বিরল গণ্ডার বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 07.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বিরল গণ্ডার বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ

চোরাশিকারিদের হাত থেকে লুপ্তপ্রায় প্রাণীদের রক্ষা করা আজ বিশ্বের অনেক প্রান্তেই একটা বড় চ্যালেঞ্জ৷ আফ্রিকায় একটি প্রকল্প বিরল প্রজাতির গণ্ডার রক্ষায় যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে৷

গণ্ডারের অভয়ারণ্য

উগান্ডায় প্রায় ৭০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এক অভয়ারণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে সাদা গণ্ডাররা নিরাপদে থাকতে পারে৷ উগান্ডার মুক্ত প্রকৃতিতে তারা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও এখানে ২৪টি প্রাণী বিচরণ করছে৷ রেঞ্জার হিসেবে রেমন্ড ওপিও গণ্ডারের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন৷ তাদের খোঁজে কখনো তাঁকে ঘন জঙ্গলে প্রবেশ করতে হয়৷ সেখানেই উহুরু ও তার শিশুসন্তানের দেখা পাওয়া গেল৷ জুন মাসে তার জন্ম রয়েছে৷ গণ্ডার মা প্রায় ১৮ মাস ধরে গর্ভধারণ করে৷

মা ও শিশু গণ্ডারদের ক্ষেত্রে বেশ সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়৷ রেমন্ড ওপিও বলেন, ‘‘উহুরু মেয়ে হিসেবে একেবারে তার মায়ের মতো হয়েছে৷ মায়েরও একই চরিত্র৷ সামান্য একটা কাঠি ভাঙলেও মায়ের কান খাড়া হয়ে যায়৷ সে এর মধ্যেই সেদিকে মুখ করে রয়েছে৷ উহুরু সেরকম, কোনো রকম বিঘ্ন সহ্য করে না, যা আসবে, তার উপরই হামলা করবে৷''

গণ্ডাররা পথ কেটে গেলে গাড়ির চালককে ঘাবড়ে যেতেই হয়৷ এ অবস্থায় নড়াচড়া না করাই ভালো৷ একমাত্র তখনই প্রাণীরা বুঝতে পারে, যে কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই৷

রাইনো ফান্ডের বিশাল মাপের উদ্যোগ

রাইনো ফান্ডের কর্ণধার অ্যাঞ্জি জেনেড-এর অধীনে এখানে প্রায় ৯০ জন রেঞ্জার কাজ করেন৷ ২০০৮ সাল থেকে তিনি এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং অনেক নতুন কর্মী নিয়োগ করেছেন৷ তাঁর কার্যকালে রাইনো ফান্ড-এ প্রাণীদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে৷ অ্যাঞ্জি বলেন,‘‘বহুকাল ধরেই গণ্ডারদের অবস্থা বেশ করুণ৷ গত শতাব্দীর সত্তর ও আশির দশকের শুরুর দিকে সংক্ষিপ্ত সময়ে তারা নিরাপদ ছিল৷ তারপর চোরাশিকার বেড়ে যায়৷ সমস্যা হলো, একটি নয় – অনেকগুলি দেশ জুড়েই তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে৷''

এখনো পর্যন্ত অভয়ারণ্যে কোনো গণ্ডার মারা হয়নি৷ ১৮ বছর ধরে রাইনো ফান্ডেগণ্ডারের প্রজনন চলছে৷ প্রথম প্রাণীটি কেনিয়া থেকে আনা হয়েছিল৷ তারপর বিভিন্ন চিড়িয়াখানা থেকে আরো গণ্ডার আনা হয়৷ রেঞ্জাররা দিন-রাত প্রাণীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন ও তাদের সব কার্যকলাপ নথিভুক্ত করেন৷ সেই তথ্য সারা বিশ্বের গবেষক ও চিড়িয়াখানার কাছে যায়৷

মার্টিন লোকিরু নিজের পরিবারের চেয়েও গণ্ডারদের আরো বেশি ঘনঘন দেখতে পান৷ বছরে মাত্র দু'বার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়৷ তিনি বলেন, ‘‘গণ্ডাররা আমার দ্বিতীয় পরিবার৷ তারাই আমার স্কুলের ফি দিচ্ছে, তারাই আমার পরিবারকে নিরাপদ থাকতে সাহায্য করছে৷''

আয়ের উৎস পর্যটন

মূলত পর্যটকদের থেকেই রাইনো ফান্ড-এর আয় হয়৷ সারা বিশ্ব থেকে তাঁরা আসেন৷ কারণ, একমাত্র এই সংরক্ষিত এলাকায়ই তাঁরা এই প্রজাতির গণ্ডারের দেখা পান৷ সুইজারল্যান্ডের পর্যটক কারেন লেভি বলেন, ‘‘আমরা আফ্রিকার পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশ চষে বেড়িয়েছি৷ কিন্তু একমাত্র গণ্ডারই দেখতে পাইনি৷ ৫টি বড় প্রাণী দেখতে গেলেও গণ্ডার আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসেছে৷ তাই এখানেই দেখার সুযোগ পাবো বলে এলাম৷''

এত রেঞ্জার এখানে সক্রিয় রয়েছেন বলেই গণ্ডাররা নিরাপদে রয়েছে৷ রেমন্ড ওপিও পর্যটকদের এই উদ্যোগের মূলমন্ত্র বুঝিয়ে বলেন৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমাদের বিশাল সাফল্যের পেছনে চারিপাশের সমাজেরও অবদান রয়েছে৷ আমরা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করি৷ সবার আগে তাঁদের কাছে এই প্রকল্প গ্রহণযোগ্য হতে হবে৷ চোরাশিকারি চীন বা অন্য কোনো জায়গা থেকে এসে গণ্ডার শিকার করতে পারে না, তাদের স্থানীয় মানুষদের কাজে লাগাতে হয়৷ কিন্তু স্থানীয় মানুষ আমাদের বন্ধু হলে সেটাই সেরা অর্জন৷ এখন তাঁরাই আমাদের খবর দেয়৷''

গরুপালকরাও এই উদ্যোগে শামিল হচ্ছেন৷ তাঁরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই অভয়ারণ্যে গরু চরাতে পারেন৷ প্রত্যেকে ৪০টি পর্যন্ত গরু নিয়ে আসতে পারেন৷ চাষি হিসেবে ড্যানিয়েল টুরিয়াহাবওয়ে বলেন, ‘‘এই অভয়ারণ্য আমাদের প্রাণীদের ঘাস পেতে সাহায্য করে৷ যথেষ্ট ঘাস থাকায় গরুরা আরো বেশি দুধ দিতে পারে৷''

চাষিদের সন্তানরাও এখন স্কুলে যেতে পারছে৷ রাইনো ফান্ডই তার জন্য অর্থ দিচ্ছে৷

ইয়ুলিয়া হাইনরিশমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন