ব্যক্তিগত স্বার্থে ‘ব্লাসফেমি′ আইনের ব্যবহার | বিশ্ব | DW | 25.11.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ব্যক্তিগত স্বার্থে ‘ব্লাসফেমি' আইনের ব্যবহার

ধর্মীয় অবমাননা বা ব্লাসফেমি আইনকে পাকিস্তানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা ও ইসলামিক দলগুলো ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছে৷ মানবাধিকার কর্মীরা এর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে তা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং হত্যাকাণ্ডে রূপ নিচ্ছে৷

চলতি মাসে কোরান অবমাননার অভিযোগে এক খ্রিষ্টান দম্পতিকে ১,৫০০ মানুষ পিটিয়ে হত্যা করে তাঁদের শরীর জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে ছুড়ে ফেলে দেয়৷ ঐ ঘটনার পরদিন এক পুলিশ ব্লাসফেমি আইনের আওতায় বন্দি এক ব্যক্তিকে কুড়াল দিয়ে কোপ মেরে হত্যা করে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আইনটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত বিরোধের জেরে কাজে লাগানো হচ্ছে৷ ব্লাসফেমি আইন ভঙ্গকারীদের যারা হত্যা করেছে বা হত্যা প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ করেছে, তাদের আজ পর্যন্ত কোনো শাস্তি হয়নি৷

আইনজীবী আসমা জাহাঙ্গীর সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে বলেছেন, ‘‘এ ঘটনার পর ইতিবাচক দিক হলো আলেম ওলামা এবং জামায়াত-ই-ইসলামী দলসহ বেশ কিছু দল এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে৷ আমার মনে হয়, এটা একটা বড় ধরনের পরিবর্তন এবং আমাদের এটাকে স্বাগত জানানো উচিত৷''

পাকিস্তানে এখনো নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, বৈষম্য, নির্যাতন এবং কারাভোগ খুব সাধারণ ঘটনা, যা মানবাধিকার কর্মীদের কাছে উদ্বেগের বিষয়৷ আসমা জাহাঙ্গীর বলেন, একটা সময় ছিল যখন নারী অধিকার এখানে পশ্চিমাবিশ্বের ধারণা হিসেবে গণ্য হত, তবে এখন মানুষ নারী অধিকার নিয়রে আলোচনা করে৷ রাজনৈতিক দল এবং ধর্মীয় দলগুলো এ নিয়ে কথা বলছে৷

ব্লাসফেমি আইন

ধর্মীয় বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী বক্তব্য বা অবমাননাকর আচরণের বিচারের জন্য যে আইন, সেই আইনের নামই ব্লাসফেমি৷ ব্লাসফেমি আইনে ইসলাম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে৷ পাকিস্তানের ৯৭ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী৷ পাকিস্তানে অনেক বছর ধরেই বলবৎ এই আইনটি৷

পাকিস্তানে ব্লাসফেমি আইনে অভিযুক্ত হওয়া এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়া কোনো নতুন ঘটনা নয়, অস্বাভাবিক ঘটনাও নয়৷ পাকিস্তানের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী কত লোক যে প্রতি বছর এই অভিযোগে অভিযুক্ত হন তাঁর কোনো নির্ভরযোগ্য হিসেব পর্যন্ত নেই৷ কেননা গ্রামাঞ্চলে এ সব অভিযোগ আনা হয় সবচেয়ে বেশি৷ অনেকেই এগুলো মানবাধিকার সংগঠনের গোচরে পর্যন্ত আনেন না৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন