বেনিনে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 06.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বেনিনে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ

শুধু শিল্পোন্নত বিশ্ব নয় আফ্রিকার মতো মহাদেশেও প্লাস্টিক বড় সমস্যা৷ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করতে ও সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে একজন অ্যাক্টিভিস্ট অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন৷

সান্ড্রা ইডোসু পরিবেশ সংরক্ষণের ব্রত গ্রহণ করেছেন৷ তিনি বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে সেই লক্ষ্যে প্রচার চালান৷ তিনি মনে করেন, শিশুরা পরিবর্তনের প্রকৃত ‘চালিকা শক্তি'৷ সমাজ, বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের মধ্যে শিশুরাই পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দেবে৷ তাঁর মতে, পরিবেশের উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয় স্তরে উৎপাদিত পণ্য কেনা উচিত৷ তাহলে কার্বন নির্গমন কমবে৷ তিনি পাহু কপোভি গ্রামে এসে প্রচার চালিয়েছেন৷

বেনিনে প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ করতে একটি আইন রয়েছে৷ তা সত্ত্বেও সেখানে প্রায়ই প্লাস্টিক ব্যাগে খাবার বিক্রি করা হয়৷ শিশুরা এমনটা দেখেই বড় হয়েছে৷ কিন্তু ইডুসু তাদের বুঝিয়ে বলছেন, যে এই ব্যাগ তৈরি করতে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম ব্যবহার করা হয়, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য যা ক্ষতিকর৷

‘সাশে এলুয়ে' বা ‘ব্লাস্টেড ব্যাগ' নামের অভিযানের মাধ্যমে সে কথা মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ স্কুল পড়ুয়া হিসেবে দেও-গ্রাসিয়াস ক্লেপকে বলে, ‘‘আমাদের প্লাস্টিক ব্যাগ এড়িয়ে চলা উচিত৷ কিন্তু একান্ত ব্যবহার করতে হলে ‘ব্লাস্টেড ব্যাগ' কথাটা বলতে হবে৷ তবে ব্যবহার না করলেই ভালো, কারণ সেটি অনেক রোগের কারণ৷''

ভিডিও দেখুন 03:44

বেনিনে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ

ইডোসু একদল স্বেচ্ছাসেবীকে কোটোনু শহরে ‘ইকো রান' দৌড়ের প্রস্তুতিতে সাহায্য করছেন৷ দৌড়ানোর পথে যত বেশি সম্ভব প্লাস্টিক জঞ্জাল সংগ্রহ করাই হলো লক্ষ্য৷ বেনিনে এখনো পর্যন্ত আয়োজিত ২০টি এমন দৌড়ে কয়েক'শো মানুষ অংশ নিয়েছেন৷ তাঁরা অভিযানের সময়ে অন্য মানুষের সঙ্গেও কথা বলেন৷ সবাই বিষয়টি ভালোভাবেই গ্রহণ করছে৷ ইকো রানের অংশগ্রহণকারী হিসেবে কারিনা মেমেভেনি দা সিলভা মনে করেন, ‘‘আমার মতে, এটা দারুণ এক উদ্যোগ৷ শহরের প্রতি এটা আমাদের একটা অবদান৷ দেখাতে চাই যে কোটোনু আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷''

তিন বছর আগে ইডোসু ‘সোশাল এনগেজমেন্ট অ্যাকশন' নামের এক সংগঠন গড়ে তোলেন৷ জঞ্জাল সাফাই ইভেন্টের পাশাপাশি তারা প্লাস্টিক ব্যাগের বিরুদ্ধে একটি পিটিশন সংসদে অনুমোদন করাতে পেরেছে৷ সান্ড্রা ইডোসু বলেন, ‘‘সেই আইন অনুমোদনের পর আমাদের সমাজের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে৷ মানুষকে বোঝাতে হবে, এমন ব্যাগ কেন তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক৷ এই আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদেরও শক্তি প্রয়োগ করতে হবে৷''

অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে তিনি কোনো বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দক্ষ৷ সেইসঙ্গে সান্ড্রা একজন সফল ব্যবসায়ী৷ বিশেষ করে মার্কেটিং বা বিপননের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষজ্ঞ৷ রিসাইক্লিং শিল্পী ও স্থানীয় হস্তশিল্পীদের তৈরি পণ্য বিক্রি করার জন্য তাঁর একটি দোকানও রয়েছে৷ সান্ড্রা ইডোসু বলেন, ‘‘এখানে আমরা রাফিয়া নামের হাতে বোনা কাপড়, স্থানীয় কাঠ, কড়ি ইত্যাদি দিয়ে পণ্য ও শিল্প তৈরির ক্ষেত্রে পারদর্শী৷ হস্তশিল্প পণ্য সাধারণত পরিবেশবান্ধব হয়৷ প্রকৃতির কোলে পাওয়া উপকরণের রূপান্তর ঘটিয়ে সেগুলিকে আমরা দ্বিতীয় জীবন দেই৷ ‘আফ্রিকার রং' নামের এই দোকান শুদ্ধ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের লক্ষ্যে সংগ্রামের অংশমাত্র৷ আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় সব কিছু আছে৷ সেটা করা অবশ্যই সম্ভব৷''

সান্ড্রা ইডোসু নিজের মিশনের কাজে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন৷ বেনিনকে আরও পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর করে তোলাই তাঁর প্রায় সব কাজের লক্ষ্য৷

মিলকে/গানকিন/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়