বুদ্ধিজীবী বনাম দলীয় বুদ্ধিজীবী | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 09.07.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বুদ্ধিজীবী বনাম দলীয় বুদ্ধিজীবী

বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে৷ আর এখন বেশ চলছে দলীয় বুদ্ধিজীবী শব্দটি৷ এই বিতর্ক আর সংজ্ঞা সংকটের মধ্যে কেউ কেউ আবার নতুন বুদ্ধিজীবীর তালিকাও প্রকাশ করছেন৷

২০২০ সালের অমর একুশে বইমেলায় একটি স্টলে পাঠকদের ভিড়৷

২০২০ সালের অমর একুশে বইমেলায় একটি স্টলে পাঠকদের ভিড়৷

বাংলাদেশের চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদদের সাথে কথা বলে এটা স্পষ্ট যে বুদ্ধিজীবীরা জনগণের পক্ষে কাজ করেন৷ তারা নিজেদের স্বার্থ বিবেচনা করে কথা বলেন না৷ তারা সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক হন না৷ তাদের চিন্তা, তাদের গবেষণা বা তাদের কথা জাতিকে বা মানুষকে সঠিক পথ দেখায়৷

সাহিত্যিক এবং শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ভাষায়, বুদ্ধিজীবী তারা যারা নিজস্ব চিন্তা চেতনা দিয়ে জীবন পরিচালনা করেন৷ যারা পঠন বা পাঠনে অভ্যস্ত৷ যারা গভীর চিন্তা করতে পারেন সমাজ নিয়ে, মানুষ নিয়ে এবং যারা সত্যিকারের জ্ঞানের মধ্য দিয়ে প্রশ্নোত্তর পান৷ তারা তাদের জ্ঞান, বিবেক ও স্বচ্ছ চিন্তা দিয়ে এবং দূরদৃষ্টি দিয়ে  সমাজকে বিশ্লেষণ করতে পারেন এবং দিক নির্দেশনা দিতে পারেন৷

বিশ্লেকেরা বলছেন, যেসব বুদ্ধিজীবীরা সব সময় সক্রিয় থাকেন, মানুষের মুক্তির কথা বলেন তারা পাবলিক ইন্টেলকচুয়্যাল৷ যেমন এডওয়ার্ড সাঈদ৷ তিনি মুসলিম না হয়েও তার লেখালেখির মাধ্যমে প্যালেস্টাইনিদের জন্য মুক্তির নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ আর সে কারণেই অ্যামেরিকানরা তাকে বলে টেররিস্ট প্রফেসর৷ পাবলিক ইন্টেলকচুয়্যালদের দায় বেশি৷ আর জঁ পল সর্ত্র-এর মত বুদ্ধিজীবীরা চিন্তার জগতকে নাড়া দিয়েছেন৷  শান্তি ও মুক্তির জন্য কাজ করেছেন৷

বুদ্ধিজীবী আর পেশাজীবী এক নয়৷ তবে পেশাজীবীরাও কখনো কখনো বুদ্ধিজীবী হয়ে ওঠেন৷

বুদ্ধিজীবীর প্রথম শর্ত হলো তিনি স্বাধীন চিন্তা করবেন: নেহাল করিম

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তা দেখা গেছে৷ তারা ব্যক্তিগত স্বার্থের বাইরে গিয়ে মানুষের জন্য কথা বলেছন৷ মুক্তির জন্য কথা বলেছেন৷ মানুষের জন্য মাঠে নেমেছেন৷ বিবেকবান বুদ্ধিজীবীরা নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন৷ কথা বলেছেন বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে৷ কারণ বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইতো৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশেই বুদ্ধিজীবীদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়৷ কারণ তারা প্রচলিত চিন্তাগুলোকে নাড়িয়ে দেন৷ রাজনৈতিক রক্ষণশীল ও সাম্প্রদায়িক শক্তিও বুদ্ধিজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নেয় বলে মনে করেন চিন্তাশীলরা৷

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা এখানে সেইরকম বুদ্ধিজীবী পাচ্ছি না যাদের শক্তির কেন্দ্র গুলো অপছন্দ করলেও সমীহ করবে৷ যারা জাতির জন্য দাঁড়াবেন৷ পেশাজীবীরা দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে গেছেন৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও বিভক্ত৷ সত্যিকারের বুদ্ধিজীবীরা বিভিন্ন পন্থায় অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলেন৷’’

দলীয় বুদ্ধিজীবী শব্দটি বাংলাদেশে আজকাল বেশ শোনা যাচ্ছে৷ সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক নেহাল করিম তাদের বলছেন, ‘আওয়া-বাওয়া বুদ্ধিজীবী’ যার মানে আওয়ামী পন্থী বুদ্ধিজীবী ও বিএনপি পন্থী বুদ্ধিজীবী৷ তবে তারা আদতে বুদ্ধিজীবী কীনা তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন৷ তার কথা বুদ্ধিজীবীর প্রথম শর্ত হলো তিনি স্বাধীন চিন্তা করবেন৷ মানুষের পক্ষে কথা বলবেন৷ নিজের স্বার্থ চিন্তা করবেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘এখন পাওয়া যায় ‘পদক বুদ্ধিজীবী' যারা সরকারের কাছ থেকে নানা ধরনের পদক পান৷ তারা বুদ্ধি বেচে জীবিকা নির্বাহ করেন৷”

মহান মুক্তিযুদ্ধের পর এখানে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে৷ যখন যারা ক্ষমতায় এসেছেন তাদের তোষামোদকারী একটি বুদ্ধিজীবী শ্রেণি গড়ে উঠেছে৷ কেউ কেউ রাজকবিও হয়েছেন৷ ফলে বুদ্ধিজীবীর ধারণাই পাল্টে গেছে৷ নেহাল করিম বলেন,‘ ‘আব্দুল গাফফার চৌধুরী ৩৫ বছর আগে ইন্টেলকচুয়্যাল প্রোস্টিটিউট শব্দটি ব্যবহার করেছেন৷ তাদেরকে কেনা যায়৷ বুদ্ধিজীবীদের কেনা যায় না৷’’

নতুন বুদ্ধিজীবী শ্রেণি তৈরি হচ্ছে: আ-আল মামুন

এখন নতুন করে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন বুদ্ধিজীবীতার সক্রিয়তার জায়গা কোথায়? তারা মনে করেন, মূল ধারার গণমাধ্যম আর তাদের তুলে ধরছে না৷ তারা সক্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে৷ যাদের মানুষ পছন্দ করছেন তাদের ফলো করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে৷ এই চিন্তা সম্প্রতি মাঠে দিয়েছেন সাংবাদিক এবং দৈনিক দেশ রূপান্তরের উপ- সম্পাদক মাহবুব মোরশেদ৷ তার মতে, ‘‘বুদ্ধিজীবী কারা, তাদের ভূমিকা কী হবে সেটা গ্রামসি থেকে মিশেল ফুকোর আলোচনায় নির্ধারিত এবং স্পষ্ট৷ বুদ্ধিজীবীকে আমরা ব্যক্তি হিসেবে চিনব৷ তিনি কেনো মতাদর্শের ধারক বাহক হবেন না৷ তিনি নিজস্ব চিন্তা করবেন৷ তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করবেন৷ ব্যাখ্যা দেবেন৷ সাধারণ মানুষের মধ্যে তার চিন্তা ছড়িয়ে দেবেন৷ তিনি হবেন গণমুখী৷’’

তার মতে, এখন এই চিন্তার প্রকাশের জায়গা পরিবর্তন হচ্ছে৷ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে প্রচলিত ধারনার পরিবর্তন হচ্ছে৷
আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আ-আল মামুন মনে করেন, ‘‘নতুন একটি বুদ্ধিজীবী শ্রেণি তৈরি হচ্ছে৷ তারা বয়সে তরুণ৷ সমাজে রাষ্ট্রে নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে৷ ফলে এই শ্রেণির উদ্ভব অনিবার্য হয়ে উঠেছে৷ নতুন ধরনের প্রটেস্ট, সামাজিক প্রকাশ, চিন্তা প্রকাশ পাবে৷ রাজনীতি অর্থনীতি পরিবর্তন হচ্ছে৷ ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন হচ্ছে৷’’

তিনি মনে করেন, ‘‘এটা শুধু বাংলাদেশে নয় পুরো বিশ্বেই হচ্ছে৷ কারণ রাষ্ট্র কাঠামো এবং পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও নতুন রূপে আসছে৷ ইসলামী ও মার্কসবাদী ধারণায়ও পরিবর্তন এসেছে৷”

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়