বৃদ্ধি যেন জাতীয় রোগে পরিণত হয়েছে৷ ৩৫০ কোটি টাকার তেজগাঁও-মৌচাক ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে৷ সোনারগাঁ অংশের নকশা ত্রুটিতে নির্মাণের পর ভাঙতে হয়েছে৷ এতেই ক্ষতি হয়েছে বা ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা৷ ঢাকা চট্টগ্রাম চারলেনের চার বছরের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ১২ বছরে৷ ব্যয় বেড়েছিল প্রায় চার গুণ৷ টঙ্গি-সায়েদাবাদ এক্সপ্রেসওয়ের সময়কাল ছিল তিন বছর, বাজেট ছিল ছয় হাজার কোটি টাকা৷সময় চলে গেছে ৯ বছরের বেশি৷তিন বছর আগে জানা গিয়েছিল বাজেট বেড়ে হয়েছিল ২৪ হাজার কোটি টাকা৷কাজ হয়েছিল ৩০ শতাংশের মতো৷গত তিন বছরে কাজের প্রায় কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়৷জানা যায়, আবার বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে৷

 সড়ক ও রেলপথের বাংলাদেশের খরচ উত্তর আমেরিকা,ইউরোপ,চীন-ভারতের চেয়ে যে বহুগুণ বেশি তা বহুল আলোচিত বিষয়৷এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ইউরোপে ব্যয় হয় ৩০ কোটি টাকার মতো, চীন-ভারতে ১০-১৩ কোটি টাকা৷সেখানে বাংলাদেশে ব্যয় হয় ৭০-১২০ কোটি টাকা৷ রেলপথ নির্মাণের ক্ষেত্রেও হিসেবটা এমন বা এরচেয়েও বেশি৷ মেট্রোরেল নির্মাণেও বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করছে৷

এবং এই বিষয়গুলো এখন আর গোপনীয় কিছু নয়৷ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় জমি অধিগ্রহণের ফলে খরচ বাড়ে, যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য কোনো বক্তব্য নয়৷

পৃথিবীতে মোটামুটিভাবে স্বীকৃত পরিসংখ্যান যে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যয়ে সবচেয়ে নিম্নমানের সড়ক-সেতু-ফ্লাইওভার-রেলপথ নির্মিত হয়৷এ-ও স্বীকৃত যে,এর প্রধানতম কারণ দুর্নীতি৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন