‘বেবি সিমুলেটর′ কিশোরীদের গর্ভধারণ রোধ করে না | বিশ্ব | DW | 03.09.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

‘বেবি সিমুলেটর' কিশোরীদের গর্ভধারণ রোধ করে না

মেয়েরা পুতুল খেলতে ভীষণ ভালোবাসে৷ পুতুলকে জ্যান্ত শিশুর মতোই আদর করে, ঘুম পাড়ায়, জামা-কাপড় পরায়৷ এতে তাদের কোনো ক্লান্তি নেই৷ তাই বেবি সিমুলেটর দিয়ে যে কিশোরীদের গর্ভধারণ রোধ করা যাবে না, সে তো জানা কথাই!

যুক্তরাষ্ট্রেই প্রথম তৈরি হয়েছিল এই বেবি সিমুলেটর৷ আর এখন, বিশ্বের শতাধিক দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যুবকেন্দ্রে তৈরি হচ্ছে এমন রোবট পুতুল৷ কিশোরী-বালিকারা যাতে অকালে গর্ভধারণ না করে, তার জন্য ‘প্যারেনটিং প্রোগ্রাম'-এর আওতায় ব্যবহার করা হচ্ছে এই সিমুলেটর৷ প্রোগ্রামের নাম – ‘ভার্চুয়াল ইনফ্যান্ট প্যারেন্টিং' বা ভিআইপি৷ নবজাতকের কীভাবে যত্ন নিতে হয়, দেখাশোনা করতে হয় – সে'সবই শেখানো হয় এই কর্মসূচিতে৷

সিমুলেটরটি একটা নবজাতকের যা যা চাহিদা থাকে, ঠিক সেভাবে ‘প্রোগ্রাম' করা৷ তারা চিৎকার করে, হামাগুড়ি দেয়, খাওয়ার জন্য কাঁদে, ডায়পারও বদলাতে হয় তাদের৷ এমনকি তাদের ভুলভাবে ধরলে ব্যথায় ককিয়ে ওঠে৷ মাথাটা ঝুলে থাকলে, খাবার বা অন্য যত্নের অভাব হলেও চিৎকার করে পুতুলগুলো৷

বিশ্বব্যাপি নাবালিকাদের গর্ভবতী হওয়ার পরিসংখ্যান, ২০১৪ সাল

বিশ্বব্যাপি নাবালিকাদের গর্ভবতী হওয়ার পরিসংখ্যান, ২০১৪ সাল

দায়িত্ববোধ এড়ানো

এই ভিআইপি প্রোগ্রামের আসল উদ্দেশ্য হলো কিশোরী ও বালিকাদের বোঝানো, ২৪ ঘণ্টা একটা শিশুর খেয়াল রাখা কতটা কঠিন৷ বোঝানো যে, এই ছোট্ট মানুষটির পুরো দায়িত্বটা তার৷ বোঝানো শিশুর জন্য সব রকম কষ্ট স্বীকার যে করতে হয় মায়েদেরই৷ যেসব কিশোরী এই সিমুলেটরের অভিজ্ঞতা নিতে চায়, তাদের কবজিতে একটি ঘড়ি পরিয়ে দেয়া হয়, যাতে একটা চিপ লাগানো থাকে৷ বেবি রোবটের সঙ্গে সেই চিপটির সংযোগ থাকে৷ তাই যার হাতে ব্যান্ড থাকবে, সে-ই কেবল রোবটটির যত্ন নিতে পারবে৷ আসলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অপ্রাপ্ত বয়স্ক গর্ভধারণ বেড়ে যাওয়ায় নেয়া হয়েছিল এই কর্মসূচি৷ ধারণা করা হয়েছিল, কিশোরীরা যখন এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাবে, তখন তাদের কাছে এত দায়িত্ব বোঝা ও কষ্টকর মনে হবে৷ অর্থাৎ এটা করা হয়েছিল, শিশু-কিশোরীদের মধ্যে মাতৃত্ব, সন্তান ও তার দায়িত্ব সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার জন্য৷

Deutschland Babysimulator-Puppe

জার্মানিতেও বেবি সিমুলেটর

গর্ভধারণের ঘটনা বাড়ছে

অথতচ অস্ট্রেলিয়ায় ভিআইপি প্রোগ্রামটি নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভধারণ কমাতে এই পদ্ধতি মোটেও কার্যকর হচ্ছে না৷ গবেষণাটি করা হয়েছিল মেয়েদের দু'টি দলে ভাগ করে, যাতে অংশ নিয়েছিল মোট ৫৭টি স্কুল৷ এরমধ্যে ১২৬৭ জন নারী শিক্ষার্থী ভিআইপি প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিল৷ আর নিয়ন্ত্রণ দলে ছিল ১৫৬৭ জন শিক্ষার্থী, যাদের সাধারণ প্রথাগত স্বাস্থ্য ও যৌনশিক্ষা দেয়া হয়েছিল৷ গবেষণার শুরুতে এদের প্রত্যেকের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৫ বছর এবং ২০ বছর বয়স পর্যন্ত তাদের ওপর গবেষণা চালানো হয়েছিল৷ গবেষণার ফল ছিল চমকপ্রদ৷ ভিআইপি দলের শিক্ষার্থীদের কারুরই এই সিমুলেটর-প্রোগ্রামটিকে কষ্টসাধ্য মনে হয়নি৷ তার ওপর ভিআইপি গ্রুপে গর্ভধারণ ও গর্ভপাতের সংখ্যা ছিল নিয়ন্ত্রিত দলের চেয়ে অনেক বেশি৷ প্রধান গবেষক শেলি ব্রিঙ্কম্যান জানান, ভিআইপি গ্রুপে যেখানে ১০০ জনের মধ্যে আটজন সন্তানের জন্ম দিয়েছিল, নিয়ন্ত্রিত দলে সেখানে সন্তান জন্মের হার ছিল চারজন৷ বিখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট'-এ প্রকাশিত হয়েছিল গবেষণা প্রতিবেদনটি৷

মায়ের ভূমিকা গ্রহণ

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, বেবি সিমুলেটর গর্ভধারণের মাত্রা কমায় না, বরং বাড়ায়৷ কেননা পুতুলটিকে মেয়েরা যখন সন্তানের মতো লালন-পালন করে, তখন তাদের মধ্যে মাতৃত্ববোধ জেগে উঠছে৷ এই প্রোগামের মধ্যে নেতিবাচক কোনো কিছুই খুঁজে পায় না তারা৷ গবেষকদের কথায়, সিমুলেটর-প্রোগ্রাম বা ভিআইপি নয়, পরিবার থেকেই অসময়ে গর্ভধারণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার৷ বাবা-মা যদি তাদের মেয়েটিকে এ ব্যাপারে আগে থেকেই সচেতন করেন, তবে অকালে গর্ভধারণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে৷

এপিবি/ডিজি (ডিপিএ, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন