ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি সঙ্গীন | বিষয় | DW | 10.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ

ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি সঙ্গীন

লক ডাউন উঠলেও বাজার চাঙ্গা হয়নি। বড় দোকান থেকে রাস্তার হকারদের স্টল, সর্বত্র বিক্রিবাটা নামমাত্র। যার বিষম প্রভাব পড়বে ভারতের অর্থনীতিতে।

কলকাতা শহরের ‘‌কন্টেইনমেন্ট জোন'‌গুলোতে এবং পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলার নির্দিষ্ট কিছু অংশে ফের এক সপ্তাহের পূর্ণ লকডাউন চালু হয়েছে ৯ জুলাই থেকে। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় চার মাস দোকানপাট বন্ধ রাখার পর আবার খুলেছেন যে ব্যবসায়ীরা, তাঁরা আর লকডাউনের কড়াকড়ির মধ্যে যেতে চাইছেন না। বিশেষত কলকাতায় যেখানে কোনটা কন্টেইনমেন্ট জোন আর কোনটা নয়, সেই নিয়ে বিভ্রান্তি আছে, তার সুযোগ নিয়ে অধিকাংশ দোকান খোলা থাকছে। এমনকি ফুটপাথের হকাররাও আর দোকান বন্ধ রাখতে নারাজ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, খদ্দের নেই। পশরা সাজিয়ে বসে থাকাই সার হচ্ছে। সারাদিনে এক-দুজন খদ্দেরও আসছেন না।

কিন্তু বার বার লক ডাউনের কারণে সরবরাহে টান পড়ছে মাঝে মাঝেই। তার প্রভাব পড়ছে শহরের প্রতিটি পাড়ায় আলাদা দাঁড়িয়ে থাকা যেসব মুদিখানা, আর স্টেশনারি দোকান খুলে রাখার ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেই দোকানগুলোর ব্যবসায়। ধরা যাক স্থানীয় বেকারি খুলে যাওয়ায় রুটির জোগান আছে, কিন্তু দুধ–দইয়ের জোগানে আকাল। দক্ষিণ কলকাতার এক পাড়ার স্টেশনারি দোকানের মালিক বাপি দে জানালেন, সংক্রমণ ঠেকাতে যা করণীয়, সবই করতে হচ্ছে। ‘‌‘‌মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। তিন ফুট দূরত্ব মেইনটেইন করতে হবে। সেগুলো করেই দোকান চালাচ্ছি। কিন্তু খদ্দের অনেক কমে গেছে।'‌'‌আর লক ডাউনের কারণে সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় কতটা অসুবিধে হচ্ছে?‌ বাপি বললেন, ‘‌‘‌এটাতে তো পুরোই প্রবলেম। প্রোডাকশন নেই বলে কোম্পানি ঠিকমতো পাঠাচ্ছে না‌। লেবার নেই, ডেলিভারি ম্যান নেই। ওই জন্যে সার্ভিসের প্রবলেম হচ্ছে। মাল সাপ্লাইটাই ঠিক মতো পাওয়া যাচ্ছে না।'‌'‌

কিন্তু খুচরো ব্যবসায় এই সরবরাহের সমস্যা আসলে আসন্ন অর্থনৈতিক সংকটের হিমশৈলের চূড়াটুকু মাত্র। কারণ, গোটা ভারতের অর্থনীতি এখন বিপুলভাবে নির্ভর করে ওই রিটেল, বা খুচরো ব্যবসার ওপর। এই ব্যবসা মার খেলে তার প্রবল প্রভাব পড়বে দেশের গড় জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপি–তে। যে সমস্যাটা চিহ্নিত করলেন বিশিষ্ট বাজারঅর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ধ্রুবজ্যোতি নন্দী। তিনি জানালেন, ‘‌‘‌রিটেল যেটাকে আমরা বলছি, তার দুটো ভাগ আছে। একটা হচ্ছে এসেন্সিয়াল রিটেল‌, আরেকটা হচ্ছে ডিসক্রিশনারি রিটেল‌। এসেন্সিয়াল রিটেলের মধ্যে ফুড আইটেম পড়বে, গ্রসারি পড়বে, তার পর ফুট ওয়্যার, ইত্যাদি জিনিসগুলো, যেগুলো ছাড়া চলবে না। আর ডিসক্রিশনারি রিটেল হচ্ছে জামাকাপড়, জুয়েলারি, কনজিউমার ইলেকট্রনিক, হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং হোম ডেভলপমেন্ট— এগুলো পড়ে। মূলত খাবারদাবার এবং সেই সংক্রান্ত জিনিসপত্র পড়ে এসেন্সিয়াল রিটেলের মধ্যে। এই এসেন্সিয়াল রিটেল হচ্ছে মোট রিটেলের ৪৮% আর ডিসক্রিশনারি রিটেল, যার মধ্যে বাইরে খাওয়া, ট্যুরিজম, হেলথ কেয়ার, এডুকেশন, সে সমস্ত জিনিসগুলোও আছে। সেটা হচ্ছে ৫২%। ইন্ডিয়ার জিডিপি–র ৫৮% হচ্ছে এই প্রাইভেট কনজাম্পশন।'‌'‌‌

অডিও শুনুন 02:54

‘ইন্ডিয়ার জিডিপি–র ৫৮% হচ্ছে প্রাইভেট কনজাম্পশন’: ধ্রুবজ্যোতি নন্দী

অর্থাৎ, ব্যক্তি মানুষ তার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং ভোগ্যপণ্যের জন্য যে খরচটা করেন, তা ভারতের গড় জাতীয় উৎপাদনের ৫৮%। কাজেই ভারতে এই খুচরো ব্যবসার গুরুত্ব অর্থনীতিতে অপরিসীম। বলছেন ধ্রুবজ্যোতি নন্দী। যেখানে চীনে এই অংশীদারি ৩৪%, যেহেতু ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে চীনের উৎপাদন বিপুল। কাজেই ভারতে এই লকডাউনের প্রভাব পড়তে বাধ্য। তাঁর মতে, ‘‌‘‌এই যে এতদিন ধরে দোকানপাট বন্ধ রইল, এটা প্রভাব ফেলবে বিপুল পরিমাণে। কী পরিমাণে?‌ দু লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা!‌ এই (‌পরিমাণ)‌ রিটেল ব্যবসা সামগ্রিকভাবে সঙ্কুচিত হবে। এটা শুধু পছন্দসই কেনাকাটার ক্ষেত্রে। কারণ খাবারদাবার ইত্যাদির (‌আবশ্যক পণ্যের ব্যবসার)‌ তো সঙ্কোচন হয় না, কারণ লোকের তো খেতেই হবে। আর এই যে ২,২৫,০০০ কোটি টাকার খুচরো ব্যবসা কমল, এর ফলে ২০২০–২০২১ আর্থিক বর্ষে প্রায় ২৬ লক্ষ চাকরি বিপন্ন হয়ে গেল। ২৬ লক্ষ কাজ বিপন্ন হয়ে গেল।'‌'‌

ফলে যত বেশিদিন লক ডাউন, ব্যবসার যত ক্ষতি, সারা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ততই সঙ্কুচিত হবে। তার আভাস এখনই ক্রমশ পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়