বুরকিনি বনাম বিকিনি: বিতর্ক মিশরে | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 26.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মিশর

বুরকিনি বনাম বিকিনি: বিতর্ক মিশরে

রিসোর্টের সুইমিং পুলে এক নারীর বুরকিনি পরে নামা নিয়ে মিশরে চলছে ব্যাপক বিতর্ক৷ নারীর পোশাক কোথায় কেমন হবে, তা ঠিক করার অধিকার কার, এসব প্রশ্নে জাতীয় পর্যায়েও চলছে আলোচনা৷

ইয়াসমিন সামির নামের এক নারী তার পরিবারকে নিয়ে মিশরের উত্তর উপকূলের এক রিসোর্টে ছুটি কাটাচ্ছিলেন৷ এই অঞ্চলের রিসোর্টগুলোতে বিদেশি পর্যটকরা ছাড়াও দেশটির অভিজাত শ্রেণির মানুষেরা ছুটি কাটাতে আসেন৷ দেশটির রক্ষণশীল মুসলিম সমাজের অনেকের মতো বুরকিনি পরেই রিসোর্টের সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে নেমেছিলেন সামির৷

কিন্তু এরপরই শুরু হয় হল্লা৷ সাঁতার কাটতে আসা অন্য অনেক নারী বুরকিনি পরার প্রতিবাদ করেন৷ কেউ কেউ তাকে এমন পোশাক ‘চোখের জন্য পীড়াদায়ক' উল্লেখ করে সেখান থেকে বের হয়ে যেতেও বলেন৷

সামির কেবল প্রচণ্ড গরমে একটু প্রশান্তি পেতে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা জলে গা ভেজাতে চাচ্ছিলেন৷ কিন্তু এমন ঘটনা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে৷ জাতীয় পর্যায়েও এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়৷ এ ঘটনার মধ্য দিয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজেও নানা শ্রেণির অন্তর্নিহিত সংঘাতের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে৷

বার্তা সংস্থা এপিকে সামির জানান, ‘‘আমি শুরুতে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম৷'' কিন্তু তিনি দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেন প্রতিবাদ করার৷ সামির ও তার স্বামী পুলের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যদের সঙ্গে বুরকিনি পরা নিয়ে ঝগড়া করছেন, এমন একটি ভিডিও গত মাসেই ভাইরাল হয়৷

মিশরের বেশিরভাগ নারী ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের আহ্বান মেনে মাথা ঢাকা পোশাক পরেন৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও হিজাব বা বুরকিনি পরা নারীরা অভিজাত বিভিন্ন এলাকা বা স্থানে বৈষম্যের শিকার হন৷ অনেকক্ষেত্রেই এমন পোশাককে পশ্চাদপদ এবং নিম্নশ্রেণির বলে মনে করা হয়৷

দেশটির পর্যটক অধ্যুষিত বেশিরভাগ এলাকার পানশালা বা ক্লাবে হিজাব পরা নারীদের ঢুকতে দেয়া হয় না৷ একই ক্লাবে হিজাব পরা নারীর অবস্থান এবং মদ পরিবেশন করা নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকেই৷ উপকূলের এলাকাগুলোতে যেসব বিলাসবহুল রিসোর্ট গড়ে উঠেছে, সেগুলোতে বুরকিনিকে উপহাসের দৃষ্টিতে দেখা হয়

এর উলটো দিকও রয়েছে৷ মিশরের গুটিকয়েক পাবলিক সমুদ্র সৈকতে বেশিরভাগ নারীই হিজাব বা বুরকিনি পরেই সাঁতার কাটতে যান৷ সেসব স্থানে কেউ বিকিনি পরে সাঁতার কাটতে গেলে তাদের হয়রানি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে৷ সাঁতারের পোশাকে ছবি আপলোড করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও হেনস্তা হতে হয় মিশরের নারীদের৷

মুরকিনি পরে সুইমিং পুলে নামায় সামিরের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছিলেন, তাদের দাবি তার এই কাপড় সুইমিং পুলের জন্য অস্বাস্থ্যকর৷ কিন্তু এমন অভিযোগ মানতে নারাজ সামির৷ তিনি মনে করেন অভিযোগকারীদের মূল আপত্তি ছিল গা ঢাকা পোশাকেই৷

সামির ও তার স্বামী মোস্তাফা হাসানের সঙ্গে অন্যদের বাগবিতণ্ডার ভিডিও ফেসবুকে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে৷ এরই মধ্যে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন, শেয়ার হয়েছে ২০ হাজারের কাছাকাছি৷ সেখানে মন্তব্যে অনেকেই সামিরের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন৷ এমনকি জাতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় এক টক শোতে অতিথিরাও তার অধিকারের পক্ষেই কথা বলেছেন৷

সামির বলছেন, এই ঘটনার পর থেকে অনেকেই তাকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন৷ অনেক নারী আগে অস্বস্তিতে ভুগলেও এখন তারাও বুরকিনি পরে সাঁতার কাটার কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন

দোয়া মোহামেদ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হিজাব পরছেন৷ তিনি জানান, হিজাব পরার কারণে কায়রোর অভিজাত জামালেক এলাকার একটি পানশালায় তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি৷ তিনি মনে করেন, এই পুরো বিষয়টিই অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত৷ ‘‘অভিজাতরা মনে করেন হিজাব পরা নারীরা নিম্নশ্রেণির৷ ফলে তারা তাদের অন্যদের মতো সমান মর্যাদা দিতে চান না৷''

যে রিসোর্টে সামিরের বুরকিনি পরা নিয়ে ঝগড়ার ঘটনা ঘটেছে, সেই স্টেলা সিডি আবদেল রাহমান রিসোর্টের এক কর্মী জানিয়েছেন রিসোর্টে সাঁতার কাটার কাপড় দিয়ে তৈরি হলে বুরকিনি পরার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই৷ মিশরের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো নারী বুরকিনি পরার কারণে বৈষম্যের শিকার হলে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করতে পারেন৷

এডিকে/কেএম (এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন