বিষয়বস্তু নয়, কণ্ঠস্বরই মানুষকে আকর্ষণ করে | অন্বেষণ | DW | 14.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বিষয়বস্তু নয়, কণ্ঠস্বরই মানুষকে আকর্ষণ করে

কিছু মানুষের কণ্ঠ শুনলে আমরা মুগ্ধ হই৷ তাঁরা কী বলছেন তা নয়, কীভাবে বলছেন তার উপর আমাদের মনোযোগ অনেকটাই নির্ভর করে৷ এক বিজ্ঞানী কণ্ঠস্বর বিচারের এক অভিনব যান্ত্রিক পদ্ধতি সৃষ্টি করেছেন৷

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বা অ্যাপল কোম্পানির প্রয়াত কর্ণধার স্টিভ জবস অসাধারণ বক্তা৷ তবে যদি এমন ধারণা হয় যে, ভাষণের সময় বিষয়বস্তুই মূল কথা, তাহলে সেটা ভুল৷ কীভাবে সেটা বলা হচ্ছে, তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷

বিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের বক্তব্য কেউ ঠিকমতো শুনছে কিনা, তা অর্ধেকেরও বেশি কণ্ঠস্বরের উপর নির্ভর করে৷ শব্দতাত্ত্বিক অলিভার নিবুয়র বলেন, ‘‘আমি শুধু আপনার বাচনভঙ্গি পরিমাপ করতে পারি না৷ আমি প্রত্যেক মানুষকে আরো ভালো বক্তা করে তুলতে পারি৷''

কণ্ঠবিচার

নিবুয়রের সঙ্গে মিলে একটি পরীক্ষা চালানো হয়েছিল৷ সেই লক্ষ্যে ১২ জন স্বেচ্ছাসেবীকে আমাদের রেকর্ডিং স্টুডিওতে আনা হয়৷ তাঁদের মধ্যে অর্ধেককে জুরি বা বিচারক হতে হয়েছিল৷ বাকি অর্ধেক বক্তা৷ মহাকবি গ্যোটের ফাউস্ট নাটক থেকে তাঁদের একটি অংশ পড়ে শোনাতে বলা হয়েছিল৷

জুরির সদস্যরা বক্তাদের দেখতে পারেননি, শুধু প্রত্যেকের কণ্ঠ শুনেছেন৷ একজনের কণ্ঠ শুনে মনে হলো, যেন অঙ্কের প্রোফেসর বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন৷ এক বক্তা চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উঠেছেন, তবে কিছুটা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন৷

নিবুয়র এক ফর্মুলার মাধ্যমে ‘নিখুঁত' বা আরো ভালো করে বলতে হলে ‘সহজাত দক্ষতাসম্পন্ন' কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন৷ সেই লক্ষ্যে তিনি কণ্ঠগুলিকে বিভিন্ন প্যারামিটার বা বৈশিষ্ট্যে বিভক্ত করেছেন, যেমন গতি, ছন্দ, সুর, ভলিউম বা তীব্রতা এবং বিরতি৷ ১৬টি এমন বৈশিষ্ট্য মাপা হয়৷ তার ভিত্তিতে তিনি শ্রবণের ক্ষেত্রে দক্ষতার মাত্রা স্থির করেন৷ সর্বোচ্চ ১০০ পয়েন্ট পাওয়া সম্ভব৷

কোন কণ্ঠস্বর আকর্ষণীয়

নিবুয়র কি তাঁর এই পদ্ধতির মাধ্যমে জুরির সদস্যদের রায়ের পূর্বাভাষ দিতে পেরেছেন? তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী সেরা তিন বক্তা হলেন, প্রথম স্থানে নিনা, দ্বিতীয় স্থানে ফ্রেয়া এবং তৃতীয় স্থানে লুকাস৷

জুরমণ্ডলীর রায়ও প্রায় একই হয়েছে৷ তাঁরাও নিনাকে প্রথম স্থানে রেখেছেন৷ তবে তাঁদের বিচারে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রদবদল হয়েছে৷ অন্যান্যদের ক্ষেত্রে কম্পিউটার ও জুরিরা একমত৷ অলিভার নিবুয়র এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘কণ্ঠস্বর যোগাযোগের অতি প্রাচীন মাধ্যম৷ শব্দচয়ন, বাক্যগঠন ও ব্যাকরণ সৃষ্টির আগে থেকেই কণ্ঠের ব্যবহার হচ্ছে৷ সে কারণে আমাদের উপলব্ধি ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কণ্ঠের সরাসরি প্রভাব রয়েছে৷ প্রত্যেক শ্রোতা মনে মনে তার একটি ছবি সৃষ্টি করতে পারে৷ আমাদের সিস্টেমও তা পারে৷''

বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড

কণ্ঠস্বরের কোন গুণের কারণে অন্যকে বোঝানো বা তাকে আকৃষ্ট করা সম্ভব? ফেসবুকের প্রধান মার্ক সাকারবার্গ ও অ্যাপল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিদের ভাষণের ভিত্তিতে প্রোফেসার নিবুয়র তা বিশ্লেষণ করেছেন৷ তাঁর মতে, ‘‘কণ্ঠের পিচের ব্যাপ্তিও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ জবস দুই অক্টেভ বেশি, অর্থাৎ, ২৪ সেমিটোন ছুঁতে পেরেছেন৷ সাকারবার্গ এক ধাপ কম, অর্থাৎ, ১১ সেমিটোনের সামান্য বেশি মাত্রা হাসিল করেছেন৷ সে কারণে মার্ক সাকারবার্গের কণ্ঠ অপেক্ষাকৃত কম সুরেলা ও কিছুটা একঘেয়ে শোনায়৷ আমাদের পরীক্ষায় তিনি ৫২ পয়েন্ট পেয়েছেন৷ স্টিভ জবসের স্কোর ৯৩ দশমিক ৫৷''

বাক্যের নিজস্ব সুর যত স্বতন্ত্র হবে, তার প্রতি আমাদের মোহ, আকর্ষণ তত বাড়বে৷ দক্ষ বক্তারা তাই কখনো উচ্চ, কখনো নিম্ন স্বরে কথা বলেন৷ কখনো দ্রুত, কখনো ধীর গতি বেছে নেন এবং অবশ্যই মোক্ষম জায়গায় বিরতি নেন৷

কণ্ঠস্বরের বিশ্বাসযোগ্যতা

অলিভার নিবুয়র সেইসঙ্গে আমাদের উপর কণ্ঠস্বরের প্রভাবও পরীক্ষা করছেন৷ যেমন, জিপিএস-ভিত্তিক দিকনির্ণয় ডিভাইস৷ বন্দর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যাত্রাপথ বেছে নেওয়া হয়েছে৷ দুই চালকই রাস্তা ভালো চেনেন৷ পরীক্ষায় দুটি কণ্ঠ ব্যবহার করা হয়েছে৷ একটি কণ্ঠ অনেকটা স্টিভ জবসের মতো৷ অন্যটি মার্ক সাকারবার্গের মতো৷

চালকরা জানতেন না যে, তাঁদের ইচ্ছা করে ভুল পথে চালিত করা হচ্ছে৷ অনেক ঘুরপথে গন্তব্যের দিকে গাড়ি চলেছে৷ কোন কণ্ঠের ক্ষেত্রে চালক বেশিক্ষণ নির্দেশ মেনে চলেছেন? অলিভার নিবুয়র পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘‘স্টিভ জবসের কণ্ঠ শুনে মানুষ অনেক পরে ভুল বুঝতে পেরেছেন৷ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এমনকি ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ পুরোপুরি নির্দেশ মেনে গেছেন৷ ফলে আমাদেরই থামাতে হয়েছে৷ সাকারবার্গের কণ্ঠ শুনে চলে প্রায় অর্ধেক মানুষ প্রথম ত্রুটির পর নিজেদের শুধরে নিয়েছেন৷ আমাদের ধারণা, স্টিভ জবসের মতো কণ্ঠ শুনে চালকরা সম্ভবত ভেবেছেন, তাঁদের বিকল্প রুট দেখানো হচ্ছে৷ রাস্তা মেরামতি বা যানজটের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়৷ ন্যাভিগেশন সিস্টেমের ত্রুটির কথা তাঁরা ভাবেননি৷''

ক্যারিশম্যাটিক কণ্ঠ শুধু নির্দেশ দিতে পারে না, ভুল পথেও চালিত করতে পারে৷ কণ্ঠস্বর মোটেই নিয়তি নয়৷ অলিভার নিবুয়র এমন এক সফটওয়্যার সৃষ্টি করছেন, যার সাহায্যে যে কেউ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজের কণ্ঠস্বরে উন্নতি আনতে পারেন৷

অদূর ভবিষ্যতে তাঁর প্রশিক্ষণের মডিউল অ্যাপ হিসেবে পাওয়া যেতে পারে৷ ৪ মাস আগে তাঁর নিজের স্কোর ছিল ৪৩ শতাংশ৷ এখন সেই কণ্ঠস্বর ৮৫ শতাংশ ছুঁয়েছে৷

নিনা স্মিট/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন