বিপ্লব রিমান্ডে, ‘তৌহিদীদের′ গ্রেপ্তারে পুলিশের অনাগ্রহ | বিশ্ব | DW | 25.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বিপ্লব রিমান্ডে, ‘তৌহিদীদের' গ্রেপ্তারে পুলিশের অনাগ্রহ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা নেই৷ মাত্র দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ কিন্তু যে তরুণের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়েছে দুর্বৃত্তরা উল্টো তাকেই রিমান্ডে নেয়া হয়েছে৷

বোরহানউদ্দিনে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়ানো হয়েছিলো বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য শুভর ফেসবুক আইডি হ্যাক করে৷ সংঘর্ষের আগের দিন শনিবার এনিয়ে বিপ্লব বোরহানউদ্দিন থানায় জিডিও করেন৷ আর হ্যাকিং সাথে জড়িত দুইজন মো. ইমন ও রাফসান ইসলামকে আটকও করেছে পুলিশ৷ তারপরও পুলিশ হ্যাকিং-এর সঙ্গে জড়িত দুইজনের সঙ্গে একই জিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বিপ্লবকে আসামি করেছে৷ বৃহম্পতিবার বিপ্লবকেও ওই দুইজনের সঙ্গে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ভোলার আদালত৷

সংঘর্ষের দিন পুলিশ জানিয়েছিলো বিপ্লবের আইডি হ্যাক হওয়ার প্রমাণ তারা পেয়েছেন৷ তারপরও বিপ্লবকে কেন ডিজিটাল আইনের মামলায় আসামি করে রিমান্ডে নেয়া হলো? এই প্রশ্নের জবাবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোরহানউদ্দিন থানার সাব ইন্সপেক্টর(এসআই) মোহাইমেনুল ইসলাম শাওন ডয়চে ভেলেকে বলেন,‘‘বিপ্লব জিডি করেছে যে তার আইডি হ্যাক হয়েছে৷ কিন্তু প্রকৃতই কী ঘটেছে তা এক্সপার্ট মতামত না পাওয়ার আগে বলা যাবে না৷ আর যে দু'জনকে আটক করা হয়েছে তাদের একজন অন্যজনের মোবাইল ব্যবহার করে হ্যাক হওয়া আইডি ফেরত দিতে বিপ্লবের কাছে দুই হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল৷ এখন বিপ্লব তার আইডি হ্যাক হওয়ার আগে মেসেজ দিয়েছে না অন্যরা হ্যাক করে দিয়েছে তা এখনো আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি৷ সে জন্যই মামলা এবং রিমান্ড৷আদালত রিমান্ড দিলেও পরিস্থিতির কারণে আমরা বিপ্লবসহ তিনজনকে এখনো থানায় আনিনি৷ তারা এখনো কারাগারে আছেন৷ পরিস্থিতি অনুকুল না হলে ভোলায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করব৷''

অডিও শুনুন 00:49

‘ প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত যে বিপ্লবের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে’

বোরাহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মু. এনামুল হক সংঘর্ষেও দিন রবিবার সন্ধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন,‘‘আমরা প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছি যে বিপ্লবের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে৷ তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখেছি যে তার ফোন থেকেও কোনো ফেসবুক মেসেজ দেয়া হয়নি৷ তাকে ফাঁসানো হয়েছে৷''

 তারপরও বিপ্লবকে রিমান্ডে আনার কারণ জানতে চাইলে শুক্রবার তিনি বলেন,‘‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে৷ এখন আমি কোনো মন্তব্য করব না৷''

বিপ্লবের বাড়ি বোরহানউদ্দিন সদর থেকে তিন কি.মি. দূরে কাইচ্যা দুই নাম্বার ওয়ার্ডেও তোরাকান্দি৷ সে একটি স্থানীয় কলেজ থেকে ডিগ্রী পাশ করেছেন৷ বাবার নাম চন্দ্রমোহন বৈদ্য৷ চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট৷ দুই ভাই দেশের বাইরে থাকেন৷ বোনের বিয়ে হয়ে গেছে৷  বিপ্লবের চাচাত ভাই পবিত্র বৈদ্য ডয়চে ভেলেকে বলেন,‘‘বিপ্লবকে প্রেপ্তার ও রিমান্ডের খবরে আমরা বিস্মিত হয়েছি৷ তার বাবা-মা এখন বলতে গেলে শয্যাশায়ী৷ বিপ্লবের আইডি যে হ্যাক হয়েছিল এটা আমরা সবাই জানি৷ সে জিডিও করেছে৷ তারপরও কেন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিল বুঝতে পারছিনা৷ পুলিশ বলছে এটা এখন ঢাকায় তদন্ত হচ্ছে৷''

তিনি জানান,‘‘আমাদের বাড়িতে পুলিশ পাহারা দেয়া হয়েছে৷ তারপরও আমরা আতঙ্কে আছি৷''

অডিও শুনুন 02:28

‘বিপ্লবকে প্রেপ্তার ও রিমান্ডের খবরে আমরা বিস্মিত হয়েছি’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের(সুজন) ভোলা জেলা শাখার শভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন,‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে বলেছেন বিপ্লবের ফেসবুক কে হ্যাক করেছে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে৷ এরজন্য ফেসবুকের সহায়তা নেয়া হয়েছে৷ শিগগিরই হ্যাকারকে দেখতে পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি৷ এরপর তাকে রিমান্ডে নেয়া, তার বিরুদ্ধে জিজিটাল আইনে মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ তাকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা যায়৷ সেটা আলাদা কথা৷এটা নিয়ে এখন রাজনীতি হচ্ছে৷ সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছে৷ সেই মামলার আসামিদেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছেনা৷ এখানে পুলিশ তেমন তৎপরতা দেখাচ্ছেনা৷ মনে হয় এমপি সাহেব চাচ্ছেন না তাদেও গ্রেপ্তার করা হোক৷''

বোরহানউদ্দিনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুলও রবিবার ডয়চে ভেলেকে বলেছিলেন, বিপ্লবের আইডি হ্যাক হয়েছে৷ হ্যাকাররা তার কাছে চাঁদাও চেয়েছে৷ তবে শুক্রবার এ বিষয়ে আবারো কথা বলার জন্য তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি৷

সংঘর্ষ, পুলিশের ওপর হামলা ও চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাত পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা হলেও এপর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র দুই জন৷ তারা হলেন মো. আরিফ ও মো. সজিব৷ তাদেরও বৃহস্পতিবার তিনদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে৷ ঘটনার দিন ‘তৌহিদী জনতার' যে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছিল তাদের সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে৷ এ প্রসঙ্গে ওসি মু. এনামুল হক বলেন,‘‘আমরা চাইছি নিরীহ কেউ যেন হয়রানীর শিকার না হন৷ তাই ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়ার আগে কাউকে আটক করছি না৷'' তিনি রাজনৈতিক চাপের কারণে জড়িতদের গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ অস্বীকার করেন৷

এদিকে সংঘর্ষের দিন হিন্দুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও বাড়ি ঘরে হামলার ঘটনায়ও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন