বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশি ফটোগ্রাফারদের কাণ্ড! | বিশ্ব | DW | 19.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভাইরাল ভিডিও

বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশি ফটোগ্রাফারদের কাণ্ড!

সদ্য শেষ হওয়া বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে বিদেশি কয়েকজন আলোকচিত্রীর সাজানো ছবি তোলার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ ইন্টারনেট জগতে৷

২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের দিন টঙ্গী রেল স্টেশনে অপেক্ষমান একটি ট্রেনের এক শিশু জানালা দিয়ে মাথা বের করে মোনাজাত করছিল ৷ তাকে ঘিরে ছবি তুলতে ব্যস্ত কয়েকজন বিদেশি ফটোগ্রাফার৷ মোনাজাতের মধ্যেই তাকে নানা রকম নির্দেশনা দিচ্ছিলেন ফটোগ্রাফাররা৷ পেছন থেকে সে দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন বাংলাদেশি ফটো সাংবাদিক এ এম আহাদ৷ সেদিনই নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে আপলোডও করেন ভিডিওটি৷

অল্প সময়েই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়৷ তার টাইমলাইন থেকে ভিডিওটি দেখা হয় ৪৭ হাজার বারেরও বেশি বার৷ আর ভিডিওটি শেয়ার করেন কমপক্ষে ৩০৭ জন৷ ফটোগ্রাফি বিষয়ক জনপ্রিয় ব্লগ ‘পেটাপিক্সেল’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও এডিটর-ইন-চিফ মাইকেল ঝাং এ নিয়ে ‘দিস ইজ হাউ ফটোগ্রাফার্স স্টেজ সিন টু উইন প্রাইজেস’ শিরোনামে একটি ব্লগের সঙ্গে আহাদের সেই ভিডিওটিও শেয়ার করেন৷ সেখান থেকেও ভিডিওটি শেয়ার করেন প্রায় চার হাজার জন৷

আহাদের টাইমলাইনে আপলোড করা ভিডিওটির মন্তব্যে অনেকেই, বিশেষ করে দেশি-বিদেশি ফটো সাংবাদিকরা এ ধরনের ‘অনৈতিক' কাজের তীব্র সমালোচনা করেন৷ সাথে সাথে যেসব ফটোগ্রাফারের সহায়তায় এরা এদেশে এসে এ ধরনের কাজ করেন, তাদেরও সমালোচনা করেন তারা৷ 

উল্লেখ্য যে, বিশ্ব ইজতেমাসহ কিছু অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিদেশি ফটোগ্রাফারদের জন্য বিভিন্ন রকম ফটোগ্রাফিক প্যাকেজ ট্যুর আয়োজন করেন বাংলাদেশের কিছু ফটোগ্রাফার৷ পেটাপিক্সেল সাইটে শেয়ার করা এ ভিডিওর নিচেও এর সমালোচনা করে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন দেশের পেশাদার আলোকচিত্রীরা৷

এ এম আহাদের ভিডিওর সূত্র ধরে জানা যায়, বিদেশি ওই ফটোগ্রাফারদের মধ্যে যিনি দরজায় দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলছিলেন তিনি হলেন মালয়েশিয়ার ফটোগ্রাফার ড্যানি ওং৷ বেশ কিছু আন্তর্জতিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া এই আলোকচিত্রীর বিশ্ব ইজতেমারই একটি ছবি গত দুই বছর আগে সমালোচিত হয় বিশ্বজুড়ে৷ মালয়েশিয়ার ট্রাভেল ফটোগ্রাফার সোসাইটি (টিপিএস)-এ সে বছর প্রথম পুরষ্কার পাওয়া তার ছবিটি তিনি তৈরি করেছিলেন দু'টি ছবি জোড়া লাগিয়ে৷ বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরে অবশ্য তার সে পুরস্কার বাতিল ঘোষণা করেছিল টিপিএস কর্তৃপক্ষ৷

প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আলোকচিত্রীরা আসেন ছবি তুলতে৷ আর এর মধ্যে বেশিরভাগই আসেন চীন, মালয়েশিয়া ও কোরিয়া থেকে৷ উদ্দেশ্য, পুরষ্কারের ছবি তোলা৷ আর এসব ফটোগ্রাফার বেশিরভাগ ছবিই তোলেন সাজিয়ে গুছিয়ে, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই৷ গত কয়েক বছর ধরেই বিদেশি এসব ফটোগ্রাফারদের কর্মকাণ্ড সমালোচনা করে আসছিলেন বাংলাদেশি ফটো সাংবাদিকরা৷ তাদের দাবি, বাংলাদেশের খারাপ দিকগুলোকেই বিশ্বের কাছে আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেন কিছু বিদেশি ফটোগ্রাফার৷

এমএম/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন