বিশ্বব্যাপী ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান বহরের উড়ান বন্ধ | বিশ্ব | DW | 14.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিশ্বব্যাপী ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান বহরের উড়ান বন্ধ

বিশ্বব্যাপী তাদের ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমান বহরের উড়ান বন্ধ করেছে বিশ্বের বৃহত্তম বিমান নির্মাতা কোম্পানি বোয়িং৷ ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিধ্বস্ত হওয়ার পর বোয়িং তাদের বিক্রি করা সেরা বিমানগুলোর উড়ান বন্ধ করে দিল৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন আকাশসীমায় যাতে এই বহরের কোন বিমান প্রবেশ না করে তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন একটি জরুরি ঘোষণার মাধ্যমে৷ বুধবার তিনি হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সামনে ঘোষণা দেন, বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান বহরের সব ফ্লাইটের উড়ান বন্ধের৷ বলেন, ‘‘৭৩৭ ম্যাক্স ৮ এবং ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ এর সব বিমানের উড়ালের উপর বিশেষ ঘোষণার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো৷’’

এ ঘোষণার মাধ্যমে সর্বশেষ দেশ হিসেবে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ এর উড়ান স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র৷ এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, যুক্তরাজ্য, ভারত, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বোয়িংয়ের এ মডেলটির উড্ডয়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়৷ কিন্তু এরপরও  ম্যাক্স ৮ এর উড্ডয়ন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল এফএএ৷ পাঁচ মাসের মধ্যে ম্যাক্স ৮-এর দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এটি৷

যুক্তরাষ্ট্রের আগে সবশেষ তাদের আকাশসীমায় বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ ফ্লাইটের উড়ানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ক্যানাডা৷ ইথিওপিয়ান বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ক্যানাডার ১৮ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন৷ ঐ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বিমানের ১৫৭ আরোহীর সবাই৷ বুধবার মার্কিন বোয়িং কোম্পানিটি জানায়, সাময়িকভাবে তারা বিশ্বব্যাপী এই মডেলের সব ফ্লাইটের উড়ান বন্ধ রাখবে৷

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে তদন্তকারীরা সেখান থেকে নতুন কিছু তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পর বুধবার এ ধরনের সবগুলো ৩৭১টি উড়োজাহাজের উড়ান স্থগিত রাখার কথা জানায় বোয়িং৷

চাপের মুখে বোয়িং

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন তাদের আকাশসীমায় এই বিমানের ফ্লাইটের উড়ানে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বেশ চাপের মুখে পড়ে কোম্পানিটি৷ ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স এবং গত বছরের অক্টোবরে লায়ন এয়ারের দুর্ঘটনার মধ্যে সাদৃশ্য পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা৷ ইন্দোনেশিয়ায় ঐ দুর্ঘটনায় ১৮৯ আরোহী নিহত হয়৷ ঐ ফ্লাইটটিও ছিল ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানবহরের৷ ঐ বিমানটিও ওড়ার অল্প সময়ের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়েছিল৷

তবে অনেক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞই মনে করেন এত আগে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়৷ এখনও তদন্ত কর্মকর্তারা ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ব্ল্যাক বক্সের তথ্য উদ্ধার করতে পারেননি৷

জার্মানির কেন্দ্রীয় বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত বিভাগের মুখপাত্র গেরমোট ফ্রাইটাগ বলেছেন, ইথিওপিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য, কিন্তু তারা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ কেননা ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উদ্ধারের মত প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তাদের নেই৷ এ বিষয়ে বোয়িং-এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি৷

ক্ষতিপূরণ

ইথিওপিয়া এয়ারলাইন্স দুর্ঘটনার পর বোয়িং এর কাছ থেকে বড় ধরণের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে অনেক বিমান সংস্থা৷ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে নরওয়েজিয়ান এয়ার৷ তারা জানিয়েছে, ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের উড়ান বন্ধের ফলে তারা প্রচুর রেভিনিউ হারিয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ গুণতে হয়েছে তাদের৷ তাই বিকল্প যেসব বিমানের বিমান তাদের সাময়িকভাবে চালাতে হচ্ছে তাদের জন্য ক্ষতিপূরণের অর্থ তারা বোয়িং এর কাছে দাবি করেছে৷ প্রতিদিন তাদের অন্তত ৪৬ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হবে ৭৩৭ ম্যাক্স এর প্রতিটি বিমানের বিকল্পের উড়ানের ক্ষেত্রে৷

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনার পর বিমান নির্মাণকারী বোয়িং কোম্পানিকে ২,৬০০ কোটি মার্কিন ডলার লোকসান গুণতে হয়েছে৷

আশুতোষ পাণ্ডে/এপিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন