বিশ্বকাপ উন্মাদনার নানা রঙ | খেলাধুলা | DW | 14.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপ উন্মাদনার নানা রঙ

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নেই৷ তারপরও ফুটবল বিশ্বকাপের জ্বরে কাঁপছে৷ সারাদেশ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা আর জার্মানির পতাকায় ছেয়ে গেছে৷ বাড়িও হয়েছে প্রিয় দলের পতাকার রঙে৷ সংঘর্ষও হয়েছে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মাঝে৷

গত ২৮ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলকায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে পতাকা টানানো নিয়ে সংঘর্ষ হয়৷ আর সেই সংঘর্ষে আর্জেন্টিনা সমর্থক বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে জখম করা হয়৷ জানা গেছে, বন্দরের মিনারবাড়ি এলাকায় আর্জেন্টিনা সমর্থক ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে পতাকা উড়ানো দ্বন্দ্বের জের ধরে  রাতে তারাবি নামাজের পর বন্দরের মিনারবাড়ি এলাকার ছেলে সেলিম (৫০) ও তাঁর ছেলে সজীবের ওপর চাপাতি নিয়ে হামলা চালায় ব্রাজিল সমর্থকরা৷ হামলাকারীরা চাপাতি দিয়ে দু'জনকে কুপিয়ে জখম করে৷ এরকম আরো অনেক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে৷ আর কথা কাটাকাটি ও  খেলায় দেখে নেয়ার হুমকি তো প্রতিদিনের সাধারণ ঘটনা এখন৷

বাংলাদেশে  বিশ্বকাপ উন্মাদনার এই পরিণতি নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ, এবার এখন পর্যন্ত ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা সংঘর্ষেই সীমাবদ্ধ আছে৷ ২০১৪ সালে বিশ্বকাপে লালমনিরহাটে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মিলন হোসেন নামে এক তরুন দুঃখজনকভাবে নিহত হয়েছিলেন৷

এরই মধ্যে বাংলাদেশে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার মধ্যে খেলাও হয়ে গেছে৷ গত ৮ জুন  বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়৷ খেলায় ৩-২ গোলে ব্রাজিল সমর্থকদের পরাজিত করেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা৷ আর্জেন্টিনার সমর্থকরা পরে আনন্দ মিছিলও করেন৷

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ব্রাজিল আর্জেন্টিনা আর জার্মানির পতাকায় ছেয়ে গেছে৷ পতাকা বিক্রেতা মো. সোহেল আহমেদ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘এবার বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে তিনি প্রথম পতাকা বিক্রি করেন৷ আর পতাকা বিক্রি করে ঈদের খরচ তুলে ফেলেছেন৷'' তিনি জানান, ‘‘সবচেয়ে বেশি পতাকা বিক্রি হয়েছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা আর জার্মানির৷ এছাড়া বিশ্বকাপ খেলুড়ে  অন্যান্য কয়েকটি দেশের পতাকারও চাহিদা আছে৷''

অডিও শুনুন 01:57
এখন লাইভ
01:57 মিনিট

‘‘পতাকা বিক্রি করে ঈদের খরচ তুলে ফেলেছি''

সোহেল আরো জানান, ‘‘পতাকার মতো জার্সিও বিক্রি হয়েছে প্রচুর৷ এবার ঈদের কেনাকাটার চেয়ে  বিশ্বকাপে বিভিন্ন দেশের পতাকা আর জার্সি কেনায়ই তরুনরা বেশি ব্য ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন৷ গুলিস্তান, সদরঘাট ও কেরানিগঞ্জে ছোট ছোট কারখানা রাতদিন ব্যস্ত জার্সি আর পতাকা বানাতে৷ তারা খাওয়া দাওয়া ভুলে গিয়ে জার্সি আর পতাকা বানিয়েছে৷''

এদিকে কেউ কেউ তাঁদের বাড়িটিই পছন্দের দলের পতাকার রংয়ে রাঙিয়েছেন৷ ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের ‘ব্রাজিল বাড়ি' বিশ্ব মিডিয়ায় স্থান করে নিয়েছে৷ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লালপুর এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন ওরফে টুটুল তাঁর প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার নজির সৃষ্টি করতে নিজের ছয়তলা বাড়িটি ব্রাজিলের পতাকার রঙে রাঙিয়েছেন৷ শুধু বাড়িকে ব্রাজিলের পাতাকায় সাজানোই নয়, বাড়ির নাম ফলকেও এই বাড়ির পরিচিতি এখন ‘ব্রাজিল বাড়ি'৷ তিনি রাশিয়া গেছেন ব্রাজিলের খেলা দেখতে৷

আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও কম যান না৷ নারায়ণগঞ্জেরই গলাচিপা এলাকায় মো: আউয়াল মিয়া তাঁর নিজের বাড়ির রং করেছেন আজেন্টিনার পতাকার আদলে৷ এমনকি বাড়ির গাছেও আর্জেন্টিনার পতাকার রঙ মেখেছেন৷ বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন আজেন্টিনা ভক্ত সমর্থকরা বাড়ির সামনে  ভিড় জামাচ্ছেন৷

দীর্ঘ পতাকা বানানোরও প্রতিযোগিতা চলছে৷ তবে সবচেয়ে বড় পতাকা বানানো হয়েছে জার্মানির৷ মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন এবার সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ  জার্মানির পতাকা বানিয়েছেন৷ ২০০৬ সাল থেকে তিনি এই পতাকা বানিয়ে আসছেন জার্মনিকে ভালোবেসে৷

বাংলাদেশে বিশ্বকাপের সময় প্রিয় বিদেশি ফুটবল দলের পতাকা টানানোর  বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিটও হয়েছে৷

রিটকারী মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ নুরুল আমিন আবেদনে বলেন, ‘‘ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের বাংলাদেশি সমর্থকরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশি পতাকা উত্তোলন করেন৷ বিশেষত আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি ইত্যাদি দেশের বড় বড় পতাকায় সারা বাংলাদেশ ছেয়ে যায়৷ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলো ছাড়া অন্য কোনো স্থানে অন্য রাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলন করতে হলে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে৷ সেই বিধান লঙ্ঘন করে ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে নির্বিচারে দেশব্যাপী বিদেশি পতাকা উত্তোলন করা হয়৷ কিন্তু আদালত ওই রিট শেষ পর্যন্ত গ্রহণ না করে ফেরত দেন৷

এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশি-নব্বইয়ের দশকে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ছিলেন ব্রাজিলের  পেলে৷ ব্রাজিলের ‘কালো মানিক' তখন থেকেই এ দেশে পরিচিত নাম৷ এতে ব্রাজিলের প্রতি সমর্থনও বেড়ে যায়৷ আর আর্জেন্টিনা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয় ১৯৮৬ বিশ্বকাপে৷ সেটা দিয়েগো মারাদোনার জাদুতে ভুলে৷ ঠিক তখন থেকেই এ দেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু বলে এএফপিকে জানিয়েছে বাংলাদেশের ফুটবল অভিজ্ঞরা৷

অডিও শুনুন 00:55
এখন লাইভ
00:55 মিনিট

‘‘আমরা স্বপ্ন দেখি, একদিন বাংলাদেশও বিশ্বকাপে খেলবে৷''

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলছে না৷ তারপরও কেন এই উন্মাদনা? র‌্যাকিংয়ে বিশ্বের ২১১টি দেশের মধ্যে ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯৪৷ ব্রাজিলের সমর্থক রাফসানজানি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা বাংলাদেশের মানুষ ফুটবল ভালোবাসি৷ আমরা ফুটবল-পাগল৷ তাই বিশ্বের যেখানেই ফুটবল খেলা হোক, তা নিয়ে আমাদের আগ্রহ থাকে৷ আমরা স্বপ্ন দেখি, একদিন বাংলাদেশও বিশ্বকাপে খেলবে৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘ছোটবেলা থেকেই দেখছি, আমাদের পরিবারের সবাই ব্রাজিলের সমর্থক৷ ব্রাজিলের খেলা আমাদের ভালো লাগে৷ তবে এই সমর্থন নিয়ে সংঘর্ষ, সংঘাত কাম্য নয়৷''

আর আর্জেন্টিনার সমর্থক আমানুর রহমমান রনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আর্জেন্টিনার শৈল্পিক খেলা আমার পছন্দ৷ মারাদোনার খেলা দেখে আর্জেন্টিনার ভক্ত হয়েছি৷ এখনো আর্জেন্টিনার সাথে আছি৷''

অডিও শুনুন 01:04
এখন লাইভ
01:04 মিনিট

‘‘খেলা নিয়ে সংঘাত, সংঘর্ষ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷''

তিনিও মনে করেন, ‘‘খেলা নিয়ে সংঘাত, সংঘর্ষ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ খেলা মহান৷ আমাদের সহনশীল হতে হবে৷''

বিশ্বকাপ চলাকালে বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনার আরো অনেক কিছু দেখা যাবে৷ প্রিয় দল জিতলে ভুড়িভোজের আয়োজন করবেন অনেকেকই৷ রাস্তায় ব্যান্ড বাজিয়ে পতাকা নিয়ে মিছিলও হবে৷

এই ফুটবল পাগল জাতি নিজেরাই বিশ্বকাপে খেলতে চায়৷ সেই স্বপ্ন পুরণ  হবে কবে!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়