বেটোফেন সম্পর্কে ভুল ধারণা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 18.09.2008
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

বেটোফেন সম্পর্কে ভুল ধারণা

বিশ্বখ্যাত সংগীতস্রষ্টা বেটোফেন ব্যক্তিমানুষ হিসাবে খুব সহজ ছিলেন না৷ কানে শুনতে না পারার সমস্যাটা সব সময় পীড়িত করত তাঁকে৷ খিটখিটে মেজাজি , নারীসঙ্গহীন এক মানুষ ছিলেন তিনি৷

বন শহরে বেটোফেন-এর মুর্তি

বন শহরে বেটোফেন-এর মুর্তি

প্রচলিত কোনো কাঠামোতেই ফেলা যাবে না নিঃসঙ্গ ও অসাধারণ প্রতিভাবান এই ব্যক্তিত্বকে৷ অধীনস্থ কর্মচারী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ ব্যক্তি বা রাজা রাজড়া কাউকে ছাড় দিতেন না তিনি৷

ব্যক্তি বেটোফেন

ব্যক্তি বেটোফেন সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি, তার বেশির ভাগই পাওয়া গেছে বেটোফেনের চিঠিপত্র ও দিনলিপি থেকে৷ চিঠিতে তিনি মানুষের মন্দ দিক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ শ্রেণীগত পার্থক্যের কারণে তাঁর পক্ষে যে পছন্দের কোনো মেয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়া সহজ ছিল না, সে বিষয়েও অনুযোগ করেছেন তিনি৷

Ludwig van Beethoven bei einem Treffen von 1812

বেটোফেনকে নিয়ে ১৮১২ সালে আঁকা চিত্রকর্ম

নিজেকে তিনি খুব পরিশীলিত বলে দাবি করেননি কখনও৷ আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু বান্ধব কাউকে বকা ঝকা করতে ছাড়তেন না বেটোফেন৷ এমনকি যে রাজন্যের কাছ থেকে প্রচুর সাহায্য পেয়েছেন, তাঁকেও কড়া কথা বলতে ছাড়েননি বেটোফেন৷ তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেছেনঃ 'রাজা, আপনি আজ যা, তা হঠাত্ করে জন্ম সূত্রে পাওয়া৷ কিন্তু আমি আজ যা, তা অর্জন করে পাওয়া৷ পৃথিবীতে হাজার হাজার রাজা রাজড়া আগেও ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন৷ কিন্তু বেটোফেন একমেবাদ্বিতীয়ম৷'

সবার প্রয়োজনে বেটোফেন

বেটোফেনের চিঠিপত্র বা দিনলিপি থেকে যার যখন যা প্রয়োজন, সেই অংশটুকুই বেছে নিয়েছেন ৷ সেজন্য বেটোফেনের কোনো কোনো উক্তিকে হয়তো রাজনীতিগন্ধী বলে মনে হবে, যাতে রয়েছে প্রচ্ছন্ন বিদ্রোহের আভাস৷ আবার কোনো মন্তব্যে ফুটে ওঠে আভিজাত্যের দাম্ভিকতা৷ তাই পরবর্তীতে একনায়ক শাসকেরা বেটোফেনের সংগীতের মাধুর্যকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করার সুকৌশলী প্রচেষ্টা চালিয়েছে৷

১৯৩৭ সালে হিটলারের জন্মোত্‌সবে বাজানো হয়েছে বেটোফেনের নবম সিম্ফনি৷ হিটলারের মৃত্যুর খবরেও বেতারে ভেসে এসেছে বেটোফেনের এই বিখ্যাত সিম্ফনি৷ অবশ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ভাইমারার প্রজাতন্ত্রের সময়ও রাজনীতিতে বেটোফেনের সংগীতের প্রয়োগ লক্ষ্য করা গেছে৷ সেই সময় ডানপন্থী রাজনীতিকরা তাঁর সংগীতে খুঁজে পেয়েছেন ফরাসীবৈরিতা আর পরবর্তীতে বামপন্থীরা পেয়েছেন বিপ্লবাত্মক অনুপ্রেরণা৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রাক্তন পুর্ব জার্মানির কমুনিস্ট শাসকেরা বেটোফেনের সংগীতে আবিষ্কার করেছেন বিশ্বশান্তির জন্য এক সংগ্রামী সুর৷

Musik Ludwig van Beethoven komponiert

বেটোফেন-এর নিজস্ব জগত্‌ ছিলো এরকমই

বেটোফেন, এক খামখেয়ালি শিল্পী ?

বেটোফেনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা, মাত্রাধিক অতিরঞ্জন বা তাঁর সংগীতের ভুল ব্যাখ্যা ছাড়া কিছুই বলা যায় না৷ বেটোফেন স্থান কাল পাত্র ভেদে বিভিন্ন সময়ে যা বলেছেন, তা বিচার করতে হবে সময় ও অবস্থার প্রেক্ষিতে৷ সংগীতে একটা নতুন দিক নির্দশনা দেয়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য৷ সংগীতেই সঁপে দিয়েছিলেন তিনি তাঁর মনপ্রাণ৷ যা তাঁকে আর্থিক দিক দিয়েও স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছিল৷ কিন্তু তিনি ছিলেন প্রচলিত প্রথাবিরোধী এক শিল্পী৷

বসবাস করতেন ভিয়েনার অদূরে নিতান্তই সাদামাটা এক বাড়িতে৷ চেহারা বা পোশাক পরিচ্ছদের পারিপাট্য নিয়ে মাথা ঘামাতেন না৷ ছিলেন চিরকুমার৷ সংগীতের জন্যই যেন ছিল তাঁর বেঁচে থাকা৷ সকালে সংগীত রচনা, বিকালে বেড়াতে যাওয়া, দুপুরে ভাল খাওয়া, এই ছিল তাঁর দৈনন্দিন রুটিন৷ বেটোফেনের অসংখ্য ছবি ও প্রতিকৃতি থেকে মানুষের মনে একটা ধারণাই বদ্ধমূল হয়ে আছেঃ এলোমেলো চুল, গভীর দৃষ্টি৷ বিশাল মাপের এক সংগীত প্রতিভা৷ কিন্তু তাঁর জীবনের নিদারুণ এক ট্র্যাজেডি, তাঁর শ্রুতিহীনতার কথা একবারও কি মনে পড়ে মানুষের ?

বেটোফেনের বধিরত্ব

বেটোফেনের বয়স যখন ৩০-এর কিছু ওপরে, তখন তাঁর শ্রুতিজনিত সমস্যাটা এতই বেড়ে যায় যে, তা আর গ‌োপন করা সম্ভব হয়নি৷ লোকের মনে প্রশ্ন জাগে, একজন বধির সংগীতকার, এটা কি করে সম্ভব ? বেটোফেনের এক লেখায় ফুটে ওঠে তাঁর সেই মর্মবেদনা. 'আমার কানে দিনরাত সব সময় অসহনীয় এক শোঁ শোঁ শব্দ হচ্ছে'৷ এই সময়ে তিনি আত্মহত্যার চিন্তাও করেন৷ এমন কি অন্তিম এক চিঠিও লিখেছিলেন৷ যা অবশ্য পরে পাঠান‌ো হয়নি৷

বধিরত্ব যে বেটোফেনকে কতটা কাতর করেছিল, তা বোঝা যায়, এই চিঠির মর্মস্পর্শী কয়েকটি লাইন থেকেঃ 'ওহে মানুষগণ, তোমরা আমাকে মনে কর - বৈরীভাবাপন্ন, একগুঁয়ে, অসামাজিক এক ব্যক্তি, কিন্তু তা যে আমার প্রতি কি অন্যায় অবিচার'!

সংশ্লিষ্ট বিষয়