বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরপ্যানেলের সারি গড়ে উঠছে চীনে | অন্বেষণ | DW | 27.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরপ্যানেলের সারি গড়ে উঠছে চীনে

বিশ্বে যত কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয় তার ২৮ শতাংশের জন্য দায়ী চীন৷ এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চায় দেশটি৷ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ইতিমধ্যে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে চীন৷

ভিডিও দেখুন 05:29

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে চীন

বেইজিং থেকে হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে উত্তর পশ্চিম অঞ্চলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরপ্যানেলের সারি গড়ে উঠছে৷ মাত্র ৬০ লক্ষ অধিবাসীর নিংজিয়া অঞ্চলে প্রচুর সূর্যের আলো ও বিশাল খোলা এলাকা রয়েছে৷ অঞ্চলটি সৌরশক্তিতে বিশ্বের সেরা হতে চায়৷

এই প্রকল্পে কাজ করেন প্রকৌশলী ঝাং চুয়ান৷ এতবড় একটি প্রকল্পে কাজ করার জন্য নির্বাচিত হতে পেরে গর্বিত এই প্রকৌশলী৷ ঝাং চুয়ান বলেন, ‘‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি ঐতিহাসিক এক সুযোগ৷....প্রতি বছর আমরা আট লক্ষ টন কয়লার ব্যবহার কমাতে পারি, যা প্রচুর পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাবে৷''

প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে ঝাং ও তাঁর সহকর্মীরা বিশ লক্ষ পরিবারকে সবুজ জ্বালানি দিতে পারবেন৷ এটি চীনের এরকম বেশ কয়েকটি প্রকল্পের একটি৷

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীন গত বছর প্রায় ৭৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে৷ জার্মানি করেছে মাত্র ১৩ বিলিয়ন৷ ২০২০ সালের মধ্যে চীন ৩৬১ বিলিয়ন ডলার খরচের পরিকল্পনা করছে৷ ফলে সবুজ জ্বালানি ব্যবহারে চীন সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে যাবে৷

পুরো চীনে বায়ুচালিত শক্তিরও প্রসার ঘটছে৷ তবে এখনও কিছু সমস্যার সমাধান করতে হবে, যেমন ইস্পাতের মতো ভারি শিল্প থেকে সরে আসতে যে অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন, তার গতি বেশ ধীর৷ তাছাড়া দেশটির মোট জ্বালানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসে কয়লা থেকে৷ এক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে – যদিও এখন তা স্থিতাবস্থায় আছে৷

বেইজিংয়ে পরিবর্তন আসছে৷ সেখানে ধোঁয়া একটি বড় সমস্যা৷ শহরের চারটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবকটিই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷

মা জুম চীনের একজন প্রখ্যাত পরিবেশবাদী কর্মী৷ তাঁর কাজের কারণে মানুষের চিন্তাধারায় বিশাল পরিবর্তন এসেছে৷ তিনি বলেন, ‘‘বছর দশেক আগে আপনি যদি কোনো পথচারীকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করতেন তাহলে তিনি বলতেন যে, উন্নয়ন আগে৷ কিন্তু এখন যদি তাদের কাছে জানতে চান তাহলে বেশিরভাগই হয় বলবে, ‘‘আমরা বিশুদ্ধ পানি, বাতাস ও নিরাপদ খাবার চাই৷''

এমন সব দাবির কারণে সরকার চাপে রয়েছে৷ বেইজিংয়ের রাস্তায় এখন হাজার হাজার শেয়ারে চালানো যায় এমন সাইকেল দেখা যায়৷ অনেক কারখানাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ তবে ধোঁয়া এখনও একটি সমস্যা, বিশেষ করে যখন ভুল দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হয়৷

বিশ্বে যত কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয় তার ২৮ শতাংশের জন্য দায়ী চীন৷ ১৬ শতাংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আছে দ্বিতীয় স্থানে৷

বাতাস ও পানি দূষণ পর্যবেক্ষণকারী হাজার হাজার কেন্দ্রের কাজ দেখার অনুমতি আছে মা জুমের৷ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী তিন লক্ষ কোম্পানির তথ্য আছে তাঁর কাছে৷ এ কাজে সরকারের সমর্থন আছে৷ কোন কোম্পানি আইন ভঙ্গ করেছে অনলাইনে সেটা দেখা যায়৷ কাউকে কনট্র্যাক্ট দেয়ার আগে অনেক কোম্পানি মা জুমের তথ্য দেখে নেয়৷ মা জুম বলে, ‘‘অ্যাপল, আডিডাস, ওয়ালমার্টের মতো কোম্পানি স্থানীয় সরবরাহকারী নিয়োগের আগে আমাদের তালিকা দেখে নেয় এবং আইন ভঙ্গকারীদের শুদ্ধ হতে চাপ দেয়৷''

একটি অ্যাপ ব্যবহার করে যে কেউ পরিবেশের ক্ষতির ছবি আপলোড করতে পারেন৷ সবাই সেটি দেখতে পারেন৷ আর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সেগুলো পাঠিয়ে দেয়া হয়৷ এটি একটি কার্যকরি টুল৷ জীবাশ্মভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসায় চীনের প্রশংসা করলেও এখনও দেশটির জ্বালানি নীতির সমালোচনা করছে গ্রিনপিস৷ দেশে বাজার সংকুচিত হওয়ায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে৷

চীনের গ্রিনপিসের কর্মকর্তা লাউরি মিলিভিরতা বলেন, ‘‘ভিয়েতনাম থেকে শুরু করে আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া – এ সব দেশে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসারে ভূমিকা রাখছে চীনা কোম্পানি ও ব্যাংকগুলো৷ এটি বেশ ক্ষতিকারক একটি বিষয়৷''

মারিও স্মিট/জেডএইচ

প্রতিবেদন সম্পর্কে কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে, মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন