বিশাল ঢেউয়ের রহস্যের সন্ধানে জার্মানিতে গবেষণা | অন্বেষণ | DW | 05.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বিশাল ঢেউয়ের রহস্যের সন্ধানে জার্মানিতে গবেষণা

সমুদ্রতটে ঢেউয়ের ধাক্কায় স্নান করতে অনেকেই পছন্দ করেন৷ কিন্তু ২০ মিটার উঁচু দৈত্যাকার ঢেউয়ের সামনে বিশাল জাহাজও অসহায় হয়ে পড়ে৷ এমন ঢেউ সৃষ্টির রহস্য ভেদ করতে জার্মানির এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিচ্ছে৷

মহাসাগরে ৮ থেকে ১০ মিটার উঁচু ঢেউ মোটেই বিরল ঘটনা নয়৷ যে কোনো মুহূর্তে মহাসাগরের কোনো অংশে ১০টি এমন ‘মনস্টার ওয়েভ' সৃষ্টি হয়৷ আচমকা ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ দেখা দিতে পারে৷

জার্মানির হানোফার শহরের ফ্রানৎসিউস ইনস্টিটিউটে বিজ্ঞানীরা এমন দৈত্যাকার ঢেউ সৃষ্টি করতে পারেন৷ তবে এক্ষেত্রে কোনো ঝড়ঝঞ্জার কারণে পানি ফুলে ওঠে না৷ কম্পিউটার পানির নীচে প্লেটগুলি সঞ্চালন করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে৷ ঢেউ গবেষক নিল্স ক্যার্পেন এ বিষয়ে বলেন, ‘‘উত্তর সাগরে এই ঝড়ের সময় ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ দেখা যায়৷ এটাই এই ধরনের ঝড়ের বৈশিষ্ট্য৷ এ ক্ষেত্রে অতি বিরল এক ঘটনা দেখা গেছে৷ ২৫ মিটার এক ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে৷ একেই ‘মনস্টার ওয়েভ' বলা হয়৷''

এমন দৈত্যাকার ঢেউয়ের বৈশিষ্ট্য হলো, আশেপাশের সবচেয়ে বড় ঢেউয়ের তুলনায় এর উচ্চতা দ্বিগুণ বা তিনগুণ হতে পারে৷ ফলে সেটি দ্বিগুণ বা তিনগুণ খাড়া হয়ে ওঠে৷ সাধারণ ঢেউয়ের তুলনায় তার জোর প্রায় ১০ গুণ বেশি৷

যে ঝড়ের কারণে ৮ মিটার উঁচু ঢেউ সৃষ্টি হয়, সেই ঝড়ে হঠাৎ ২০ মিটারেরও বেশি উঁচু ঢেউ জেগে উঠে আবার কীভাবে উধাও হয়ে যায়, বহুকাল তা এক রহস্য ছিল৷ এখন এর ব্যাখ্যা জানা গেছে৷ পানির মধ্যে ঢেউ সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে না৷ যে ঢেউয়ের উঁচু ও নীচু অংশের মধ্যে ব্যবধান কম, তার গতি কমে যায়৷

অন্যদিকে বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ঢেউয়ের গতি অনেক বেশি হয়৷ সেগুলি ছোট ঢেউগুলিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায়৷ দুই ঢেউ মিলে সেগুলির সম্মিলিত উচ্চতা বেড়ে যায়৷ এমন করে অনেকগুলি ঢেউ মিলে ‘মনস্টার ওয়েভ'-এ পরিণত হয়৷ দৈত্যাকার এমন ঢেউ অত্যন্ত খাড়া হয়৷ কোনো জাহাজের পক্ষে সেই ঢেউ অতিক্রম করা অসম্ভব৷ সেই ঢেউ তখন জাহাজের উপরে গিয়ে পড়ে৷

বিশাল পরিমাণ পানি জাহাজের ডেকের উপর মারাত্মক জোরে আছড়ে পড়ে৷ সমুদ্রের উপর এমন পরিস্থিতিতে জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং ইস্পাতের তৈরি অংশগুলি বেঁকে যায়৷ সহজ আকারের ‘মনস্টার ওয়েভ' বোঝা বেশ সহজ৷ গবেষণাগারেও তা নকল করা সম্ভব৷

তবে এই তত্ত্বেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে৷ কারণ পরিমাপ করে দেখা গেছে, সমুদ্রে ‘মনস্টার ওয়েভ'-এর সংখ্যা হিসেবের তুলনায় অনেক বেশি৷ সেই মডেল অনুযায়ী বড় আকারের ঢেউ দ্রুত উধাও হয়ে যায়৷ খুব বড় ঝড়ের ক্ষেত্রে ১০ মিটারেরও বেশি উঁচু ঢেউ সৃষ্টির সম্ভাবনা মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য তিন শতাংশ৷

তবে পরিমাপ অনুযায়ী বড় আকারের ঢেউ ঘনঘন দেখা যাচ্ছে৷ ১০ মিটার উঁচু ঢেউয়ের সম্ভাবনা বাস্তবে এক শতাংশে দাঁড়িয়েছে৷ নিল্স ক্যার্পেন এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘‘প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী প্রত্যেকটি ঢেউয়ের নিজস্ব শক্তি রয়েছে৷ সেই শক্তি একত্র হয়ে বিশাল আকারের ঢেউ সৃষ্টি করতে পারে৷ পরে সেই একই শক্তি কাজে লাগিয়ে ঢেউগুলি আবার একে অপরের কাছ থেকে দূরে চলে যেতে পারে৷ নতুন তত্ত্ব অনুযায়ী সেই শক্তি এক ঢেউ থেকে অন্য ঢেউয়ে পাঠানো যেতে পারে৷ বাড়তি শক্তি পেয়ে একটি ঢেউ এগিয়ে যায়, অন্যটি শক্তি ত্যাগ করে দুর্বল হয়ে পড়ে৷''

অর্থাৎ ঢেউ তার প্রতিবেশীর কাছ থেকে শক্তি গ্রহণ করে বড় হয়ে উঠতে পারে, এমনকি ‘মনস্টার ওয়েভ' হয়ে উঠতে পারে৷ বড় জাহাজের জন্যও এমন ঢেউ বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়ায়৷

উলরিশ গ্র্যুনেভাল্ড/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন