বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে অভিবাসীর সংখ্যা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 13.10.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে অভিবাসীর সংখ্যা

সারা পৃথিবীতে প্রায় ২৩২ মিলিয়ন মানুষ প্রতিনিয়ত নতুন পরিস্থিতি, নতুন ভাষা ও নতুন সংস্কৃতির সম্মুখীন হচ্ছেন৷ খুঁজে বেড়াচ্ছেন নতুন অভিবাসন৷ এঁদের অনেকেরই কিন্তু সবচেয়ে প্রিয় গন্তব্যস্থান জার্মানি৷

default

২৩২ মিলিয়ন মানুষ নিজের জন্মভূমি ছেড়ে অন্য কোথাও বসবাস করছেন

‘‘তুমি কোন দেশ থেকে এসেছ?'' এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অনেক মানুষের পক্ষে সহজ নয়৷ জাতিসংঘের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২৩২ মিলিয়ন মানুষ নিজের জন্মভূমি ছেড়ে অন্য কোথাও বসবাস করছেন৷ এই সংখ্যাটা ২০ বছর আগের তুলনায় ৮০ মিলিয়ন বেশি৷

আসল সংখ্যাটা আরো বেশি

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন আসল সংখ্যাটা আরো বেশি হবে৷ দক্ষিণের অনেক দেশে প্রশাসনিক কাঠামোর অভাবে অভিবাসীদের সংখ্যাটা ঠিকমতো গোনা হয় না৷ বলেন জার্মানির অসনাব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসী গবেষণা ও আন্তঃর্জাতিক সমীক্ষা ইন্সটিটিউটের ইউখেন ওল্টমার৷ এছাড়া জাতিসংঘ শুধু সেই সব অভিবাসীদেরই তালিকায় ধরেছে, যাঁরা অন্য কোনো দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন৷ যাঁরা কয়েক দশক অন্য কোথাও বসবাস করে আবার স্বদেশে ফিরে গিয়েছে, তাঁদেরকে অভিবাসীদের তালিকায় আনা হয়নি৷

জাতিসংঘের এক সমীক্ষা অনুযায়ী অভিবাসীদের মধ্যে জনপ্রিয় গন্তব্যস্থান জার্মানি৷ অভিবাসীর সংখ্যা ১০ মিলিয়ন৷ এদিক দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পর তৃতীয় স্থানে রয়েছে দেশটি৷

Schwierige Integration am Duisburger Rumänen Problemhaus

জাতিসংঘের এক সমীক্ষা অনুযায়ী অভিবাসীদের মধ্যে জনপ্রিয় গন্তব্যস্থান জার্মানি

নিয়ে আসা হয় শ্রমশক্তি

জার্মানিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শ্রমশক্তির অভাব দেখা দিয়েছিল৷ ১৯৫৫ সালে ইটালি থেকে তথাকথিত অতিথি শ্রমিক আনা হয় জার্মানিতে৷ তারপর দক্ষিণ ইউরোপের অন্যান্য দেশ, তুরস্ক, মরক্কো, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুগোস্লাভিয়া থেকে শ্রমিক আনা শুরু হয়৷ জার্মানিতে বসবাসকারী বিদেশির সংখ্যা ৬০-এর দশকের প্রথম দিকে ৭ লক্ষ থেকে বেড়ে ৭০ দশকের প্রথম দিকে ২.৭ মিলিয়নে দাঁড়ায়৷

কিন্তু ৭০ দশকের শেষ দিক থেকে বিশ্বব্যাপী তেল সংকট দেখা দেওয়ায় বিদেশ থেকে শ্রমশক্তি আনা বন্ধ হয়৷ অতিথি শ্রমিকদের অর্থের বিনিময়ে জার্মানি ত্যাগ করতে প্রণোদিত করা হয়৷ কিন্তু ততদিনে অনেকে জার্মানিতে থিতু হয়ে গেছেন৷ পরিবার পরিজনও এনেছেন৷ তাই এই উদ্যোগ তেমন কার্যকর হয়নি৷

৮০-এর দশকের শেষ দিকে কমিউনিজমের পতনের পর আর বিদেশিদের একটি বড় গোষ্ঠী জার্মানিতে আসা শুরু করে৷ তাঁরা হলেন পোল্যান্ড ও রাশিয়া থেকে আসা জার্মান বংশোদ্ভূত লোকজন৷ ১৯৯০ সালে বিদেশির সংখ্যা ৫.৬ মিলিয়নে দাঁড়ায়৷ এর দশ বছর পর এই সংখ্যার সাথে আরো ২ মিলিয়ন যোগ হয়৷

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অভিবাসন

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের কারণে চাকরির আশায় বিগত বছরগুলিতে স্পেন, ইটালি ও পর্তুগাল থেকে আসা মানুষের ভিড় বাড়ছে জার্মানিতে৷ তবে তাঁরা জার্মানিতে বসবাসের ব্যাপারে দীর্ঘদিনের কোনো পরিকল্পনা করেন না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷

বিশেষ করে ইউরোপের নানা দেশ থেকে অভিবাসীরা জার্মানিতে আসছেন৷ অভিবাসন গবেষক ওল্টমার মনে করেন, এর পেছনে অর্থনৈতিক কারণটাই মুখ্য৷ পরিবহণ ও থাকা খাওয়ার জন্য অর্থের দরকার তো রয়েইছে৷ এছাড়া ‘নতুন স্বদেশে' থিতু হওয়ার জন্য পরিচিত ও আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে যোগযোগটাও জরুরি৷ সেজন্য কাছাকাছি দেশগুলিতেই অভিবাসনের জন্য যেতে চায় মানুষ৷ অভিবাসীদের কাছে এশিয়ার জনপ্রিয় দেশগুলির মধ্যে তাইওয়ান, দিক্ষণ কোরিয়া, চীনের নাম করা যায়৷ ল্যাটিন অ্যামেরিকার ব্রাজিল ও ভেনেজুয়েলা আকৃষ্ট করে অনেক অভিবাসীকে৷

পশ্চিমের অনেক দেশে কঠোর অভিবাসন আইন বিদেশিদের আসার পথ দুরূহ করে তুলেছে৷ রেগেন্সবুর্গ ইউনিভার্সিটির অভিবাসন গবেষক ফিলিপ আন্ডারসন ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, জার্মান অভিবাসন নীতিতে ‘ভালো ও মন্দ অভিবাসীর' মধ্যে পার্থক্য করা হয়৷ যুদ্ধ বিগ্রহ বা অন্যান্য কারণে যাঁরা শরণার্থী হয়ে এসেছেন, তাঁরা তেমন স্বাগত নয় এই দেশে৷ তাই তিনি দাবি জানান, শরণার্থীদের শিক্ষাদীক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা যেন হেলাফেলা করা না হয়৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘এইসব মানুষ যাতে কর্ম -বাজারে দ্রত প্রবেশ করতে পারেন, সরকারের সেই উদ্যোগই নেওয়া উচিত৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন