ব্যক্তিগত উড়োযান কি বন্ধ করে দেয়া উচিৎ? | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 08.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

ব্যক্তিগত উড়োযান কি বন্ধ করে দেয়া উচিৎ?

ধনী আর তারকাদের মধ্যে ব্যক্তিগত উড়োযান ব্যবহারের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে৷ যা ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণের পরিমানও বাড়িয়ে দিচ্ছে৷ এইজন্য পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন বিমান নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছে৷   

গত জুলাইতে জলবায়ু নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল৷ সেই আয়োজনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রসিডেন্ট বারাক ওবামা, ইংল্যান্ডের রাজপুত্র হ্যারি, হলিউডের অভিনেত্রী লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও'র মতো খ্যাতনামা তারকারা৷ তাদের মতো ১১৪ জন অতিথি ইটালির ভের্দুরা অবকাশ কেন্দ্রে হাজির হয়েছেন ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে চেপে৷

একদিকে বিশ্ব বাঁচানোর আহবান আর অন্যদিকে কার্বন পুড়িয়ে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ভ্রমণ, বিষয়টিকে এক ধরনের ‘ভণ্ডামি’ হিসেবে দেখছেন অনেক পরিবেশবাদী৷ জানুয়ারিতে জেনেভায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামেও পরিবেশ বিষয়ক এক আয়োজনে ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে৷ ডাচ ঐতিহাসিক রুটগার ব্রেখমান সেসময় রসিকতা করে বলেছেন, ‘‘কীভাবে আমরা পৃথিবী ধ্বংস করছি তা নিয়ে স্যার ডেভিড অ্যাটেনব্রার বক্তব্য শুনতে এইখানে উড়ে এসেছে ১৫০০ ব্যক্তিমালিকানার উড়োযান৷’’

মাদ্রিদে চলমান জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনেও যে তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না তা বলা বাহুল্য৷ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা টুনব্যার্গ যতোই নৌকা আর ট্রেনে চেপে আসুন না কেন অনেক অতিথিই নির্ভর করবেন ভয়াবহ কার্বন নিঃসরণ নির্ভর সব উড়োজাহাজের উপর৷

ব্যক্তিগত উড়োযান এখন আর কেবল বৈশ্বিক এলিট শ্রেণীর বাহনই নয়৷ যুক্তরাষ্ট্রসহ, এশিয়া, দক্ষিণ অ্যামেরিকার অনেক দেশের ধনীরা এখন যাতায়তের জন্য ব্যক্তিগত বিমানের উপর নির্ভর করেন৷ ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়ায় এবং সিঙ্গাপুরে এই ধরনের পরিবহন ব্যবসাও দিন দিন স্ফীত হচ্ছে৷

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিজনেস জেট ট্রাভেলার ম্যাগাজিন ২০১৮ সালে ১৪০০ নির্বাহী ও ধনী মানুষের উপর এক জরিপ চালিয়েছে৷ আরাম আয়েশ, নিরাপত্তা আর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে তারা এমন বাহন ব্যবহার করেন, বলে জানান৷ সেই সঙ্গে যাত্রাপথ পরিবর্তন আর ছোট বিমানবন্দরে অবতরণের সুবিধার কারণে সময় বাঁচাতেও তারা প্রাইভেট জেট ব্যবহার করেন৷

কিন্তু পরিবেশবাদীরা বলছেন, যতো ফ্লাইট পরিচালিত হবে বিশ্বে কার্বন নিঃসরণের পরিমানও ততো বাড়বে৷ বার্লিন থেকে নিউ ইয়র্কে ইকোনোমিক ক্লাস ভ্রমণ করা যাত্রীদের ক্ষেত্রে যার পরিমান গড়ে দেড় থেকে দুই টন৷ এই কারণে প্রতিবছর একজন জার্মান নাগরিক গড়ে আট দশমিক নয় টন কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ি৷ যুক্তরাষ্ট্রে এর পরিমান প্রায় ১৫ টন৷

বিশ্ব ব্যাংকের ২০১৩ সালের এক গবেষণায় দেখা যায় প্রথম শ্রেণীতে ভ্রমণকারী বিমানের ইকোনোমিক ক্লাসের যাত্রীদের চেয়ে তিনগুণ বেশি কার্বন ছড়ানোর জন্য দায়ি৷ ব্রিটেনের কমন ওয়েলথ নামের এই থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত উড়োযান ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ১৫ গুণ বেশি৷ আর উচ্চ গতির রেলের সাথে তুলনা করলে সেটি হবে ৭৫ থেকে ২৫০ গুণ বেশি৷

এমন বাস্তবতায় ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ নিষিদ্ধে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর চাপ বাড়ছে বিভিন্ন দেশে৷ ব্রিটেনে ২০২৫ সালের জ্বালানি তেল নির্ভর উড়োযান বন্ধ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ফ্রি রাইড আর কমন ওয়েলথ৷ ১২ই ডিসেম্বরের নির্বাচনে জিতলে এই প্রস্তাব পরীক্ষা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে লেবার পার্টিও৷

তবে ইউরোপীয় বিজনেস অ্যাভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশন বলছে, তারা উড়োজাহাজ ভ্রমণকে পরিবেশবান্ধব করতে কাজ করে যাচ্ছে৷ বিদ্যুতের ব্যবহার আর জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে এই শিল্পের কার্বন নিঃসরণের পরিমান ২০০৫ সালের তুলনায় ২০৫০ সালে ৫০ ভাগ কমিয়ে আনা হবে৷

মার্টিন কুয়েবলার/এফএস  

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন