বিতর্ক সত্ত্বেও আণবিক শক্তির পথে ফ্রান্স | অন্বেষণ | DW | 20.04.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বিতর্ক সত্ত্বেও আণবিক শক্তির পথে ফ্রান্স

বর্তমান মহামারি ও যুদ্ধের আবহের আগেই জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে৷ কিন্তু বাড়তি চাপের মুখে ফ্রান্সের মতো দেশ আপাতত ‘নির্মল জ্বালানি' হিসেবে আণবিক শক্তির উপর নির্ভর করছে৷

নর্মান্ডির উপকূল মানেই নির্মল প্রকৃতির কথা মনে হয়৷ কিন্তু তার মাঝেই আছে বিশাল এক পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র৷ ফ্লামঁভিলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুটি পরমাণু চুল্লি বহুকাল ধরে চালু রয়েছে৷ তৃতীয় চুল্লি হিসেবে প্রেসারাইজড ওয়াটার রিয়্যাক্টর আগামী বছর কাজ শুরু করার কথা৷ ফ্রান্স কার্বন নির্গমনহীন  পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি হিসেবে পরমাণু বিদ্যুতের উপর আরও জোর দিচ্ছে৷

অ্যাটমিক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পাট্রিক ফোশোঁ বেশ কয়েক দশক ধরে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছেন৷ তার মতে, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত শুনছি৷ তাদের মতে পরমাণু শিল্প সঠিক দিশায় এগোচ্ছে৷''

ফোশোঁ নিজে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাদদেশেই থাকেন৷ বর্তমানে তিনি মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন৷ তাঁর মতে, এই কেন্দ্রের দৌলতে স্থানীয় মানুষ ভালো বেতনের কাজ পাচ্ছে৷ অতীতে যখন শুধু গ্রানাইটের খনি ছিল, তখন ফ্লামঁভিল অনেক দরিদ্র অঞ্চল ছিল৷ সে কারণে ফোশঁ ও তার গ্রামের কাছে শুরু থেকেই সেটা ছিল ‘ভারি শিল্পের অ্যাডভেঞ্চার'-এ শামিল হবার বড় সুযোগ৷

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরমাণু বিদ্যুৎ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে৷ সরকারি বিজ্ঞাপন অনুযায়ী ‘এলিট ইঞ্জিনিয়ার'-রা সেই ক্ষেত্রে কাজ করছেন৷ সরকারের মতে, পরমাণু বিদ্যুৎ ভবিষ্যতমুখী ও নিরাপদ৷ নর্মান্ডির বাইয়ো শহরের বাজারেও দেশের বাকি অংশের মতো পরমাণু শিল্পের প্রতি গভীর আস্থা দেখা যায়৷

ফ্রান্সে এমন মোট ৫৬টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে৷ সবকটিই বেশ পুরানো৷ দুর্ঘটনা ঘটলে প্রায়ই অনেক পরে তা জানা যায়৷ তবে পরিবেশ কর্মীরা ইতোমধ্যে চুল্লির ঢাকনায় চিড় বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণযুক্ত পানি লিকের মতো ক্ষতির ঘটনা খুব ভালোভাবে নথিভুক্ত করছেন৷

ভিডিও দেখুন 04:10

আণবিক শক্তির পথে ফ্রান্স

অঁদ্রে জাক ফ্লামঁভিলের সেই সব বিরল মানুষের একজন, যিনি পরমাণু কেন্দ্রে কাজ করেন না৷ তিনি আশেপাশে যা পর্যবেক্ষণ করছেন, তা তাকে ক্ষুব্ধ করে তুলছে৷ তিনি কয়েক কিলোমিটার দূরে লা আগ এলাকায় পরমাণু বর্জ্যের অস্থায়ী গুদামের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করেন৷ সেখানে বর্জ্যের একাংশ তথাকথিত এমওএক্স ফুয়েল রডে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে৷ কিন্তু তেজস্ক্রিয় বিকিরণ সত্ত্বেও অবশিষ্ট্য বর্জ্যের জন্য কোনো চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেই৷ অঁদ্রে জাক বলেন, ‘‘এখানে অভাবনীয় মাত্রার পরমাণু বর্জ্য জমা হচ্ছে৷ এমনটা চলতে পারে না৷ শুধু সে কারণেই আমাদের পরমাণু বিদ্যুৎ ত্যাগ করতে হবে, যাতে আরও বেশি তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সৃষ্টি না হয়৷''

কিন্তু সরকার ঠিক এর বিপরীত পথেই এগোচ্ছে, অর্থাৎ, পরমাণু জ্বালানির উপর আরও নির্ভর করছে৷ লা আগ-এ নতুন কুলিং পুল তৈরি করা হচ্ছে৷

অনেক বাসিন্দাই চরম বিরক্তি প্রকাশ করছেন৷ তাঁদের মতে, তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের সমস্যা সমাধানের আগে সম্প্রসারণের কাজ দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়৷ তাদেরই একজন বলেন, ‘‘পরমাণু বর্জ্যকে এমওএক্স ফুয়েল রডে পরিণত করাকেই একমাত্র সমাধানসূত্র হিসেবে বার বার তুলে ধরা হচ্ছে৷ জ্বালানির ক্ষেত্রে ফ্রান্সের স্বনির্ভরতার এটাই নাকি পথ৷ কিন্তু পুরোটাই আসলে ভাঁওতা৷''

পাট্রিক ফোশোঁ অবশ্য বিষয়টি সেভাবে দেখছেন না৷ ফ্লামঁভিলের মেয়রের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে৷ তার মতে, ফ্রান্সের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি অত্যন্ত উচ্চ মানের এবং জলবায়ু সংকটের মুখে ভবিষ্যতের জন্য জরুরি৷ ফুকুশিমার মতো দুর্ঘটনার কোনো আশঙ্কাও তিনি দেখছেন না৷ পাট্রিক বলেন, ‘‘আমাদের এখানেও পরমাণু বিদ্যুতের বিরোধীরা রয়েছেন৷ অথচ তাদের অনেকের সন্তানই ইতোমধ্যে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাজ করছেন৷ দুই প্রজন্মেরও বেশি সময় ধরে আমরা এখানে পরমাণু শক্তির সঙ্গে বাস করছি৷''

ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সম্ভবত সে রকম পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে৷

সুসানা ড্যোরহাগে/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়