বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ অনেক | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 09.01.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ অনেক

জার্মানিতে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ঘোরাঘুরি করা খুবই সহজ এবং খুব বেশি পয়সাও খরচ হয় না৷ কিন্তু কত দ্রুত কোথায় যাওয়া যায়? সস্তায় কোথায় রাত কাটানো যায়?

জার্মানিতে প্রায় প্রত্যেক শিজ্ক্ষার্থীর সাইকেল আছে

জার্মানিতে প্রায় প্রত্যেক শিজ্ক্ষার্থীর সাইকেল আছে

জার্মানিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে কেউ অথচ কোন সাইকেল তার নেই, এটা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার৷ কারণ শতকরা ৯৯ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রীরই সাইকেল আছে বা থাকে৷ বাস বা ট্রামের জন্য কেউই অপেক্ষা করতে রাজি নয়৷ গ্রীষ্মকালে বদ্ধ বাসে কোন ছাত্র-ছাত্রীই উঠতে আগ্রহী হবে না৷ এছাড়া সাইকেলে অনেক দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব৷ বেড়াতে যাবার জন্য অন্য ব্যবস্থা৷ কোচে বা ট্রেনে কোথাও বেড়াতে যেতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে সবসময়ই ভাড়া কম রাখা হয়৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এলেনা জানাল: ‘‘সবকিছুর অভিজ্ঞতা থাকা চাই৷ চাই নতুন বন্ধু-বান্ধব৷ পরিচিত হতে চাই নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে৷''

আরেক ছাত্র বলল: ‘‘পড়াশোনার জন্য সারাক্ষণই ঘোরাঘুরি করতে হয়৷ সারাক্ষণই এটা-সেটা বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে আনা-নেয়া করতে হয়৷''

আরেক ছাত্রীর ভাষ্য: ‘‘ফ্লেক্সিবল হতে হবে, চলাফেরা যেন স্বচ্ছন্দে করা যায় সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে৷ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় কত দ্রুত এবং সহজে যাওয়া সম্ভব তার জন্য সবসময় তৈরি থাকতে হবে৷''

Autolib, Paris

ঘোরাঘুরির জন্য কার শেয়ারিং বেশ জনপ্রিয়

এই দ্রুত চলাফেরা করাটা জার্মানিতে পড়াশোনার জন্য খুবই জরুরি৷ কারণ জার্মানির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্টুডেন্ট ডর্ম থেকে দূরে৷ লাইব্রেরিও হয়ত কাছে নয়৷ হেঁটে যেতেই লাগবে ২০ মিনিট৷ তখন চলাফেরার একমাত্র সহজ মাধ্যম হল প্রিয় সাইকেল৷ সেকেন্ড হ্যান্ড সাইকেলের দাম পাঁচ ইউরো থেকে দু'শো ইউরো পর্যন্ত হতে পারে৷ তাই বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীরা কম দামে বেছে নেয় সাইকেল৷ তবে জার্মান ছাত্র-ছাত্রীদের বেলায় কথাটা ভিন্ন৷ যাদের সঙ্গতি আছে তারা গাড়ি কিনে নেয়৷ গাড়িতেই আসা যাওয়া করে৷ তবে তাদের সংখ্যা খুবই কম৷ অস্ট্রেলিয়ার ছাত্র পিটার কি মাটুৎসাক বলল: ‘‘দেশে সাইকেল চালানোটা খুব বেশি সুবিধজনক নয়৷ কারণ সিডনি শহরটি বিশাল৷ এখানে সাইকেলে করে কেউ যদি কোথাও যাওয়ার কথা ভাবে তাহলে তাকে প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা শুধু সাইকেলের ওপরেই থাকতে হবে৷ গাড়ির পাশাপাশি দ্রুত বেগে সাইকেল চালানোও নিরাপদ নয়৷ তাই আমি যখন জার্মানিতে প্রথম আসি রাস্তায় এত সাইকেল দেখে সত্যিই বেশ অবাক হয়েছিলাম৷''

জার্মানিতে সাইকেলের জন্য প্রতি রাস্তায় আলাদা জায়গা করা আছে৷ সেই সরু পথে কোন গাড়ি উঠতে পারে না বা কোন পথচারীর হাঁটা নিষেধ৷ তবে সব দেশে এই ব্যবস্থা নেই৷ অ্যামেরিকা থেকে এসেছে মিরান্ডা৷ গাড়ি ছাড়া সে এক পা-ও চলতে পারে না৷ মিসৌরির মেয়ে মিরান্ডা বলছে: ‘‘মিসৌরিতে রাস্তায় শুধু গাড়ি দেখা যাবে৷ জার্মানিতে চলাফেরার কত ধরণের মাধ্যম, কত সুযোগ-সুবিধা৷ আর সবকিছু কত কাছে৷''

Junge Leute mit Rucksack

পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

অ্যামেরিকায় সবকিছুই অনেক দূরে দূরে৷ সেই তুলনায় জার্মানিতে সবকিছুই অনেক কাছে৷ দেশগুলোও কাছে৷ জার্মানির নয়টি প্রতিবেশী দেশ৷ কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নয়টি দেশের মধ্যে যে কোন একটি দেশে পৌঁছানো সম্ভব৷ মিরান্ডা ১৬ট দেশ ভ্রমণ করে ফেলেছে৷ কখনো কার-শেয়ারিং-এ, কখনো প্লেনে অথবা ট্রেনে৷ অস্ট্রেলিয়ার ছাত্র পিটার কার শেয়ারিং করে অনেক দেশ ঘুরেছে৷ বিশেষ করে উইকএন্ডে সবসময়ই কোথাও না কোথাও যাওয়া হয়েছে৷ পিটার বলছে: ‘‘কার শেয়ারিং-এর সাহায্যে অত্যন্ত কম খরচে যে কোন জায়গায় যাওয়া যায়৷ বিশেষ করে ট্রেন বা প্লেনের চেয়ে এই কার শেয়ারিং অত্যন্ত সস্তা৷ আমরা কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী মিলে গাড়ি ভাড়া করে অথবা কখনো ইন্টাররেলের সাহায্যে জার্মানিতে ঘুরেছি৷ কার শেয়ারিং সবসময়ই ব্লাইন্ড বুকিং- এর মত৷ আমি আনন্দের সঙ্গেই তা করি৷''

ব্লাইন্ড বুকিং হল খুব সস্তায় ইউরোপের দশটি বিমানবন্দরে যাওয়ার টিকিট একসঙ্গে কেনা৷ এর অর্থ হল দশটি দেশ একসঙ্গে ঘোরা৷ এর জন্য খুব বেশি টাকার প্রয়োজন নেই তবে প্রয়োজন অনেক সময়ের৷ ইন্টাররেইলের সাহায্যে সস্তায় ট্রেনের টিকিট কেনা যায়৷ তবে তা নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলের জন্য৷

এশিয়া বিশেষজ্ঞ নিকলাস জানান, ছাত্র-ছাত্রীরা এখন শুধু ইউরোপেই ঘোরাঘুরি করতে চায় না৷ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিও তাদের আগ্রহ বাড়ছে৷ নিকলাম জানালেন: ‘‘ছাত্র-ছাত্রীদের নতুন এই প্রজন্ম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখতে চায়৷ আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি যে আগামী কয়েক বছরে বেড়াতে যাওয়ার জন্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশকেই ছাত্র-ছাত্রীরা বেছে নেবে৷ ইউরোপের প্রতি কেউ আর তেমন আগ্রহ দেখাবে না৷ অ্যামেরিকাও অনেকের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে অনেক দিন থেকেই৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন