ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যমন্ত্রীর বিশ্বাস ভঙ্গের ‘অভিযোগ’ | বিশ্ব | DW | 09.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যমন্ত্রীর বিশ্বাস ভঙ্গের ‘অভিযোগ’

ভোজ্য তেলের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতায় হতাশা প্রকাশ করে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরকারের ‘বিশ্বাসের সুযোগ’ নিয়েছেন; বেশি লাভের আশায় পণ্য ধরে রেখে বাজারে সংকট সৃষ্টি করেছেন।

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সোমবার দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে টিপু মুনশি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "আমরা ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করেছিলাম, এটাই আমাদের ব্যর্থতা। বিশ্বাস করা ভুল হয়েছে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখেছি মানুষকে বিশ্বাস করতে হয়। মিল মালিকরা কথা রাখলেও খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে।"

যখন এই সম্মেলন চলছিলো, তখনও ঢাকা ও চট্টগ্রামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান চলছিল। এর মধ্যে চট্টগ্রামের পাহাড়তলি বাজারে একটি দোকানে ‘গোপনে মজুদ করে রাখা' ১৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেলের সন্ধান পেয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে তিনটি দোকানকে তারা জরিমানা করেছেন নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করায়।

এ মাসের শুরুতে ঈদের আগে খুচরা বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় রান্নায় ব্যবহৃত সয়াবিন তেল। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সায় নিয়ে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ টাকার কাছাকাছি নির্ধারণ করেন মিল মালিকরা। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বাড়তি লাভের জন্য ব্যবসায়ীরা ১০ দিনে ৪০ হাজার টনের মতো সয়াবিন তেল অবৈধভাবে মজুদ করেছেন ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ধারণা।

তেল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে টিপু মুনশি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের যেসব ব্যবসায়ী এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে চিহ্নিত। যখন যেখানে প্রয়োজন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং হবে। কিন্তু তারা সংখ্যায় লাখের ওপরে। এটা একটা সমস্যা।"

ব্যবসায়ীদের এই মজুদদারিতে বাণিজ্যমন্ত্রীর আস্থা নড়ে গেলেও দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে তার দ্বিমত নেই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "সত্য যতই কঠিন হোক, তা মেনে নিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে তেলের মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিন। পাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের এখনকার দামও বিবেচনায় নিতে হবে।"

তিনি আরো জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তেলের দাম নির্ধারণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির ফলে রোজার মধ্যেই আরেকবার দাম পরিবর্তন করা প্রয়োজন ছিল। তবে রোজায় যাতে মানুষের কষ্ট না হয়, সেজন্য তিনি মিল মালিকদের অনুরোধ করে দাম বৃদ্ধি ‘কিছুটা বিলম্বিত' করেছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, "এখনতো দেখছি রোজার ভিতর একবার দাম বৃদ্ধি করাই ভালো ছিল। মিল মালিকরা মেনে নিলেও খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা ঠিকই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ঈদের পরে তেলের দাম বাড়বে, এটা সবাই অনুমান করতে পারছিলেন।"

তেলের উচ্চমূল্যে দরিদ্র মানুষ যাতে চাপে না পড়ে, সেজন্য সরকার টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এক কোটি দরিদ্র পরিবারকে সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্য সরবরাহ করবে। আগামী জুন মাসে টিসিবি এসব পণ্য সরবরাহ করবে।

এএস/ এসিবি (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম)