বৌদ্ধধর্মে দিক্ষিত হচ্ছে ভারতীয় দলিতরা | বিশ্ব | DW | 05.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

বৌদ্ধধর্মে দিক্ষিত হচ্ছে ভারতীয় দলিতরা

হিন্দুধর্মের জাতিভেদ প্রথা দলিত সম্প্রদায়ের কাছে এক দুঃস্বপ্ন৷ জাতপাত নিয়ে দলিতদের ওপর কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের নির্যাতন যেন ক্রমশই মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে ভারতে৷ এর থেকে মুক্তি পেতে দলিত শ্রেণি দলে দলে গ্রহণ করছে বৌদ্ধধর্ম৷

ভারতে ৮৫ লাখেরও বেশি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বা৷ তাঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশই ধর্মান্তরিত দলিত শ্রেণির৷ এর পেছনে একটাই প্রধান কারণ – জাতপাতের ভিত্তিতে নিম্নবর্গের দলিত সম্প্রদায়ের ওপর হিন্দুত্ববাদীদের অত্যাচার এবং সামাজিক বৈষম্য৷ এটা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ কিছুদিন আগে গুজরাটের উনাতেই দলিত পরিবারসহ প্রায় ৪০০ জন নিজেদের আত্মসম্মান রক্ষায় বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছেন৷ উনাও দলিতদের পেশা ছিল মরা গবাদি পশুর ছাল ছাড়িয়ে তা বিক্রি করা৷ বিজেপি-আরএসএস জমানায় অতি সক্রিয় তথাকথিত গোরক্ষকরা তাঁদের কয়েকজনকে উনা শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে গাড়ির সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে৷ এই ঘটনাকে গোটা দেশ ধিক্কার জানিয়েছে৷ পুলিশের কাছে অভিযোগ করে ফল হয়নি৷ রাজ্যের বিজেপি সরকারও তাঁদের অভিযোগের প্রতিকারে গা করেনি৷

অডিও শুনুন 02:39
এখন লাইভ
02:39 মিনিট

বর্তমান সরকারের আমলে এই ধরনের ঘটনা বেড়েছে: ড. পূজন সেন

এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ডক্টর পূজন সেন ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে এই লোকগুলোর জীবিকা ওটাই৷ ওরা বাঁচবে কীভাবে? ওদের সামনে বিকল্প জীবিকাও তো আর নেই৷ এটা বোঝার মতো পরিবেশ আমাদের দেশে নেই৷ বর্তমান সরকারের আমলে এই ধরনের ঘটনা হয়ত বেড়েছে, কিন্তু সব রাজনৈতিক দলেই এটা কম-বেশি ছিল এবং আছে৷ সব দলই এ জন্য দায়ী৷ এদের আলাদা করবেন কীভাবে? এত গেল দলিতদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা৷ গত সোমবার কোলকাতার দমদম মেট্রো স্টেশনে যা ঘটলো তা অচিন্তনীয়৷ একজন তরুণ-তরুণী পরস্পরকে আলিঙ্গন করে দাঁড়িয়েছিল৷ সেটা দেখে পাবলিকের হাতে তারা কি মারটাই না খেল, যাকে বলে গণপিটুনি৷ যারা মারলো তারা তথাকথিত শিক্ষিত, চাকরিজীবী, মধ্যবিত্ত ও মধ্যবয়স্ক৷ এবার ভেবে দেখুন, কী ধরনের ‘মাইন্ড সেট' থাকলে তারা এই কাজটা করতে পারে৷ এরা তো দলিত নয়৷ তাহলে এদের আলাদা করবেন কীভাবে?''

তিনি বলেন, ‘‘এক সমাজবিদের লেখা থেকে জানা যায়, ‘নন-মেটিরিয়াল কালচার' গড়ে ওঠে খুব ধীরে ধীরে৷ যেমন মূল্যবোধ, বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি৷ কিন্তু ‘মেটিরিয়াল কালচার' গড়ে ওঠে দ্রুত৷ ইউরোপ, অ্যামেরিকায় কোনো জিনিস উদ্ভাবিত হলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা গ্রহণ করে নিতে পারি৷ আজও একবিংশ শতাব্দীতে দেখি, তরুণ বা বৃদ্ধেরা সমলিঙ্গের বিয়ে মেনে নিতে পারে না৷ এটা একটা ‘মেন্টাল ব্লক'৷ আরও একটা বই পড়ছিলাম, তার ‘থিম' হলো, মার্কস এবং যিশুখ্রিষ্টকে সরিয়ে দিলে ‘ভ্যালু-বেস' আর কিছু থাকে না৷ আসলে ধর্ম বা মূল্যবোধ যার যেখানে ক্ষমতা আছে সে সেখানে সেভাবে প্রয়োগ করে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ভারতে দলিতদের ওপর লাঞ্ছনা ও অপমান আকছারই ঘটছে নিত্যদিন৷ গত ২৯শে এপ্রিল বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরিপ্রার্থীদের মেডিক্যাল টেস্টের সময় দলিতদের বুকে দলিত শব্দটি সেঁটে দিয়ে তাঁদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়৷ রাজস্থানে দলিতদের বিয়েতে বর ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে গেলে, পথে শ-খানেক হিন্দু তাকে ঘোড়া থেকে নামিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে বাধ্য করে৷ ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে যাবার প্রথা উত্তর ভারতে নাকি স্রেফ অভিজাত শ্রেণিরই আছে৷

অপমান ও নিগ্রহের হাত থেকে মুক্তির পথ হিসেবে গত ২০১৫ সালে প্রায় পাঁচ লাখ দলিত হিন্দু নাগপুরে এক গণ অনুষ্ঠানে একযোগে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেন৷ তার আগে ২০০৭ সালে প্রায় লাখখানেক দলিত ও উপজাতি হিন্দু ধর্মান্তরিত হয়ে বৌদ্ধ হন৷ গত সপ্তাহে ভারতের সংবিধান রচয়িতা ডক্টর বি.আর আম্বেদকারের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে আত্মঘাতি দলিত গবেষক ছাত্র রোহিত ভেমুলার মা এবং ভাই বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন৷ উল্লেখ্য, রোহিত হায়দ্রাবাদের এক হোস্টেলে থেকে পিএইচডি করছিলেন৷ হোস্টেলের অন্যান্য উচ্চবর্গের হিন্দু সহপাঠিদের অপমানজনক ব্যবহার এবং লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করেন তিনি৷ তবুও রোহিতের পরিবার ন্যায়বিচার পাননি৷ ধর্মান্তরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আম্বেদকরের পৌত্র৷ ৭০ বছর আগে ১৯৫৬ সালে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেন বি.আর আম্মেদকর৷ এইসব ঘটনায় কংগ্রেস জাতপাত নিয়ে শুচিবায়ুগ্রস্ত বিজেপি ও মৌলবাদী হিন্দু সংগঠন সংঘ পরিবারের সমালোচনা করে বলেছে, এটা ভারতীয় সংবিধানের ওপর হামলা৷ দলিতদের গলায় কখনও কলসি ঝোলানো হয়, কখনও ঝাড়ু বাঁধা হয়, কখনও দলিত মহিলাদের মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয় না, কখনও গ্রামের কুঁয়ো থেকে জল নিতে দেওয়া হয় না৷ উচ্চবর্গের হিন্দুত্ববাদীদের মানসিকতাই এর জন্য দায়ী৷ দলিতদের এই ক্ষত সহজে মেটার নয়, মন্তব্য করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব৷

প্রশ্ন যেটা উঠেছে, সেটা হলো জাতপাতের ভেদাভেদ ভারতীয় সমাজে পুরানো ব্যাধি সন্দেহ নেই৷ কিন্তু তা থেকে মুক্তি পেতে দলিতরা শুধু বৌদ্ধধর্মই কেন বেছে নিচ্ছেন, ইসলাম বা খ্রিষ্টান ধর্ম নয় কেন? হিন্দুদের অনেকের ধারণা, বৌদ্ধধর্ম আসলে হিন্দুধর্মেরই অঙ্গ৷ খ্রিষ্টান বা ইসলাম ধর্ম বাইরে থেকে এসেছে৷  খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে দলিতরা দেখেছে সেখানেও উঁচু-নীচু ভেদ আছে৷ সমানাধিকার নেই৷ দলিত খ্রিষ্টানরা উচ্চবর্গের খ্রিষ্টানদের সমাধিভূমিতে নিজ সম্প্রদায়ের মানুষকে কবর দিতে পারেন না৷ ভারতীয় মুসলিম ক্ষেত্রেও একই কথা৷ সেখানেও উঁচু-নীচু ভেদাভেদ আছে৷

আপনার কী মনে হয়? ভারতীয় দলিতরা কেন দীক্ষা নিচ্ছেন বৌদ্ধধর্মে? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন