ব্যবসায়ীরা বুঝেছে শুধু টাকা দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা হয় না | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 12.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ব্যবসায়ীরা বুঝেছে শুধু টাকা দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা হয় না

করোনা মহামারির মধ্যে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশার নগ্নরূপ বেরিয়ে পড়েছে৷ এই খাতের উন্নতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত৷

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ উপাচার্য বলেন, ‘‘আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও অনেক ব্যবসায়ী হাসপাতাল নির্মাণ করেছেন৷ কিন্তু অন্যান্য ব্যবসার মতো হাসপাতালে বিনিয়োগ অতটা লাভজনক না-ও হতে পারে ভেবে আমাদের দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা এ খাতে বিনিয়োগ করেন না৷

‘‘তারা ভাবেন, অসুস্থ হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিদেশে চিকিৎসা নিতে চলে যাবেন৷ কিন্তু এই করোনা মহামারিকালে তারাও বুঝতে পেরেছেন, শুধু টাকা থাকলেই চিকিৎসা পাওয়া যায় না৷ বরং, নিজের দেশে তাদের নিজেদের চিকিৎসার জন্য অন্তত একশ বেডের একটা হাসপাতাল করতে পারতেন৷’’

ডয়চে ভেলে বাংলার ইউটিউব টকশো ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’-এ এভাবেই স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান এ অধ্যাপক৷

এ বিষয়ে টকশো'র আরেক আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম বলেন, ‘‘করোনার আগে থেকেই বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিভাগ অনেক নড়বড়ে৷ প্রতিটি জেলায় প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও টেকনোলজিস্টের অভাব রয়েছে৷ তাদের পোস্ট খালি পড়ে আছে৷ কেন আমরা এমনটা করলাম৷ আমারা কি আসলেই মহামারি মোকাবেলায় প্রস্তুত?’’

কোভিড-১৯-এ সংক্রমিত হয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের কর্তাব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যের মৃত্যু হয়েছে৷ অঢেল অর্থ-বিত্ত থাকার পরও আইসিইউর অভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনাও আছে৷

করোনা ভাইরাস মহামারির প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা ছিল চোখে পড়ার মতো৷ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীদের লড়াইয়ে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে৷ অন্য দিকে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না৷ চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরে ব্যর্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায় মরতে হয়েছে অনেক মানুষকে৷

জটিল রোগে ভোগা মানুষেরা নিয়মিত চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়েছেন৷ এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যকর্মীদের আতঙ্ক ভুলে দায়িত্বপালন করতে বলেন৷ নতুবা  বিদেশ থেকে ডাক্তার-নার্স আনার হুমকিও দেন৷

এ বিষয়ে ডা. প্রাণ গোপাল  বলেন, ‘‘আমরা যেমন অভিভাবক হিসেবে সন্তানদের শাসন করি, তিনিও দেশের অভিভাবক হিসেবে এ কথা বলেছেন৷ এটা আসলে মোটিভেশনাল৷’’

রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি চিকিৎসক কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন৷ মারা গেছেন অন্তত ৩৪ জন চিকিৎসক, যাদের কয়েকজন আবার বিনা চিকিৎসায়৷

করোনা মহামারির এ সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের বলা হচ্ছে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা৷ তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ঢাকার গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল নির্দিষ্ট করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাত দিয়ে জানান ডা. প্রাণ গোপাল৷

টানা দুই মাসের বেশি সময় সাধারণ ছুটি শেষে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে৷ কিন্তু  রোগ সংক্রমণ ও মৃত্যু উভয় উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় এখনো বন্ধ আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান৷  এ অবস্থায় গৃহবন্দি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় আগে বাবা-মাকে ঘরের পরিবেশ সুস্থ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মনরোগ বিশেষজ্ঞ মেহতাব খানম৷

তিনি বলেন, ‘‘এ সময়ে সারা পৃথিবীতেই গৃহনির্যাতন বেড়েছে৷ হয়ত বিবাহবিচ্ছেদও বাড়বে৷ তাই বাচ্চাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে আগে বাবা-মাকে নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে৷’’

এসএনএল/ এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন