বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ঈদ | বিশ্ব | DW | 01.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ঈদ

বাংলাদেশে ঈদ উল-আজহা শনিবার৷ অথচ উত্তরাঞ্চলের বন্যাদুর্গতরা এখনো ঘরে ফিরতে পারেননি৷ ওদিকে নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, আসছে রোহিঙ্গরা৷ আছে রাজনীতির সংকটও৷ তাহলে কেমন হচ্ছে এবারের ঈদ?

সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কথায় স্পষ্ট হয়েছে কোরবানির ত্যাগের মূল উদ্দেশ্য৷ তিনি এই ত্যাগকে দেখছেন মানবতার জন্য দুর্গতদের জন্য, নির্যাতিতদের জন্য ত্যাগ হিসেবে৷ তিনি বলেন, ‘‘এই ঈদে বিলাসিতা করা যাবে না, বরং খরচ কমাতে হবে৷ খরচ কমিয়ে, টাকা বাঁচিয়ে, তা দিয়ে বন্যাদুর্গত এবং রোহিঙ্গাদের সহায়তা করা উচিত৷ এটাই হবে সবচেয়ে বড় ‘স্যাকরিফাইস'৷ আমাদের এই ঈদে মানবতার পাশে দাঁড়াতে হবে৷''

অডিও শুনুন 00:27
এখন লাইভ
00:27 মিনিট

‘এই ঈদে বিলাসিতা করা যাবে না, বরং খরচ কমাতে হবে’

চিত্রনায়ক ইমনের কথায় ঈদ উল-আজহার প্রকৃত দিকটি ফুটে উঠেছে৷ তিনি বলেছেন, ‘‘দেশে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে৷ আমি ব্যক্তি ইমন হিসেবে বলতে চাই যে, সবাই মিলে আসুন আমরা বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই৷ এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব৷ এখন অনেক জায়গায় পানি হয়ত নেমে যাবে৷ কিন্তু মূল ‘ক্রাইসিস' এখনও আমাদের মোকাবিলা করতে হবে৷ কারণ নানারকম রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ শুরু হবে এবার৷''

ইমন আরো বললেন, ‘‘এটা কোরবানির ঈদ৷ আর আপনার পাশেই কিন্তু বন্যাদুর্গত রয়েছে৷ তাই একটু মানবিক হতে হবে আমাদের৷ আপনি কোরবানি দেবেন, কিন্তু তাঁদের জন্যও যদি কোরবানির মাংসের একটু ব্যবস্থা করতে পারেন, আমি নিশ্চিত এরচেয়ে সুন্দর কোরবানির ঈদ আর হবে না৷''

অডিও শুনুন 03:09
এখন লাইভ
03:09 মিনিট

‘আমরা যেন সবাই দুর্গত, নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াই’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘‘ঈদ একটা ধর্মীয় উৎসব৷ এটা যাঁরা পালন করেন, তাঁরা তো ধর্মীয় রীতিতে পালন করবেন৷ কিন্তু এবার দেশের বন্যাদূর্গতদের জন্যও আমাদের নাগরিকদের কিছু করার আছে৷ তাঁদের কথা মনে রেখে তাঁদের পাশেও যেন আমরা দাঁড়াই৷ এছাড়া নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার করছে৷ সরকার যেন সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপ সৃষ্টি করে৷''

বিএনপি-র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘‘বন্যাদুর্গতরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন৷ সরকারি সহায়তা নেই বললেই চলে৷ মিয়ানমারে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন রোহিঙ্গা মুসলমানরা৷ তাঁদের আমরা মানবিক আশ্রয়ও দিতে চাইছি না৷ তার ওপর রাজনীতিও এখন রুদ্ধ হয়ে পড়েছে৷

অডিও শুনুন 01:49
এখন লাইভ
01:49 মিনিট

‘বলেছি, সবাই যেন অসহায়, দুর্গত ও বিত্তহীন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঈদ করেন’

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে দেশে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ এবারের ঈদে তাই উৎসব নেই৷ আছে বিষণ্ণতা আর মানবতার কান্না৷ দেশের মানুষ ভালো নাই৷ তারপরও বলছি আমরা যেন সবাই দুর্গত, নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াই এই কোরবানির ঈদে৷ তাহলেই কোরবানির মূল উদ্দেশ্য সফল হবে৷''

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘‘বন্যাদুর্গতদের সহয়তার জন্য সরকার সাধ্যমত করছে৷ এবার আমারা সারা দেশের নেতা-কর্মীদের বলেছি যে, তাঁরা যার যার এলকায় যেন অসহায়, দুর্গত ও বিত্তহীন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঈদ করেন৷ কেউ যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়৷ নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেও৷ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যাঁরা মানবাধিকারের কথা বলেন, তাঁদেরও এগিয়ে আসা উচিত৷''

অডিও শুনুন 01:26
এখন লাইভ
01:26 মিনিট

‘এবার বন্যাদূর্গতদের জন্যও দেশের নাগরিকদের কিছু করার আছে’

এবার কোরবানির ঈদে ছুটি পাননি ঢাকার কারওয়ান বাজারে শুক্রবার দুপুরে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট হাবিবুর রহমান৷ তাঁর বাড়ি দিনাজপুরে৷ তিনি বলেন, ‘‘এবার ছুটি পাইনি সেজন্য মনে কষ্ট আছে৷

কিন্তু বন্যাদুর্গত আর রোহিঙ্গাদের কথা মনে পড়লে আর কষ্ট থাকে না৷ আমাদের দিনাজপুরে বন্যা হয়েছে৷ অনেক পরিবার যারা আগে কোরবানি দিত, তারা এবার কোরবানি দিতে পারছে না৷ আমাদের সবার উচিত তাঁদের পাশে দাঁড়ানো৷''

এদিকে ঈদের আগেই বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম৷ তিনি ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘‘আমি বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা নিয়েছি৷ আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আপনারাও আর্থিকভাবে অথবা ত্রাণ সহায়তা দিয়ে বা যেভাবেই হোক, তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ান৷

আপনিও কি এই ঈদে বন্যার্তদের পাশে আছেন? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও