বিমা ঘাটতিতে ‘হুমকিতে বাংলাদেশ′ | বিশ্ব | DW | 23.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

বিমা ঘাটতিতে ‘হুমকিতে বাংলাদেশ'

ইন্সু্রেন্সের ঘাটতি থাকায় বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দুর্যোগপ্রবণ উন্নয়নশীল দেশগুলো ঝড়, বন্যা ও ভূমিকম্পে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে৷

লন্ডনভিত্তিক ইন্সুরেন্স মার্কেট লয়েডস সোমবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বব্যাপী ১৬৩ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সম্পদের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিপরীতে ইন্সুরেন্স নেই, যা জীবিকা ও সমৃদ্ধির জন্য হুমকি৷

২০১২ সাল থেকে ইন্সুরেন্সবিহীন সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৩ শতাংশ কমেছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে৷

প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসহ বিভিন্ন দুর্যোগে খুব বেশি মাত্রায় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকা এবং ক্ষতি কাটিয়ে উঠার তহবিল সংগ্রহে সীমিত সামর্থ্যের অনেক দেশেই খুব কম ইন্সুরেন্স আছে৷

লয়েডসের চেয়ারম্যান ব্রুস কার্নেগি-ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘যদি ইন্সুরেন্স না থাকে তাহলে অর্থনীতি ও মানুষের জীবনজীবিকার ওপর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অনেক বেশি প্রভাব পড়তে পারে৷''

উদীয়মান ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোই প্রধানত বৈশ্বিক ‘ইন্সু্রেন্স ঘাটতি'র জন্য দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়৷

এতে বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর চেয়ে ধনী দেশগুলোতে ইন্সুরেন্স পেনিট্রেশন হার (জিডিপিতে শতকরা হারে বীমার অবদান) দ্বিগুণ৷

বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন্স, ইন্দোনেশিয়া, মিশর ও নাইজেরিয়ায় এই হার ১ শতাংশেরও কম৷

বিমা না থাকলে দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি পূরণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ দিতে হয়, এটা দরিদ্র দেশগুলোর জন্য একটি সমস্যা৷ কারণ, পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে৷

‘‘প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও বিমা না থাকাকে অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করা এবং বৈশ্বিক অসাম্য টিকিয়ে রাখার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে দেখা যেতে পারে৷''

লয়েডসের প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিরাট অংশে আরো গুরুতর, ঘনঘন ও ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টিকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ায় বিষয়টি উদ্বেগজনক৷ 

বিগত দশকে গত বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি৷ এখন বছরে দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

সমস্যা যেখানে

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সম্পদের দুর্যোগকালীন বিমা না করার পেছনে তা অনেকের জন্য বেশি ব্যয়বহুল হওয়ার কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে৷ এছাড়া বিমার মূল্য অনুধাবনের সীমাবদ্ধতা এবং বিমা কোম্পানির ওপর আস্থার সংকট পলিসি বিক্রির ক্ষেত্রে অন্তরায় বলে এতে বলা হয়৷

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্যোগ সহনশীলতায় বিনিয়োগ এবং বিমা এই দুটি একসঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে পারবে৷

গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে এক ডলার বিনিয়োগ করলে তা পুনর্বাসনের ৪ ডলার খরচ কমিয়ে দেয়৷

সোমবারই লয়েডস ও ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত সেন্টার ফর গ্লোবাল ডিজাস্টার প্রোটেকশনের এ বিষয়ে আরো একটি প্রতিবদেন প্রকাশিত হয়৷ সেখানে দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামোয় বিনিয়োগ টানতে পারা এবং বিমা আওতা বাড়ানোর চারটি উদ্ভাবনী আর্থিক পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে৷

 

তারা স্বল্প সুদের ঋণ, যাতে বিমা অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং বন্ডের কথা বলেছেন, যার পেমেন্ট দুর্যোগ সহনশীল পদক্ষেপের সাফল্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে৷

এছাড়া তারা রেজিলিয়েন্স সার্ভিস কোম্পানির ধারণা দিয়েছেন, যারা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ইন্সুরেন্স প্রিমিয়াম কমাতে কাজ করবে৷

তবে লয়েডসের কার্নেগি ব্রাউন বলছেন,বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলোর জন্য অন্যান্য অর্থনৈতিক সমস্যার তুলনায় বিমা কেনাটা কম গুরুত্বপূর্ণ৷

তিনি দাতা দেশগুলোর প্রতি এসব দেশের সুরক্ষা জোরদারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অর্থায়নের উপায় খুঁজতে ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটগুলোর সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন৷ 

‘‘স্বল্প সামর্থ্যের দেশগুলোর দুর্যোগ সহনশীল প্রচেষ্টায় যে পরিমাণ সহায়তা করা দরকার বলে আমরা মনে করি, তা সত্যিকার অর্থে উন্নত বিশ্ব করছে না,'' থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে বলেন তিনি৷

এএইচ/এসিবি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন