বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হল খোলার জোরালো দাবি | বিশ্ব | DW | 22.02.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হল খোলার জোরালো দাবি

শুরুটা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে৷ এরপর কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট শাহজালাল ও সবশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও উঠেছে হল খুলে দেয়ার দাবি৷ হলে উঠেও পড়ছেন শিক্ষার্থীরা৷

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে এখনো অপারগ৷ সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ১৭ মে খুলে দেয়া আর ২৪ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস শুরুর কথা বলেছে৷ শিক্ষক ও ছাত্রদের করোনার টিকা দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে সরকার৷

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানকারা শিক্ষার্থীরাও বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছেন এক সপ্তাহ ধরে৷ রবিবার রাত থেকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেয়ার দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন৷

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলই ছাত্ররা কার্যত খুলে দিয়েছেন৷ নারীদের সব হল তারা খুলে দিলেও এখন কেবল একটি হলে ছাত্রীরা অবস্থান করছেন৷ ছাত্রদের এই নিজ উদ্যোগে হল খুলে দেয়ার পেছনে আছে তাদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনা৷ আগের ঘটনার জের ধরে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেরুয়া এলাকায় ছাত্রদের ওপর মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা চালায় স্থানীয়রা ৷ হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন৷ এর পরদিন ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়ে হলগুলো খুলে নিজেরা হলে উঠে যান৷ ছাত্রীদের একটি হলের গেটের তালাও ভেঙে ফেলেন তারা৷

অডিও শুনুন 00:28

আমাদের পক্ষে হল ছাড়া সম্ভব নয়: নাসিম আহমেদ

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রবিবার রাতে আবার ছাত্রদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন৷ ছাত্ররা সকালে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে ওই নির্দেশ না মানার কথা জানিয়ে দিয়েছেন৷ আন্দোলনরত ছাত্র নাসিম আহমেদ বলেন, ‘‘আমাদের পক্ষে হল ছাড়া সম্ভব নয়৷ কারণ, এটা আমাদের নিরাপত্তার প্রশ্ন৷ এখন হল ছেড়ে দিলে আমাদের পথের নিরাপত্তা কে দেবে? আর সবাই হলে চলে এসেছেন৷ সরকার বলছে ১৭ মে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খোলা হবে৷ কিন্তু আমাদের এখানে পরিস্থিতি আলাদা৷’’

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘‘আমরা ছাত্রদের বোঝাচ্ছি যাতে তারা হল ছেড়ে চলে যান৷ কারণ, সরকারের এ ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে৷ তারা যদি হল ছেড়ে না যান তাহলে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে৷ তবে আমাদের বিশ্বাস তার প্রয়োজন হবে না৷ আমাদের ছাত্ররা আমাদের কথা শুনবেন বলে আমাদের বিশ্বাস৷’’

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে রবিবার থেকে৷ রাজশাহী ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি)-র ছাত্ররা হল খুলে দেয়ার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছে কর্তৃপক্ষকে৷

অডিও শুনুন 00:38

তারা যদি হল ছেড়ে না যান তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে: প্রক্টর

ছাত্রদের সাথে কথা বলে যে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে তা হলো: হল বন্ধ থাকায় এখন অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া থেকে অনলাইনে ক্লাস করছেন৷ কিন্তু সেখানে তাদের নিরাপত্তা নেই৷ বরিশাল ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের বাইরে থাকা ছাত্রদের ওপর হামলা হয়েছে৷ ছাত্ররা হলের বাইরে থাকার খরচ পোষাতে পারছেন না৷ তারা বিসিএস এবং অন্যান্য সরকারি চাকরি নিয়ে হতাশায় ভুগছেন বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে৷

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত ছাত্র আবদুর রউফ বলেন, ‘‘করোনায় মারা যাওয়ার চেয়ে এখন বাংলাদেশে বেশি মানুষ আত্মহত্যা করছে বলে গবেষণায় জানা গেছে৷ ছাত্ররাও তার বাইরে নয়৷ আমাদের পরিবার অর্থ সংকটে আছেন৷ আমাদের পক্ষেও আশপাশে বাসা ভাড়া নিয়ে অনলাইনে ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না৷ আমরা হতাশ৷ যারা আশপাশে থাকছেন তাদেরও নিরাপত্তা নেই৷’’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম বলেন, ‘‘আমরা ছাত্রদের অসুবিধার কথা বুঝি৷ তাদের দাবিও যৌক্তিক৷ কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা যেতে পারি না৷ আর এই করোনা তো সারাবিশ্বেই মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে৷ সরকার ১৭ মে হল খোলার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তার বাইরে আমাদের যাওয়া সম্ভব নয়৷’’

ছাত্ররা উপচার্যের মাধ্যমে সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে এখন থেকেই হল খুলে দেয়ার দাবি আদায় করতে চাচ্ছেন৷ তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখার পক্ষে৷

অডিও শুনুন 04:18

সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা যেতে পারিনা: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে৷ তারাও বলছেন, তাদের পক্ষে আর হলের বাইরে থেকে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়৷ তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের হলে থাকতে দেবে না বলে জানিয়ে দেয়৷ ছাত্ররা ঘণ্টাখানেক পর হল ছেড়ে চলে যায়৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ মার্চ থেকে হল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল৷ কিন্তু তা আর হচ্ছে না৷ সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য মঙ্গলবার অ্যাকাডেমকি কাউন্সিলের বৈঠক ডাকা হয়েছে৷

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘‘যারা হলে আছেন, তাদের অবিলম্বে হল ত্যাগ করতে হবে৷ এছাড়া কেউ যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করেন, তবে এর দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্রহণ করবে না৷’’ তিনি আরো বলেন, ২৪ মে'র আগে সরাসরি কোনো পরীক্ষা নেয়া যাবে না, তবে অনলাইন ক্লাস চলবে৷ প্রয়োজনে বিসিএস পরীক্ষা পেছানো হবে বলেও জানান তিনি৷

প্রসঙ্গত, করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন