বৈরুতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, আগুন | বিশ্ব | DW | 10.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

বৈরুতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, আগুন

লেবাননে সরকার বিরোধী আন্দোলন ক্রমশ বাড়ছে। রাস্তায় রাস্তায় জনতা-পুলিশ সংঘর্ষ। পার্লামেন্টের সামনে আগুন।

কার্যত বিদ্রোহ শুরু হয়ে গিয়েছে বৈরুতে। গত শুক্রবার থেকে লেবাননের রাজধানী শহরে রাস্তার দখল নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের মুখে একটাই শ্লোগান-- বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। কারণ, লেবাননের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে তারা। মানুষের নিরাপত্তাটুকুও তারা সুনিশ্চিত করতে পারেনি। শুক্রবারের পর শনি এবং রোববারেও বৈরুতে দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে জনতার খণ্ডযুদ্ধ হয়েছে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে।

সরকার বিরোধী আন্দোলন বেশ কিছুদিন আগেই শুরু হয়েছিল বৈরুতে। দেশের সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত, এই অভিযোগে গত বছরেও আন্দোলন করেছেন বৈরুতের ছাত্র-যুবরা। করোনা-কালে প্রাথমিক ভাবে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়েছিল। কিন্তু চাকরি চলে যাওয়ায় করোনাকে উপেক্ষা করেই ফের রাস্তায় নামেন সাধারণ মানুষ। তবে গত মঙ্গলবার যে ঘটনা ঘটেছে তার পর কার্যত ছোট ছোট আন্দোলন বড় চেহারা নিয়েছে।

মঙ্গলবার বৈরুত বন্দরের একটি গুদামে বিস্ফোরণ হয়। ওই গুদামে বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট রাখা ছিল। তার থেকেই বিস্ফোরণ হয়। কার্যত গোটা বৈরুত শহর কেঁপে ওঠে। দিকে দিকে বাড়িঘর ধসে পড়তে শুরু করে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত পাঁচ হাজার। তিন লাখ মানুষ গৃহহীন। এই পরিস্থিতিতে ফের সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেমে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মুখে লেবাননের পতাকা রঙের মাস্ক পরে তাঁরা দিকে দিকে সরকার বিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ছেন। আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন সরকারি অফিসে। রোববার পার্লামেন্টের সামনে তৈরি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশও বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের থামানো যাচ্ছে না।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য এই সরকারকে এই মুহূর্তে পদত্যাগ করতে হবে। নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে বিপ্লব করতে হবে। জনগণের দাবি এতটাই প্রবল হয়ে উঠেছে যে, একে একে মন্ত্রীরা পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন। তাঁরা কার্যত জনগণের আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছেন। মঙ্গলবারের পর লেবাননের দুই মন্ত্রী এখনও পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রদূত এবং সরকারি আধিকারিকরাও। সকলেই মেনে নিচ্ছেন যে, বর্তমান সরকার মানুষকে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

গত শুক্রবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট লেবাননকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, লেবাননে আমূল সংস্কার না হলে দেশটির পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো মুশকিল। ফরাসি প্রেসিডেন্টের নিশানায় ছিল সে দেশের সরকার। বোঝাই যাচ্ছে, লেবাননে যে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে, ইউরোপের কোনো কোনো দেশ তা সমর্থন করছে। তবে বিদ্রোহ যত বাড়ছে, পুলিশের সঙ্গে সংঘাতও তবে তীব্র হচ্ছে।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি)

বিজ্ঞাপন