ব্যথা দূর করতে অভিনব পরীক্ষামূলক চিকিৎসা | অন্বেষণ | DW | 06.06.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ব্যথা দূর করতে অভিনব পরীক্ষামূলক চিকিৎসা

দিনের পর দিন শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা থাকলে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে৷ কড়া ওষুধ সামান্য স্বস্তি দিলেও সেগুলির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মোটেই কাম্য নয়৷ নতুন এক পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যথা কমানোর চেষ্টা চলছে৷

দিনের পর দিন শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা থাকলে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে৷ কড়া ওষুধ সামান্য স্বস্তি দিলেও সেগুলির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মোটেই কাম্য নয়৷ নতুন এক পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যথা কমানোর চেষ্টা চলছে৷

ছয় বছর আগে গুড্রুন গেয়ারমার-ক্রিংস-এর হালকা ডিস্ক প্রল্যাপস হয়েছিল৷ সেরে উঠলেও পিঠের ব্যথা দূর হয়নি৷ পরীক্ষায় তাঁর পেশির দুর্বলতা ধরা পড়লো৷ ডাক্তার তাঁকে বলেছিলেন, ছোট পেশিতে বেশি চর্বি জমেছে৷

বছরের পর বছর ধরে তিনি ফিজিওথেরাপি, রিহ্যাব, মাল্টি মোড পেন থেরাপি ইত্যাদি অনেক কিছুই করে দেখেছেন৷ কিন্তু বিশেষ করে রাতে তার চরম ব্যথা দূর হয়নি৷ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে গুডরুন বলেন, ‘‘আমি পেইন থেরাপিস্টের কাছে গেছি৷ তিনি কিন্তু বেশি আশা দিতে পারেননি৷ বলেছেন, সারা জীবন ধরে ওষুধ খেয়ে যেতে হবে৷ শুধু পেন কিলার নয়, অ্যান্টি এপিলেপটিকামও খেতে হয়েছে, যার তীব্র পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে৷''

কড়া ওষুধ সত্ত্বেও ব্যথা দূর হয় নি৷ সমাধানসূত্রের খোঁজে তিনি কাকতালীয়ভাবে ক্রনিক পেইন কমানোর বিশেষ এক চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে পারেন৷ এর আওতায় ত্বকের নীচে এক নিউরোমাস্কুলার স্টিমুলেটর ইমপ্লান্ট করা হয়৷

নতুন এই যন্ত্রের মধ্যে ছোট ইম্পেটাস ও একটা প্রোব আছে৷ অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ড. ইয়ান শিলিং বাছাই করা কিছু রোগীর উপর সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে নিউরোমাসকুলার পদ্ধতিতে পেশির গভীর অংশকে উদ্দীপিত ও সক্রিয় করতে পুনরুদ্ধার ও সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়৷ এভাবে রোগীরা সক্রিয়ভাবে ব্যায়াম করতে পারেন৷''

প্রক্রিয়াটি এভাবে ঘটে৷ পিঠের ত্বক ছোট করে চিরে দিয়ে পিঠের পেশির গভীরের স্নায়ু পর্যন্ত সিমুলেশন প্রোব ঠেলে ঢোকানো হয়৷ নিতম্বের প্রধান এক্সটেন্সর পেশিতে ছোট ইম্পেটাস বসানো হয়৷

রিমোট কনট্রোলের সাহায্যে সিমুলেশন চালু করা যায়৷ যন্ত্র তখন স্নায়ুতে বৈদ্যুতিক স্পন্দন পাঠায়৷ পেশি তখন সংকুচিত হয়৷ এর ফলে স্নায়ু ও পেশি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠার কথা৷

গুডরুন শরীরে এমন এক সিমুলেটর বসিয়েছেন৷ দিনে দুই বার ৩০ মিনিট করে তিনি সেই যন্ত্র চালান৷ তাঁকে সাধারণত তখন পাশ ফিরে শুতে হয়৷ সোজা হয়ে শুলে ঘাড়ে ব্যথা হয়৷ সিমুলেশনের সময় তিনি মোবাইল ফোন দিয়ে নিজের পিঠের ভিডিও তুলেছিলেন৷ তাতে দেখা যাচ্ছে, পেশি কীভাবে হালকা মাত্রায় সংকুচিত হচ্ছে৷

তিনিই জার্মানির অন্যতম প্রথম ব্যক্তি, যার শরীরে এমন এক যন্ত্র ইমপ্লান্ট করা হয়েছে৷ এখনো পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিক এই পদ্ধতি প্রয়োগ করছে৷ এই সিমুলেশনের প্রভাব আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে৷ ব্যথা বিশেষজ্ঞ হিসেবে ড. ইয়ান স্টর্ক বলেন, ‘‘এই পদ্ধতি নতুন হওয়ায় খুব কম তথ্য-পরিসংখ্যান রয়েছে৷ তবে এমন কয়েকজন রোগী আছেন, যাদের ক্ষেত্রে সিমুলেটরের মাধ্যমে পিঠের পেশি সক্রিয় করে ব্যথা কমানো যায়৷''

গুড্রুনের ক্ষেত্রে এই সিমুলেশন থেরাপি সত্যি কাজে লেগেছে৷ তিনি বলেন, ‘‘বেশ দ্রুত কাজ হয়েছে৷ দুই সপ্তাহ পরেই প্রাথমিক সাফল্য টের পেয়েছি৷ ব্যথা সত্যি কিছুটা কমেছে৷ ফলে আমি ধীরে ধীরে কড়া ট্যাবলেট ছাড়তে পেরেছি৷''

ইতোমধ্যে তিনি আর কোনো ট্যাবলেট খাচ্ছেন না৷ এবার তিনি তার ‘কোর মাসলস' আবার সক্রিয় করতে অনুশীলন করতে পারছেন৷ ফলে ব্যথা প্রায় দূর হয়েছে এবং দৈনন্দিন জীবনে তিনি আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন৷

আনকে ক্রিস্টিয়ান্স ডে-খ্রোট/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক