বিমানচালনা কি গাড়ি চালানোর মতোই সহজ হতে চলেছে? | অন্বেষণ | DW | 27.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বিমানচালনা কি গাড়ি চালানোর মতোই সহজ হতে চলেছে?

বড় বড় এয়ারলাইনারের সেফটি রেকর্ড ছোট বিমানের তুলনায় ভাল৷ তার একটি কারণ হল, বড় যাত্রীবাহী বিমানে অটো-পাইলট থাকে৷ ছোট বিমানের ক্ষেত্রেও এ ধরনের যান্ত্রিক সহযোগীর ব্যবস্থা করতে চাইছেন গবেষকরা৷

বিমানটাকে অন্য সব বিমানের মতোই দেখতে৷ ছোট বিমান চালানোর ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা বাড়ানো যায় কিনা, তা দেখার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে ৷

ইউরোপে ছোট বিমানগুলির ক্ষেত্রে প্রতি ১০,০০০ ঘণ্টা উড়ালপ্রতি কোনো না কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে৷ বড় এয়ারলাইনারগুলির তুলনায় ছোট বিমানের সেফটি রেকর্ড অনেক বেশি খারাপ৷ গবেষকরা সে বিষয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করছেন৷

ধরা যাক, অস্ট্রিয়ান আল্পসের উপর দিয়ে একটি সাধারণ ছোট বিমান উড়ে যাচ্ছে –  বিমানটির ফ্লাইট কন্ট্রোল কিন্তু মানুষের হাতে নয়; ইলেকট্রনিক সংকেত আর কম্পিউটারের উপর নির্ভর করে বিমানটি চলেছে৷ সহজ কথায়, পাইলট একটি কম্পিউটারের মাধ্যমে বিমানটি চালাচ্ছেন – সারা বিশ্বে যা ডিজিটাল ‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার' উড়াল প্রণালী বলে পরিচিত৷

‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার'

ছোট বিমানে ওড়ার নিরাপত্তায় ব্যাপক অবদান রেখেছে এই প্রণালী৷ বড় বড় এয়ারলাইনার ও বিজনেস জেটে বহু দশক ধরে এই প্রণালী ব্যবহার করা হচ্ছে – কিন্তু ছোট বিমানের জন্য এই ফ্লাইট সিস্টেম বড় ভারি, আকারে অনুপযোগী এবং দামী বলেই এযাবৎ ধরে নেওয়া হত৷ তারপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি গবেষণা প্রকল্পে বিষয়টির দিকে নজর দেওয়া হয়৷

র সেবাস্টিয়ান পোলেনৎস বললেন, ‘‘আমরা যদি বিমানচালনাকে গাড়ি চালানোর মতো সহজ করে তুলতে চাই, তাহলে আমরা প্রত্যাশা করতে পারি না যে, সব পাইলট বিমানচালনায় উচ্চ প্রশিক্ষণ নিয়ে বিমানে উঠবেন ও বিমান চালনার সময় নানা ধরনের যোগ্যতা প্রদর্শন করবেন৷ কাজেই আমাদের কম অভিজ্ঞ বিমানচালকদের জন্য এমন সব ফাংশন ও অপারেশনের প্রণালী রাখতে হবে, যার ফলে এই বিমানগুলো আরো নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে৷''

‘ডিজিটাল ফ্লাইট কন্ট্রোল'

 জার্মানির একটি এয়ারোস্পেস ল্যাবরেটরিতে বিজ্ঞানীরা নিরাপদ, অটোমেটেড ও অটোনোমাস বিমানচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সফ্টওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তৈরি করেছেন৷ সেজন্য তাদের এমন সব ইলেকট্রনিক প্রণালী উদ্ভাবন করতে হয়েছে, যেগুলি বিমানের কর্মপদ্ধতিতে কোনোরকম গুরুতর গোলযোগ দেখা দিলেও সামাল দিতে পারে – এমনকি বিমানচালক যদি সে গোলযোগ খেয়াল পর্যন্ত না করে থাকেন, সেক্ষেত্রেও৷

নেদারল্যান্ডসে গবেষকরা একটি সিমিউলেটরে একটি ডিজিটাল ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম পরীক্ষা করেন৷ পরীক্ষায় দেখা যায় যে, সিমিউলেটর বিমানের উড়ালে অথবা পারিপার্শ্বিকে ব্যাপক গোলযোগের অনুকরণ করলেও, ঐ ডিজিটাল ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম তা সামলে দিতে সক্ষম হয়েছে, এমনকি টেস্ট পাইলটদের হস্তক্ষেপ পর্যন্ত করতে হয়নি৷

এয়ারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আলেক্সান্ডার ইন 'ট ভেল্ড জানালেন, ‘‘খারাপ আবহাওয়ায় পড়লে অথবা বাতাসের ধাক্কা এলে, বিমানটাকে ঠিকভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সত্যিই কঠিন৷ এই ফ্লাই-বাই-ওয়্যার সিস্টেম লাগানোর ফলে শুধুমাত্র বিমানের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করলেই চলে – যা খুব সহজ৷ সিস্টেম সুইচ অন করলেই আর চিন্তা নেই৷ তা বলে বিমান কিন্তু নিজে থেকে উড়ছে না৷ কিন্তু পাইলটকে শুধু ছোটখাট পরিবর্তন করতে হচ্ছে৷ বাতাসের ধাক্কার ফলে যে বিমানের দিক বা গতি পরিবর্তন ইত্যাদি রদবদলের কাজ করতে হয়, সিস্টেমই তা করে দিচ্ছে৷''

গবেষকদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হল: একটানা ওড়া এক কথা – কিন্তু আকাশে ওঠা বা মাটিতে নামার সময়েও ডিজিটাল ফ্লাইট কন্ট্রোল ব্যবহার করা কি সম্ভব?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়