ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, ভারতে কাজ বন্ধ অ্যামনেস্টির | বিশ্ব | DW | 29.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, ভারতে কাজ বন্ধ অ্যামনেস্টির

সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে মোদী সরকার, তাই ভারতে আপাতত তাদের কাজ বন্ধ রাখল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

ভারতে আপাতত রিপোর্ট তৈরি, অনুসন্ধান, প্রচারের কাজ বন্ধ করে দিল মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যশনাল। মোদী সরকার এই সংগঠনের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে। অ্যামনেস্টি সেটা জানতে পারে গত ১০ সেপ্টেম্বর। মঙ্গলবার তারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, তারা ভারতে তাদের কাজ স্থগিত রাখছে। যেহেতু সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়া হয়েছে, তাই কাজ চালানো এবং কর্মীদের বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। সব কাজ তাই বন্ধ রাখা হয়েছে।  

কেন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

গত দুই বছর ধরে এই বিরোধ চলছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি বেঙ্গালুরুতে অ্যামনেস্টির দফতরে হানা দেয়। দশ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চলে। অনেক তথ্য চাওয়া হয়। তারপর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল। কিন্তু অ্যামনেস্টি আদালতে গিয়ে কিছুটা রেহাই পায়।

কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, অ্যামনেস্টি এফডিআই রুটে বিদেশি অর্থ পেয়েছে। কোনো অলাভজনক সংগঠন এ ভাবে বিদেশি অর্থ পেতে পারে না। তাদের বিদেশি অর্থ পেতে গেলে অনুমতি নিতে হয়। সেই অনুমতি তারা নেয়নি। অভিযোগ হলো, যুক্তরাজ্যের অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ভারতের অ্যামনেস্টিকে ১০ কোটি টাকা দিয়েছিল। তারপরও তারা যুক্তরাজ্য থেকে ২৬ কোটি টাকা পেয়েছে। যে ভাবে পেয়েছে তা বিদেশি মুদ্রা আইন লঙ্ঘন করেছে। 

অ্যামনেস্টির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সব আইন মেনে চলে। ভারতে কাজ চালাবার জন্য তারা অনুদান নেয়। গত আট বছরে ৪০ লাখ ভারতীয় তাদের কাজ সমর্থন করেছেন। এক লাখ মানুষ তাদের অনুদান দিয়েছেন। সেই টাকা দিয়েই তারা কাজ চালাচ্ছিল। অ্যামনেস্টির প্রশ্ন, ভারতীয়দের জনগণের টাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তো বিদেশি মুদ্রা আইন ভাঙার কোনো প্রশ্ন নেই।

ভিডিও দেখুন 01:04

অ্যামনেস্টির খেতাব পেল ১৭ বছরের টুনব্যার্গ

অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য হলো, অ্যামনেস্টি আইন ভেঙেছে, তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আর কোনো কারণ খুঁজতে যাওয়া অর্থহীন। ভারতে কাজ করতে গেলে দেশের আইন মেনেই তা করতে হবে। আইন ভাঙলে সরকারকে ব্যবস্থা নিতেই হবে।

কিন্তু অ্যামনেস্টির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অবিনাশ কুমারের অভিযোগ, তাঁরা সরকারি কাজে স্বচ্ছতা আনার কথা বারবার বলেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি দাঙ্গায় দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জম্মু ও কাশ্মীরে মানবাধিকার ভঙ্গ করা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অবিনাশের দাবি, তাঁরা শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। আর কিছু নয়। ভারতে যাঁরা তাঁদের অনুদান দিয়েছেন, তাঁদেরও আয়কর বিভাগ নোটিস দিয়েছে বলে সংগঠনের অভিযোগ।

অ্যামনেস্টির দাবি, ভারতেও তারা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করেছে। তারা মানবাধিকার রক্ষার জন্য কাজ করেছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। এই বিষয়গুলি তো ভারতের সংবিধানেও বলা আছে। আর ভারতে দীর্ঘদিন ধরে বহুত্ববাদ, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ধারা রয়েছে।

এরপর কী হবে

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই বিরোধের ফয়সালা আদালতেই হতে পারে। সেখানে দুই পক্ষের কথা শুনে, সব তথ্য প্রমাণ দেখে আদালত ফয়সালা করবে। 

জিএইচ/এসজি(অ্যামনেস্টির বিবৃতি, এনডিটিভি)

বিজ্ঞাপন