বেথলেহেম যাত্রা ছিল অভিবাসী সংকটের মতো: পোপ | বিশ্ব | DW | 25.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বেথলেহেম যাত্রা ছিল অভিবাসী সংকটের মতো: পোপ

জোসেফ আর মেরির বেথলেহেম যাত্রাকে চলতি উদ্বাস্তু সংকটের সঙ্গে তুলনা করেছেন পোপ ফ্রান্সিস৷ তাঁর মতে,অভিবাসীদের মর্যাদা দান খ্রিষ্টধর্মের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ৷

সেন্ট পিটার্স বাসিলিকায় ক্রিসমাস ইভের প্রার্থনাসভায় পোপ বলেন, বাইবেলের আমলে জোসেফ আর মেরি যা করেছিলেন,  আজকের উদ্বাস্তুরা ঠিক সেভাবেই দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন৷

দশ হাজার বিশ্বাসীর সামনে পোপ ফ্রান্সিস বলেন যে, যিশুখ্রিষ্টের বাবা-মায়ের পলায়ন সম্পর্কে নিউ টেস্টামেন্টে যা বলা আছে, আজ লক্ষ লক্ষ মানুষ সুন্দরতর জীবনের আশায় ঠিক সেইভাবে স্বদেশ পরিত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন৷ কোনো মানুষ ‘‘পৃথিবীতে তাদের জন্য কোনো জায়গা নেই,'' এই অনুভূতির সম্মুখীন হবে না, বলে পোপ আশা প্রকাশ করেন৷

রোমান ক্যাথলিক ধর্মের একটি পবিত্রতম স্থানে রবিবার সন্ধ্যায় মেরি ও জোসেফের নাজারেথ থেকে বেথলেহেম যাত্রার কাহিনী পাঠ করা হয়৷ তারা বেথলেহেম যাচ্ছিলেন রোমান সম্রাট সিজার অগাস্টাসের নির্দেশিত একটি আদমসুমারিতে অংশগ্রহণ করার জন্য৷

‘‘মেরি আর জোসেফের পদচিহ্নে আরো কত মানুষের পদচিহ্ন আঁকা আছে,'' পোপ তাঁর ভাষণে বলেন৷ ‘‘আমাদের কালে আমরা কতশত পরিবারের পদচিহ্ন দেখতে পাই, যারা যাত্রা করতে বাধ্য হয়েছে৷ আমরা লক্ষ লক্ষ মানুষের পদচিহ্ন দেখতে পাই, যারা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেননি, বরং স্বদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন ও প্রিয়জনদের পিছনে ফেলে গেছেন,'' বলেন পোপ ফ্রান্সিস৷

মানুষপাচারকারীদের নিন্দা

ফ্রান্সিস বিশেষ করে সেই সব মানুষপাচারকারীদের নিন্দা করেন, যাদের তিনি ‘‘আজকের হেরড'' বলে বর্ণনা করেন ও বলেন যে, তারা ‘‘তাদের ক্ষমতা ও সম্পদ বাড়ানোর জন্য নিরপরাধ ব্যক্তিদের রক্তপাত করতেও দ্বিধা বোধ করে না৷'' নিউ টেস্টামেন্টে বর্ণিত কাহিনীতে জুডিয়ার রাজা হেরড বেথলেহেমের কাছে জাত সব পুরুষ সন্তানকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেননা যিশু তাঁকে একদিন ক্ষমতাচ্যুত করবেন, বলে হেরডের আশঙ্কা ছিল৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

৮১ বছর বয়সি পোপের পূর্বপুরুষেরা ইটালি থেকে আর্জেন্টিনায় এসেছিলেন৷ পোপ ফ্রান্সিস স্বয়ং অভিবাসীদের প্রতি সমর্থনকে তাঁর নীতির একটি মুখ্য উপাদানে পরিণত করেছেন, যার ফলে প্রায়ই রাজনীতিকদের সঙ্গে তাঁর বিরোধিতার সূত্রপাত ঘটে৷

বড়দিনের মর্ম

বিশ্বের ১২০ কোটি ক্যাথলিকদের নেতা সব ক্যাথলিক ধর্মানুরাগীর প্রতি বড়দিনের সময় উৎসবটির মর্মার্থ সম্পর্কে একবার নিভৃতে চিন্তা করার আহ্বান জানান৷ ‘‘বড়দিনের আগের ঘণ্টাগুলিতে আমি আপনাদের প্রতি যিশুখ্রিষ্টের জন্মের দৃশ্যের সামনে এক মুহূর্ত নীরবে প্রার্থনা করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যাতে আপনারা বড়দিনের বাস্তবিক মর্ম উপলব্ধি করতে পারেন,'' বলেন পোপ৷

রবিবারের দেড় ঘণ্টার প্রার্থনাসভা শুরু হয় ক্যাথলিক ধর্মের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান দিয়ে, যখন পোপ শিশু যিশুর একটি মূর্তির আবরণ মোচন করেন – ক্যাথলিক আচারে যা যিশুর জন্মের প্রতীক বলে গণ্য করা হয়৷ এই সময় সারা বিশ্ব থেকে আগত শিশুরা একটি বেদীর উপর পুষ্পাঞ্জলি দেয়৷

বড়দিনে সারা বিশ্বের চোখ থাকে ভ্যাটিকানের দিকে, কেননা পোপ ফ্রান্সিস দ্বিপ্রহরে অলিন্দ থেকে (নগরী ও বিশ্বের প্রতি) তাঁর প্রথাগত ‘উর্বি এট অর্বি' বার্তা প্রদান করে থাকেন৷

এ মাসের গোড়ার দিকে পোপ একটি পাঁচদিনব্যাপী এশিয়া সফরে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর করেন, যেখানে তিনি সচক্ষে মুসলিম রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করেছেন৷

এসি/ডিজি (এপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন