বেটোফেন উত্‌সবের ইতিহাস | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 05.09.2008
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

বেটোফেন উত্‌সবের ইতিহাস

জার্মানির প্রাচীনতম সংগীত উত্‌সবের মধ্যে অন্যতম বন শহরের বেটোফেন সংগীত উত্‌সব৷ দেড়শ বছরেরও আগে যাত্রা শুরু এই উত্‌সবের৷ অনেক চড়াই উতরাই পার হয়ে আজ বড় একটি আন্তর্জাতিক সংগীত উত্‌সব হিসাবে খ্যাত বেটোফেন সংগীত উত্‌সব৷

বেটোফেন উত্‌সব, ২০০৭ সালে ...

বেটোফেন উত্‌সব, ২০০৭ সালে ...

প্রতি বছর আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত চলে এই উত্‌সব৷

কালজয়ী সংগীত প্রতিভা লুডভিগ ফান বেটোফেন ছিলেন অসংখ্য ধ্রুপদী সংগীতস্রষ্টা ও সংগীতকারের দিক নির্দেশক৷ যারা তাঁকে অগাধ ভক্তি শ্রদ্ধা করতেন৷

Logo Beethovenfest Bonn

বেটোফেন উত্‌সবের লোগো

খ্যাতনামা পিয়ানোবাদক ফ্রানস লিসত্ও ছিলেন তাঁদের একজন৷ বেটোফেনের বিখ্যাত অনেক সিম্ফনির ওপর ভিত্তি করে পিয়ানোর জন্য সংগীতাংশ রচনা করেছেন তিনি৷ ১৮৩৯ সালে হঠাত্ একদিন তিনি জানতে পারেন, তাঁর শ্রদ্ধাভাজন সংগীত স্রষ্টা বেটোফেনের জন্য জন্মস্থান বন শহর আর্থিক সংগতির অভাবে কোনো স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করতে পারছে না৷ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ চিত্তে ত্বরিত গতিতে এই সমস্যার একটা সুরাহা খোঁজার চেষ্টা করেন তিনি এবং উদ্যোগ নেন নিজেই অর্থ সংগ্রহ করার৷ অবশেষে ১৮৪৫ সালের ১২ আগস্ট এল সেই প্রতীক্ষিত দিনটি৷ বন শহরেরই সুপরিচিত স্থান ম্যুনস্টারপ্লাত্‌সে এক মনোরম সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হল বেটোফেনের স্মৃতিস্তম্ভ৷ অনুষ্ঠানে ফ্রানস লিসত্ পরিচালিত অর্কেস্ট্রা মুগ্ধ করে শ্রোতাদের৷ সেই থেকে যাত্রা শুরু হলেও আজকের আন্তর্জাতিক সংগীত উত্‌সবে উত্তরণের পথে দীর্ঘ সময় পাড়ি দিতে হয়েছে বেটোফেন উত্‌সবকে৷ বলেন বেটোফেন সংগীত উত্‌সবের মুখপাত্র ড. টিলমান শ্ল্যোম্প৷

তিনি আরো জানান, স্মৃতিসৌধ উন্মোচনের পর নানা বাধা বিঘ্নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে বেটোফেন সংগীত উত্‌সব৷ ১৯২০ এর দশকে বেশ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে উত্‌সবটি৷ কিন্তু এর পরপরই নগর কর্তৃপক্ষের উত্‌সাহে ভাটা পড়ে৷ বেটোফেন সংগীত উত্‌সবটিকে একেবারেই বাদ দেয়ার চিন্তা করেন তাঁরা৷ কিন্তু বন শহরের অধিবাসীরা তা মেনে নিতে পারেননি৷

Beethoven Denkmal in Bonn

বন-এ বেটোফেনেন মুর্তি

নিজেদের উদ্যোগেই বেশ কয়েক বছর বেটোফেন উত্‌সবটি চালিয়ে যান তারা৷ এর ফলে নগর কর্তৃপক্ষেরও টনক নড়ে৷ উত্‌সবটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তাঁরা৷ দায়িত্ব দেন একজন পরিচালকের হাতে৷

গত ১০ বছরে বনের বেটোফেন সংগীত উত্‌সব দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশেষ স্থান করে নিতে পেরেছে৷ বেটোফেন উত্‌সবের সাফল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় বন শহর বিশাল এক বেটোফেন উত্‌সব ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে৷ প্রশ্ন দেখা দিতে পারে, এই উত্‌সব কি আন্তর্জাতিক অন্যান্য উত্‌সবের সমমানের? এ প্রসঙ্গে টিলমান শ্ল্যোমপ আরো বললেন, আমরা অস্ট্রিয়ার জালসবুর্গের মত অতটা বড় মাপের না হলেও আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে আমাদের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম ক্রমশই বাড়ছে৷ অন্যান্য দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছি আমরা৷ বিশেষ করে আকৃষ্ট হচ্ছেন তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা৷ সব মিলিয়ে বেশ একটা সাড়া পড়ে গেছে বেটোফেন সংগীত উত্‌সবকে ঘিরে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়