বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই জ্ঞান চর্চা করছেন বর্ষীয়ান নারী | অন্বেষণ | DW | 26.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই জ্ঞান চর্চা করছেন বর্ষীয়ান নারী

জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতার জন্য কি কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন থাকতেই হবে? ভারতের এক বর্ষীয়ান নারী নিজের বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই জ্ঞান চর্চা, জ্ঞান বিতরণ করে চলেছেন৷

সেইসঙ্গে সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন৷

বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই জীবনযাত্রা

অবসরপ্রাপ্ত উদ্ভিদবিদ্যা প্রোফেসর হেমা সানে-কে সন্ধ্যায় আলোর জন্য প্রাচীন লণ্ঠনের উপর নির্ভর করতে হয়৷ পারিবারিক এই সম্পদ বংশানুক্রমে তাঁর হাতে এসেছে৷ গত ৮ দশক ধরে তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেননি৷ তিনি নিজের জীবনযাত্রায় এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে নিজের সাফল্য সম্পর্কে একেবারেই সচেতন নন৷ তিনি বলেন, ‘‘জন্ম থেকেই আমি বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন কাটাচ্ছি৷ তবে এখানে আমার জন্ম হয়নি৷ কোনো এক হাসপাতালে জন্মেছি৷ কিন্তু সেখান থেকে বাসায় আনার পর আর বিদ্যুৎ ছিল না৷ এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই৷ মানসিকতাও সে রকম হয়ে গেছে৷ কখনোই বিদ্যুৎ ও অন্যান্য স্বাচ্ছন্দ্য পাবার কথা ভাবি নি৷''

উদ্ভিদবিদ্যার প্রোফেসর হিসেবে ৭৯ বছর বয়সি সানে এমনকি পিএইচডি করার সময়ও মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা চালিয়েছেন৷ ভারতে গ্র্যাজুয়েশনের ছাত্রদের জন্য বেশ কয়েকটি পাঠ্যবইও লিখেছেন তিনি৷ হেমা বলেন, ‘‘আমি চিমনি নামের ছোট বাতির আলোয় পিএইচডি থিসিস লিখেছিলাম৷ সেটা ছিল মে মাস, ভীষণ গরম ছিল৷ গরম চিমনির পাশে বসে লিখতে হতো৷'' 

ভিডিও দেখুন 05:46

লন্ঠনের আলোয় ডক্টরেট

তাঁর জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে মনে রাখতে হবে যে ভারতে প্রত্যেক ব্যক্তি বছরে গড়ে প্রায় ৮০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে৷ অ্যামেরিকার ক্ষেত্রে সংখ্যাটি বছরে ১৩,০০০ কিলোওয়াট৷ সানে প্রায় শূন্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন৷ ভিশন পাবলিকেশনস প্রকাশনার সংস্থার মনীষ আগারওয়াল হেমা সানে-কে বহুদিন ধরে চেনেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি৷ এমনকি এই বয়সেও তিনি আমাদের সামনে অনুকরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন৷ আমরা যে সম্পদ নষ্ট করি, তিনি তা সংরক্ষণ করেন৷ তিনি আমাদের পানি ও বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করার কথা মনে করিয়ে যান৷ মোবাইলের চার্জ রোজ ফুরিয়ে যায়৷ তখন তিনি প্রশ্ন করেন, তোমার এত বিদ্যুতের কেন প্রয়োজন? আমাদের জ্বালানি সংরক্ষণ করা উচিত৷ সন্তানদের জন্য আমরা কী রেখে যাব?''

সকালের নিয়মিত কাজকর্ম দিয়ে তাঁর দিন শুরু হয়৷ এই বয়সেও তাঁর দক্ষতা দেখলে ঈর্ষা জাগে৷ সামনের উঠান ঝাঁট দেবার পর তিনি নিজেই কাপড় কাচেন৷ এমনকি দিনের প্রয়োজন মেটাতে নিজেই কুয়া থেকে পানি তোলেন৷ সানে-র বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের অভাব মোটেই অস্বাভাবিক মনে হয় না৷ হেমা সানে বলেন, ‘‘এই জীবন বড়ই যান্ত্রিকতায় ভরা৷ বিদ্যুৎ না থাকলেই আপনি অসহায় হয়ে পড়েন৷ টেলিভিশন ছাড়া শিশুরা কাজ করতে পারে না৷ মোবাইল ফোনের গেমস ছাড়া শিশুরা বাসায় বসতে পারে না৷ জীবনযাত্রা খুবই ভিন্ন৷''

ভিডিও দেখুন 02:40

শিক্ষা দান যাঁর ধ্যান-জ্ঞান

সারাদিন ধরে অনেক মানুষ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ও ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা নিতে আসেন৷ অনেকে শুধু পরামর্শ বা গল্প করতেও আসেন৷ ব্যবসায়ী হিসেবে কৌস্তভ মুদগল বলেন, ‘‘ড.সানে আমাদের কাছে গুগল-এর মতো৷ তাঁর কাছে বিদ্যুৎ, কম্পিউটার বা স্মার্টফোন নেই বটে৷ কিন্তু অনেক বিষয়ে তাঁর অসীম জ্ঞান রয়েছে৷ তিনি অনেক বিষয়ে আমাকে সাহায্য করেন৷ যেমন কোনো প্রবন্ধ লেখা বা প্রেজেন্টেশন তৈরি করার ক্ষেত্রে৷ ভারততত্ত্ব সম্পর্কে আমদের দুজনেরই প্রবল আবেগ রয়েছে৷ তবে আমরা শুধু সে বিষয়ে কথা বলি না৷ হিন্দি চলচ্চিত্র, তার গান নিয়েও কথা হয়৷ সে বিষয়েও তাঁর সুন্দর সব তথ্য জানা রয়েছে৷''

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে তাঁর ঘরে মোমবাতি, তেল ও সৌরবাতি জ্বলে ওঠে৷ লণ্ঠনের পাশে বসে তিনি তাঁর সর্বশেষ বই লেখার কাজ শেষ করছেন৷ এবারের বিষয় নক্ষত্রমণ্ডল৷ লণ্ঠনের আলোয় তিনি এ পর্যন্ত ২০টি বই লিখেছেন৷

নায়ার/ফাডনিস/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন