বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রশ্নের মুখে হংকংয়ের গুরুত্ব | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 04.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

চীন

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রশ্নের মুখে হংকংয়ের গুরুত্ব

চীনের নতুন নিরাপত্তা আইন প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাণকেন্দ্র হংকং৷ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে কোন দিকে হাঁটছে হংকং?

৩০ জুন চীন কর্তৃপক্ষ হংকঙের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করে৷ এই আইনের আওতায় আসছে সব ধরনের সরকারবিরোধী প্রতিবাদ কর্মসূচি, থাকছে হংকঙে সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতি৷ ইতিমধ্যেই, এই আইন ব্যবহার করে গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েক জন শিক্ষার্থী৷

পাশাপাশি, চীনের বিশেষ অঞ্চলের মর্যাদায় থাকা হংকঙে গণতন্ত্রের দাবিদারদের আন্দোলনে বড় ধাক্কা এই আইন, বলে মনে করছেন অনেকে৷ গত সপ্তাহে আরো জানানো হয় যে হংকঙের সংসদীয় নির্বাচনও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে আরো এক বছরের জন্য৷

শুধু তাই নয়, হংকঙের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যারি ল্যাম মনে করেন, বর্তমান আইন ও অতিমারিকালীন আরেকটি আইনের যুগ্ম ধাক্কায় কমতে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে এতদিন যাবত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হংকং৷

‘এক দেশ, এক ব্যবস্থা’

পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলির মত, ২০৪৭ সাল পর্যন্ত হংকঙের স্বায়ত্তশাসনের যে সুবিধা ছিল চীনের ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা' নীতিতে, তা বর্তমানে ভেঙে পড়ছে৷

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দেন হংকঙের সাথে তাদের বিশেষ বাণিজ্য সম্পর্কে ইতি টানতে৷ এছাড়া, আরো বহু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সংস্থাও আস্তে আস্তে তাদের হংকঙের পাট চুকিয়ে আনছে নতুন আইনের অতি-নিয়ন্ত্রণের কারণে৷

বার্লিনের জার্মান ইন্সটিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্টেট এফেয়ার্সের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ হেরিবার্ট ডিটারের মত,ইতিমধ্যেই ডয়চে ব্যাংকের এশিয়া কার্যালয় হংকং থেকে সরিয়ে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ এই পদক্ষেপ থেকেই বোঝা যাচ্ছে কীভাবে হংকঙের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাণিজ্য সংস্থাগুলি তাদের নীতি বদলাচ্ছে৷

একটি রাজনৈতিক আইন প্রণয়ণ কেন বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে, এই প্রশ্নে ডিটার বলেন, ‘‘ব্যাংকের কর্মকর্তা ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের কার্যকলাপে বাড়তি নজরদারি সম্ভব করবে এই আইন৷ কীভাবে সরকার তা করবে, এটা এখন স্পষ্ট না হলেও, আইনে এটা করার যথেষ্ট জায়গা রয়েছে৷’’

কোথায় দাঁড়িয়ে হংকং?

চীনের অর্থনীতিতে যতটা গুরুত্বপূর্ণ হংকং, তার চেয়ে অনেক বেশি তার মর্যাদা আন্তর্জাতিক বাজারে৷ বাজার বিশেষজ্ঞদের মত, নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনের পরেই বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র নিঃসন্দেহে হংকং৷

এতদিন যাবত হংকঙের স্বায়ত্বশাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, নিম্নমূল্যের কর ও তুলনামূলকভাবে কম রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হংকংকে বানিয়েছিল ব্যবসার জন্য স্বর্গরাজ্য৷ চীনের ইউয়ানের বদলে হংকঙের বাজার চলত হংকং ডলারের হিসাবে৷

ডিটার বলেন, ‘‘হংকং ছিল চীনের একমাত্র বাণিজ্যকেন্দ্র যেখানে অর্থের চলাফেরায় কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না৷ এখানের হংকং ডলারের বদলে এখন চীনা ইউয়ান সবকিছু আরো দামী ও জটিল করে তুলবে৷’’

হংকঙের এই মর্যাদাবদলের ফলে আন্তর্জাতিক লগ্নিকারী শক্তিদের সাথে চীনের সম্পর্কে বদল আসছে৷ ডিটারও এবিষয়ে সমান চিন্তিত৷ তিনি বলেন, ‘‘চীন সরকার কেন অস্ট্রেলিয়া, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মতো লগ্নিকারীদের পথ জটিল করছে, তা নিয়ে আমিও ভাবিত৷ এর একটাই কারণ হতে পারে আমার মতে৷ হয়তো এভাবেই চীনের কমিউনিস্ট পার্টি চীনকে বিশ্ববাজার থেকে বিচ্যুত করে রাখতে চায়৷ এর কোনো প্রমাণ আমি নথি দিয়ে দেখাতে পারব না৷ এটা শুধুই আমার একটা ধারণা৷’’

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই হংকঙের ওপর বিশেষ বাণিজিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে৷ কিন্তু তা চীনের সাথে তাদের বাণিজইক সম্পর্কে গুরুতর বদল আনবে না৷ প্রভাব যা পড়ার, থাকবে হংকঙের স্বায়ত্তশাসিত বাজারের আন্তর্জাতিক মর্যাদার ওপর৷

শ্রীনিবাস মজুমদারু/এসএস

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন