1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

বিশ্বে গতবছর সামরিক খাতে ব্যয় ছিল সর্বোচ্চ

২২ এপ্রিল ২০২৪

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট সিপ্রি বলছে, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় ৬.৮ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে৷

https://p.dw.com/p/4f2jQ
পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর মহড়া
২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বের সব ভৌগলিক অঞ্চলে সামরিক ব্যয় বেড়েছেছবি: Wojtek RADWANSKI/AFP

এছাড়া ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বের সব ভৌগলিক অঞ্চলে সামরিক ব্যয় বেড়েছে৷

বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৩৭ শতাংশ খরচ করে শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র৷ গতবছর দেশটি ৯১৬ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২.৩ শতাংশ বেশি৷ এই তালিকায় এরপরে আছে চীন (২৯৬ বিলিয়ন ডলার, বিশ্বের মোট ব্যয়ের ১২ শতাংশ), রাশিয়া (১০৯ বিলিয়ন ডলার, ৪.৫ শতাংশ), ভারত (৮৩.৬ বিলিয়ন ডলার, ৩.৪ শতাংশ) ও সৌদি আরব (৭৫.৮ বিলিয়ন ডলার, ৩.১ শতাংশ)৷

এছাড়া যুক্তরাজ্য ৭৪.৯ বিলিয়ন, জার্মানি ৬৬.৮ বিলিয়ন, ইউক্রেন ৬৪.৮ বিলিয়ন, ফ্রান্স ৬১.৩ বিলিয়ন, জাপান ৫০.২ বিলিয়ন, ইসরায়েল ২৭.৫ বিলিয়ন ও পাকিস্তান ৮.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে৷

আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া, ওশেনিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ অ্যামেরিকা- সব অঞ্চলেই সামরিক ব্যয় বেড়েছে৷ শতাংশের হিসেবে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি সামরিক ব্যয় বেড়েছে ডিআর কঙ্গোতে (১০৫ শতাংশ)৷ দেশটির সামরিক বাহিনী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়ছে৷

সিপ্রির গবেষক চিয়াও লিয়াং ডিডাব্লিউকে বলেন, মেক্সিকো ও এল সালভেদরে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গ্যাং সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়তে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে৷ ইকুয়েডর ও ব্রাজিলেও একই ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি৷

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ

২০২৩ সালে ইউক্রেন সামরিক খাতে ৬৪.৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেশি৷ তবে দেশটি ২০২৩ সালে ৩৫ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পেয়েছে৷ ফলে সবমিলিয়ে ইউক্রেন গতবছর সামরিক খাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে৷ একই সময়ে রাশিয়া খরচ করেছে ১০৯ বিলিয়ন ডলার৷

তবে জিডিপির হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে, ইউক্রেন তার জিডিপির ৩৭ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করেছে৷ সেই তুলনায় রাশিয়ার ব্যয় হয়েছে ৫.৯ শতাংশ৷ ফলে ‘‘যুদ্ধটা রাশিয়ার চেয়ে ইউক্রেনের উপর বেশি বোঝা হয়ে উঠেছে,'' বলে মন্তব্য করেন লিয়াং৷

চীন-তাইওয়ান সংকট

দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনার কারণে ২০২৩ সালে সামরিক ব্যয় বেড়েছে৷ চীন তার খরচ আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বাড়িয়ে ২৯৬ বিলিয়ন ডলার করেছে৷ এশিয়া ও ওশেনিয়া এলাকার মোট সামরিক ব্যয়ের অর্ধেক করেছে চীন৷

সিপ্রির গবেষক লিয়াং বলেন, পিপলস লিবারেশন আর্মিকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে চীন৷ এছাড়া চীন সামরিক ব্যয় বাড়ানোয় জাপান, তাইওয়ান ও ভারতও সামরিক বাজেট বাড়িয়েছে বলে মনে করেন তিনি৷ জাপান (৫০.২ বিলিয়ন ডলার) ও তাইওয়ান (১৬.৬ বিলিয়ন ডলার) তাদের সামরিক বাজেট ১১ শতাংশ বাড়িয়েছে৷

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নিকলাস শ্যোরনিগ ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যখন সামরিক নিরাপত্তা আবার অগ্রাধিকার পাচ্ছে এবং নিরাপত্তা ইস্যুটি সামরিক কাঠামোর ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে৷ সেই অর্থে, এই সংখ্যাগুলি সেই মানসিকতার প্রতিফলন মাত্র৷'' ইউক্রেন ও সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলে ইরানের হামলা ও পরে ইরানে ইসরায়েলের হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে হামলা চালানোর চেয়ে প্রতিরক্ষার বিষয়টি বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে৷

তিনি বলেন, বিশ্ব একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে যেখানে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, কারণ বেশিরভাগ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি সেকেলে বা আর কার্যকর হচ্ছে না৷

অলিভার পিপার/জেডএইচ