বেনোজল কি রুখতে পারবে বিজেপির ছাঁকনি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 13.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

বেনোজল কি রুখতে পারবে বিজেপির ছাঁকনি

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনি সাফল্যের পরই বিজেপিতে যোগদানের ধুম লেগে গিয়েছে৷ এর ফলে দলে বেনোজল ঢুকে পড়ছে বলে আশঙ্কায় বিজেপি নেতৃত্ব৷ যোগদানে ইচ্ছুক নেতাদের বাছাই করার জন্য কমিটি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর দল৷

গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে তাক লাগানো সাফল্য পেয়েছে বিজেপি৷ ১৮টি আসনে জয় পেয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে তারা৷ এরপর থেকেই বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক পড়ে গিয়েছে৷ পঞ্চায়েত সদস্য থেকে সাংসদ, বিভিন্ন স্তরের নেতারা মোদীবাহিনীতে নাম লেখাচ্ছেন ও লেখাতে চাইছেন৷ এর সঙ্গে সাধারণ কর্মীরা বিপুল সংখ্যায় দলবদল করছেন৷ এই গণহারে যোগদানের ফলে নিশ্চিত ভাবে বাছাইয়ের অবকাশ থাকছে না৷ এতে দলের আকার বড় হচ্ছে, কিন্তু অন্য রাজনৈতিক দলের বেনোজল বা অপশক্তি বিজেপিতে ঢুকে পড়ছে কি, এ নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে৷

এই বিতর্ক সবচেয়ে তীব্র আকার নেয় বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর৷ সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মস্থান লাভপুরের বিধায়ক মনিরুল তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য কুখ্যাত৷ তিনি যোগ দেওয়ার পর জেলা বিজেপিতে বিদ্রোহ হয়৷ বীরভূমের বিজেপি নেতারা বলেন, মনিরুলদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছে৷ এই তৃণমূল নেতাদের হাতে বিজেপি সংগঠকরা আক্রান্ত হয়েছেন৷ তাহলে সেই নেতাকে দলে নেওয়া হল কেন? দলবদলের চাবিকাঠি যাঁর হাতে, সেই মুকুল রায় বলতে বাধ্য হন, মনিরুলকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ তিনি বিজেপি ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন৷

মনিরুল-পর্বেই টনক নড়ে বিজেপি নেতৃত্বের৷ একইসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের তাত্ত্বিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস৷ সংগঠনের মুখপত্রে আরএসএস লেখে, বিজেপিতে প্রচুর বেনোজল ঢুকে পড়ছে৷ এটা দলের জন্য বিপদ ডেকে আনবে৷ এ বিষয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পচা জিনিসের কোনো জায়গা নেই আমাদের দলে৷ এখন দল বড় হচ্ছে৷ এটা পার্ট অফ গেম৷ যদি বেনোজল ঢুকে পড়ে, তাহলে তাদের বার করে দেওয়া হবে৷ বিজেপিতে সেই ব্যবস্থা আছে৷'‘

অডিও শুনুন 04:50

‘‘বেনোজল নিয়ে হইচই স্রেফ কথার কথা’’

জেলায় জেলায় বিজেপিতে যোগদানের জন্য অনুরোধ পাচ্ছেন নেতারা৷ বাঁকুড়া-বিষ্ণুপুরও তার ব্যতিক্রম নয়৷ বাঁকুড়ার লোকসভা কেন্দ্রের সদ্য নির্বাচিত সাংসদ, চিকিৎসক সুভাষ সরকার বেনোজল নিয়ে চিন্তিত নন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘রাজনৈতিক সাফল্যের পর যোগদানের আগ্রহ স্বাভাবিক৷ অনেকেই এই সময় দলে যোগ দেবেন৷ যারা আসবে, তাদের পরিশোধিত হতে হবে৷ আমাদের নীতি-আদর্শের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে৷ তবেই তারা দলে থাকতে পারবে, নইলে পারবে না৷ আরএসএস-এর দীর্ঘদিনের সংগঠক এই সাংসদ জানান, এ জন্য বিজেপিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে৷ বছরে চারবার এই প্রশিক্ষণ হয়৷ সেখানে শিখিয়ে-পড়িয়ে নেওয়া হবে নবাগত নেতা-কর্মীদের৷'‘

তবু মনিরুলের ঘটনার পর বিজেপি নেতৃত্ব একটু সাবধানে পা ফেলছেন৷ আরএসএসের দেখানো পথে ছাঁকনি পদ্ধতির সাহায্যে বেনোজল রোখার চেষ্টা হবে বলে বিজেপি সূত্রের খবর৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে একটি বাছাই কমিটি গড়ার নির্দেশ দিয়েছেন৷ এই কমিটি যোগদানে ইচ্ছুক নেতাদের আবেদন খতিয়ে দেখে ছাড়পত্র দেবে৷ একইসঙ্গে বিজেপিতে আদি ও নব্য নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ এই কমিটি নবাগতদের উপর নজরদারি রাখবে, যাতে কোনো বিরোধ সৃষ্টি না হয়৷

বিজেপির ছাঁকনি তত্ত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ৷ অধ্যাপক শিবাজীপ্রতিম বসু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের ৪০ জন বিধায়ক যোগাযোগ রেখেছেন৷ অমিত শাহ সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতাকে, যদি সম্ভব হয়, দল অটুট রাখুন৷ তৃণমূলের যে নেতাদের দলে নেওয়ার কথা বিজেপির শীর্ষ দুই নেতা বলেছেন, তাঁদের জন্য কি ছাঁকনির ব্যবস্থা ছিল? তাই বেনোজল নিয়ে হইচই স্রেফ কথার কথা৷' অধ্যাপকের বক্তব্য, ‘ক্ষমতায় পালাবদলের পর বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসেও অন্য দল থেকে নেতা-কর্মীরা ঢুকে পড়েছিলেন৷ পশ্চিমবঙ্গে এটা নতুন কিছু নয়৷ বিজেপির ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে এবং হবে৷ ছাঁকনি কাজে আসবে না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন