বৃক্ষরোপণ করে বনাঞ্চল বাঁচানোর উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 23.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বৃক্ষরোপণ করে বনাঞ্চল বাঁচানোর উদ্যোগ

গোটা বিশ্বে বনজঙ্গল লোপ পাচ্ছে, যার পরিণতি মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে পারে৷ এক উদ্যোগের মাধ্যমে পুনর্বনায়নের ক্ষেত্রে গতি এলেও যথেচ্ছ গাছ কাটার ফলে সেই সুফল ভোগ করা কঠিন হচ্ছে৷

শুধু ব্রাজিলেই প্রতি মিনিটে সাড়ে চারটি ফুটবল মাঠের সমান রেন ফরেস্ট নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে৷ গোটা বিশ্বেও বনজঙ্গলের আয়তন নাটকীয় মাত্রায় কমে চলেছে৷

অথচ মানুষের অস্তিত্বের জন্য বনজঙ্গল অত্যন্ত জরুরি৷ অরণ্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়, অক্সিজেন সৃষ্টি করে এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্বন-ডাই-অক্সাইড ধরে রাখে৷ ভালো ব্যবস্থাপনা থাকলে মিশ্র জাতের গাছের জঙ্গল কাঠ সরবরাহ করে এবং সমৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তরান্বিত করে৷ তারপর নতুন করে বনায়ন শুরু হয়৷ চারাগাছ সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে৷

জঙ্গলের নিজস্ব নার্সারিতে লাখ লাখ ওক গাছের চারা প্রস্তুত করা হয়৷ সেই চারাগাছ নতুন জঙ্গল সৃষ্টির চাবিকাঠি৷ কিন্তু মনে সংশয় থেকেই যায়৷ সেটা কি আদৌ সম্ভব? বনায়নের মাধ্যমে সত্যি কি বনজঙ্গল আবার চাঙ্গা করে তোলা যায়?

অরণ্যচাঙ্গাকরেতপুলতেবনচ্যালেঞ্জ'

বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝা প্রয়োজন৷ দশ বছর আগে অনেক দেশের প্রতিনিধি জার্মানির বন শহরে ‘বন চ্যালেঞ্জ' নামের এক অভিযানে মিলিত হয়েছিলেন৷ তারা বনজঙ্গল ও পতিত জমিতে আবার গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করেন৷ প্রত্যক দেশ নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিল৷

২০২০ সালের মধ্যে তারা ১৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বনায়ন করতে চেয়েছিলেন৷ এমন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও বিশাল আকারের কর্মযজ্ঞ সফল হলে নতুন করে গাছ লাগানো এলাকা গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রায় অর্ধেকের সমান হতো৷

আগামী দশ বছরে এই দেশগুলি ৩৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় নতুন করে বৃক্ষরোপণ করতে চায়৷ সেই লক্ষ্য সফল হলে গোটা ভারতের আয়তনের বেশি এলাকা সবুজ হয়ে উঠবে৷ বিশ্বের ইতিহাসে এর আগে এত বড় আকারে কোনো পুনর্বনায়ন কর্মসূচি স্থির হয় নি৷ অসংখ্য দেশ সেই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে৷ পেরুর আন্দেস পর্বত থেকে শুরু করে আফ্রিকার অনেক দেশে কাজ চলছে৷ ভারত ও পাকিস্তানও অংশ নিচ্ছে৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত কতটা সাফল্য এসেছে?

পুনর্বনায়নবনামগাছকাটারপ্রবণতা

রুয়ান্ডার বন দফতরের প্রধান জঁ-পিয়ের মুগাবো নিজস্ব মূল্যায়ন তুলে ধরে বলেন, ‘‘আমরা দেখেছি যে এখনো পর্যন্ত কমপক্ষে নয় লাখ হেক্টর এলাকায় পুনর্বনায়ন ঘটেছে৷ অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৫ শতাংশ ইতোমধ্যেই পূরণ করা গেছে৷''

মালাউয়ির মতো দেশও ‘বন চ্যালেঞ্জ'-এ অংশ নিচ্ছে৷ সেখানেও নতুন গাছ লাগানো হয়েছে৷ কিন্তু অন্য জায়গায় আবার গাছ কাঠার কারণে সামগ্রিক ফল বেশ নেতিবাচক৷ সে দেশের ফরেস্ট ল্যান্ডস্কেপ রেস্টোরেশন টাংগু টোমেও বলেন, ‘‘আমরা ৪৫ লাখ হেক্টর এলাকায় বনায়নের অঙ্গীকার করেছিলাম৷ সেই এলাকা কৃষিজমি, সংরক্ষিত অরণ্য, কমিউনিটি জঙ্গল, নদীর পাড়ে – অর্থাৎ সব জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে৷ তবে আমরা মাইনাসে চলছি, কারণ সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা সম্ভবত বছরে ৩৯ হাজার হেক্টর হারাচ্ছি৷ ২৪ হাজার হেক্টর এাকায় বৃক্ষরোপণ করে সামাল দেওয়া যাচ্ছে না৷''

একদিকে বনায়ন, অন্যদিকে কাঠ কাটা চলতে থাকলে ‘বন চ্যালেঞ্জ' জঙ্গলের ক্ষয় বড়জোর কিছুটা থমকে দিতে পারবে৷ সে কারণে গোটা বিশ্বে বনাঞ্চল এখনো নাটকীয় মাত্রায় কমে চলেছে৷

গত দশকে চার লাখ সত্তর হাজার বর্গ কিলোমিটার জঙ্গল লোপ পেয়েছে, আয়তনের বিচারে যা সুইজারল্যান্ডের তুলনায় বড়৷ এখনই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে ‘বন চ্যালেঞ্জ'-এর লক্ষ্য এখনো পূরণ করা হয়নি৷

আয়োজকরা বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? আইইউসিএনের প্রেস অফিসার কারোল স্যাঁ লোরঁ বলেন, ‘‘এটা সত্যি খুব ট্র্যাজিক৷ কারণ পুনর্গঠন সব সমস্যার জবাব হতে পারে না৷ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবশিষ্ট জঙ্গলের সুরক্ষার কাজও চালিয়ে যেতে হবে৷ সেই সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে নেওয়া কখনোই উদ্দেশ্য ছিল না৷''

জার্মানিতেনানাধরনেরগাছেরমিশ্রঅরণ্যগড়েতোলারউদ্যোগ

‘বন চ্যালেঞ্জ'-এর ক্ষেত্রে জার্মানি কোনো লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে নি৷ কারণ এখনই সে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ বনাঞ্চল হিসেবে অক্ষত রয়েছে৷ কিন্তু বেশিরভাগ জঙ্গলে একই ধরনের গাছপালা রয়েছে৷

সে কারণে ফরেস্ট অফিসাররা সে দেশেও নতুন মিশ্র জঙ্গল গড়ে তুলছেন৷ ব্রান্ডেনবুর্গ রাজ্যের ফরেস্ট অফিসার ক্রিস্টিয়ান হোম বলেন, ‘‘নানা ধরনের গাছের মিশ্র অরণ্য ক্ষতিকর জীব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মতো সমস্যা অনেক স্থিতিশীলভাবে মোকাবিলা করতে পারে৷ গোটা ইকোসিস্টেমের জন্য এর মূল্য অনেক বেশি, কারণ অনেক বেশি প্রজাতির জীব সেখানে থাকতে পারে৷ নতুন ভূগর্ভস্থ পানির জোগান, মাটির উচ্চ মান, জমির পুষ্টি এবং জঙ্গলের মালিকের আর্থিক বোঝার ক্ষেত্রেও এমন জঙ্গল অনেক বেশি উপকারী৷''

মিশ্র অরণ্য রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আরও পরিশ্রমের হলেও কাঠ বিক্রি করে আয়ের মাত্রাও বেশি হয়৷ বনায়নের উদ্যোগে সক্রিয় বেশিরভাগ দেশই অর্থনৈতিকভাবে প্রয়োনীয় এমন জঙ্গল চাইছে৷

এখনো অনেক দেশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পিছিয়ে রয়েছে বটে, তবে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে গেছে৷

ক্রিস্টিয়ান প্রিসেলিউস/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়