বিদেশে পড়াশুনো করতে যেতে হচ্ছে জার্মানির হবু ডাক্তারদের | বিশ্ব | DW | 21.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

বিদেশে পড়াশুনো করতে যেতে হচ্ছে জার্মানির হবু ডাক্তারদের

জার্মানির সর্বোচ্চ আদালত শুধুমাত্র স্কুল শেষের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ডাক্তারি পড়ার সিট দেওয়ার প্রথাকে অংশত অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছেন৷ এ যাবৎ তার একমাত্র বিকল্প ছিল বিদেশে ডাক্তারি পড়া৷

স্থান: বার্লিন থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে সীমান্ত পার হয়েই পোল্যান্ডের স্টেটিন শহর৷ সেখানকার পমেরেনিয়ান মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজিতেই লেকচার দেওয়া হয়৷ কেননা এখানে ডাক্তারি পড়ার জন্য বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের ভিড় – যাঁদের অর্ধেকই আসে জার্মানি থেকে৷

এ ধরনের অধিকাংশ জার্মান ছাত্রছাত্রীর সমস্যা হলো, তাঁদের কাছে জার্মান ‘‘আবিটুর'' বা হাইস্কুল ডিপ্লোমা থাকা সত্ত্বেও, সেই ডিপ্লোমার গ্রেড জার্মানিতে ডাক্তারি পড়ার জন্য পর্যাপ্ত নয়৷ আরেকটি সমস্যা হলো, আবিটুর-এর পর প্যারামেডিক বা ফিডজিওথেরাপিস্ট বা নার্স ইত্যাদি চিকিৎসা সংক্রান্ত পেশায় প্রশিক্ষণ নিয়ে বা কাজ করেও বিশেষ কোনো লাভ হয় না, কেননা ডাক্তারি পড়ার সিট পাওয়ার জন্য কতদিন – বা আরো কত বছর – অপেক্ষা করতে হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই৷ কাজেই অনেকেই গত্যন্তর না দেখে পোল্যান্ডে – বা বিদেশে – ডাক্তারি পড়তে যান৷

জার্মানিতে ডাক্তারি পড়ার প্রতিটি সিটের জন্য অন্তত পাঁচজন করে প্রার্থী থাকে৷ ডাক্তারি পড়ার জন্য আবিটুর-এ অন্তত ১ দশমিক ০ গ্রেড থাকা দরকার – যা ব্রিটিশ এ-লেভেলে এ*এএ বা যুক্তরাষ্ট্রের ৪ দশমিক ০ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজের সমতুল৷ এই ‘নুমেরুস ক্লাউজুস'-এর বেড়ায় অধিকাংশ প্রার্থীর ডাক্তারি পড়া স্বপ্ন আটকা পড়ে যায় – এবং তা বেশ কয়েক বছরের জন্য হতে পারে৷

আদালতের রায়ে ‘নুমেরুস ক্লাউজুস' নাড়া খেল

সম্প্রতি জার্মানির সাংবিধানিক আদালত রায় দেন যে, ডাক্তারি পড়ার সিট বণ্টনের প্রণালী অংশত অসাংবিধানিক, কেননা তা সকলের জন্য সমান সুযোগের নীতির বিরোধী৷ কাজেই ফেডারাল সরকারকে সিট পাবার – ও দেবার শর্তাবলী নতুন করে নির্দেশ করতে হবে৷

আদালতের রায়ের আগে প্রণালীটা ছিল এইরকম: ডাক্তারি পড়ার ৯,০০০ সিটের প্রায় ২০ শতাংশ যেত আবিটুর-এ ভালো ফলাফল করা ছাত্রছাত্রীদের কাছে৷ আরো ৬০ শতাংশ যেতো সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজটির নির্দিষ্ট শর্তাবলী অনুযায়ী, যদিও এখানেও প্রার্থীদের আবিটুর ফলাফলের গুরুত্ব থাকছে৷ বাদবাকি সিটগুলো পেতেন সেই সব প্রার্থী, যাঁরা ডাক্তারি পড়ার জন্য ধৈর্য ধরে এতদিন অপেক্ষা করছেন৷ যাঁদের আবিটুর গ্রেড ভালো নয়, ডাক্তারি পড়ার সিট পাবার জন্য বর্তমানে তাঁদের ছ'বছর অপেক্ষা করতে হয়৷       

বছরে ১০,০০০ ইউরো টিউশন ফি

স্টেটিনের পমেরেনিয়ান মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ডাক্তারি পড়ার জন্য জার্মান ছাত্রছাত্রীদের বছরে ১০,০০০ ইউরো টিউশন ফি দিতে হয়৷ অর্থাৎ স্বচ্ছল, এমনকি বিত্তশালী পরিবারের সন্তান না হলে, বিদেশে ডাক্তারি পড়াটা সব জার্মান ছাত্রছাত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়৷ স্টেটিনে যে সব জার্মান ছাত্রছাত্রী ডাক্তারি পড়ছেন, তাঁরা অর্থবলে এই সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে কিছুটা বিবেকদংশনে ভোগেন৷ অপরদিকে তাঁদের যুক্তি হলো, তাঁদেরও ডাক্তারি পড়ার অধিকার আছে; এছাড়া জার্মানিতে প্রার্থীদের অপরাপর পেশাগত দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা বিচার করা হয় না – যা সাংবিধানিক আদালতেরও নজর এড়ায়নি৷

দোভাষী নিয়ে রোগী দেখা

পমেরেনিয়ান মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা হাসপাতালের ওয়ার্ডে দোভাষী সঙ্গে নিয়ে রোগী দেখেন, কেননা পোলিশ ভাষা পুরোপুরি আয়ত্ত করতে তাঁদের এখনও অনেক বাকি৷ কাজেই চারজন করে বিদেশি ছাত্রছাত্রী একজন পোলিশ দোভাষীকে সঙ্গে করে রাউন্ডে বেরোন৷

সম্প্রতি আরেকটি পন্থা আবিষ্কৃত হয়েছে: স্টেটিনে পড়াশুনা করার পর জার্মান ছাত্রছাত্রীরা দেশে ফিরে গিয়ে আস্কলেপিওস গোষ্ঠীর বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পান৷ এই মর্মে ইউনিভার্সিটির সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও আস্কলেপিওস গোষ্ঠীর মধ্যে চুক্তি হয়েছে৷

ডাক্তারের অভাব শুধু জার্মানিতেই নয়

জার্মানিতে ডাক্তারদের শ্রমিক সংগঠন মারবুর্গার বুন্ড বহুদিন ধরে জার্মানির মেডিক্যাল স্কুলগুলিতে আসনসংখ্যা বাড়ানোর ডাক দিয়ে আসছে৷ ওদিকে পোল্যান্ডে ডাক্তারের অভাব জার্মানির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ৷ কাজেই স্টেটিনে ইংরেজি ভাষায় হবু জার্মান ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে জার্মানিতে ডাক্তারের অভাব কিছুটা কমাতে পারলে, পোলিশ ডাক্তারদেরও দেশ ত্যাগ করে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কিছু কমতে পারে, এমন আশাও রয়েছে – যদিও এই স্টেটিন শহরেই গত গ্রীষ্মে তরুণ ডাক্তাররা তাঁদের দীর্ঘ কাজের সময় ও অপর্যাপ্ত পারিশ্রমিক নিয়ে আন্দোলন করেছেন৷

এরিক আলব্রেশ্ট/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন