বিজ্ঞাপনের দর্শক নেই, টাকা রাস্তায় ঢালতে আপত্তি | বিশ্ব | DW | 07.05.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

বিজ্ঞাপনের দর্শক নেই, টাকা রাস্তায় ঢালতে আপত্তি

লকডাউনের জেরে সংকটের মুখে আউটডোর বিজ্ঞাপনের ব্যবসা৷ রাস্তায় লোক না থাকায় বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলিকে আর অর্থ দিতে রাজি নন বিজ্ঞাপনদাতারা৷

কবি লিখেছিলেন, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে'৷ কলকাতা-সহ পৃথিবীর সব আধুনিক শহরের মুখ সত্যিই বিজ্ঞাপনে ঢেকে গিয়েছে৷ হোর্ডিং-এর মাধ্যমে সেই বিজ্ঞাপনী প্রচার এখন করোনায় আক্রান্ত! যেসব বাণিজ্যিক সংস্থা প্রচারের লক্ষ্যে আউটডোর বিজ্ঞাপন দেয়, তারা ক্রমশ হাত গুটিয়ে নিচ্ছে৷ ব্যবসা বন্ধ থাকায় এই সংস্থাগুলি আর্থিক ক্ষতির মুখে৷ একই সঙ্গে সংকটের মুখে পড়েছে প্রচারের কাজ করা বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি৷ আউটডোর বিজ্ঞাপন এজেন্সির শীর্ষ সংগঠনের দাবি, এর ফলে এই রাজ্যে ১০ লাখ মানুষের রুটি-রুজির সংকট তৈরি হয়েছে৷ 

অডিও শুনুন 01:43

‘‘এখন কাজ না থাকায় পাঁচজনের সংসার টানতে পারছি না’’

কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের রেল স্টেশন থেকে বাস স্ট্যান্ড, সড়কের ধার থেকে বাড়ির ছাদ, সর্বত্র বিজ্ঞাপন দেখা যায়৷ হোর্ডিং-এ বড় থেকে ছোট কর্পোরেট সংস্থা তাদের পণ্যের প্রচার তুলে ধরে৷ বিজ্ঞাপন দেয় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানও৷ খোদ রাজ্য সরকার থেকে রাজনৈতিক দলের হোর্ডিং দেখা যায় শহরে৷ এই বিজ্ঞাপন সাধারণ মানুষদের সামনে তুলে ধরার গোটা প্রক্রিয়া পরিচালনা করে বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি৷ পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের এজেন্সির সংখ্যা হাজার দশেক৷ এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অসংখ্য কর্মী, যাঁদের মধ্যে অনেকে ইলেকট্রিশিয়ান ও ফ্লেক্স ফিটার-ও আছেন৷ অর্থাৎ, কেউ বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং লাগিয়ে দেন, কেউ তাতে আলোর ব্যবস্থা করেন৷ বিজ্ঞাপনদাতাদের বক্তব্য, লকডাউনের ফলে রাস্তায় লোকজন না থাকায় তাঁদের হোর্ডিং কেউ দেখছে না৷ সেই কারণে তারা আর এজেন্সিকে টাকা দেবেন না৷ সাধারণভাবে আউটডোর হোর্ডিং লাগানোর পর প্রথম এক থেকে তিন মাস বিজ্ঞাপনদাতাদের টাকা দিতে হয় না৷ তারপর থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সংস্থা এজেন্সির প্রাপ্য মেটায়৷ কিন্তু, লকডাউন কার্যকর হওয়ার আগের, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত প্রাপ্য টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ আউটডোর অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল (ওএএডব্লিউবি)-এর সভাপতি অরূপ চৌধুরীর৷ তিনি বলেন, ‘‘লকডাউনের পর হোর্ডিং-এর জন্য কেউ টাকা দেবে না, এটা স্বাভাবিক৷ কিন্তু, ২৪ মার্চ পর্যন্ত রাস্তায় মানুষ ছিল৷ তাই সেই দিন পর্যন্ত আমাদের প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়া উচিত৷ আমরা সেই আবেদনই করেছি৷ নইলে শুধু বিজ্ঞাপন এজেন্সি নয়, গোটা শিল্পের সঙ্গে জড়িত লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷'' 


গোটা পশ্চিমবঙ্গে প্রতি বছর ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থা৷ বিজ্ঞাপনী ফ্লেক্স ছাপানোর ব্যবসাকে এই হিসেবের মধ্যে ধরা হয়নি৷ রাজ্যে এই ধরনের ছাপাখানার সংখ্যা হাজার পাঁচেক৷ একটি মুদ্রণ যন্ত্র থাকলেও সেখানে কমপক্ষে জনা চারেক কর্মী কাজ করেন৷ অনেক ইউনিটে ৮-১০টি মুদ্রণ যন্ত্র থাকে৷ এখন এ সব ছাপাখানার হাতে নতুন কাজ নেই৷ বহু মানুষ অন্যান্য শিল্পের মতো কর্মহীন৷ পরে অবস্থা ফিরবে, এমন আশু সম্ভাবনা নেই৷ দুর্গাপুজোর সময় কলকাতার সব রাস্তা হোর্ডিং-এ ভরে যায়৷ কিন্তু, এ বছর সেই ছবি হয়তো পাল্টাতে চলেছে৷ ফলে লকডাউন উঠে গেলেও ফ্লেক্স ছাপানোর ইউনিট কতটা সচল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে৷ ফ্লেক্স লাগানোর কাজে যুক্ত বেলঘরিয়ার মলয় বৈদ্য ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা ঠিকাদারের অধীনে কাজ করি৷ দিনে ১৫০-২০০ টাকা পাই৷ প্রত্যেক ঠিকাদারের অধীনে চার-পাঁচজন কাজ করেন৷ রাজ্যে ঠিকাদার আছে পাঁচ হাজারের মতো৷ এখন কাজ না থাকায় পাঁচজনের সংসার টানতে পারছি না৷''
লকডাউনের জন্য দোকানপাট বন্ধ থাকায় কেনাবেচা হচ্ছে না৷ ফলে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদক সংস্থার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷ স্বাভাবিকভাবেই তারা বিজ্ঞাপনের বাজেটে কাটছাঁট করছে৷ মোবাইল নির্মাতা সংস্থা ‘ভিভো'-র বিপণন শাখার ময়ূখ উকিল বলেন, ‘‘লকডাউন উঠে যাওয়ার পর পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, এখন বলা সম্ভব নয়৷ এখন আমাদের পণ্যের কেনাবেচা বন্ধ৷ পরবর্তীতে ব্যবসায় স্বাভাবিক গতি ফিরে এলে বিজ্ঞাপনের কথা ভাবা হবে৷'' তবে তাঁর আশ্বাস, আউটডোর বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে মার্চ পর্যন্ত এজেন্সির পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হবে৷
ক্ষতি সামাল দিতে একাধিক কর মকুবের আর্জি জানিয়েছে ওএএডব্লিউবি৷ তারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে চিঠি লিখেছে৷ অরূপ বলেন, ‘‘পুরনিগম, পুরসভা ও পঞ্চায়েত বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের কাছ থেকে যে কর আদায় করে, সেটা মকুব করার অনুরোধ করা হয়েছে৷ একইভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে রেলওয়েকে৷ কর দিতে হলে আউটডোর বিজ্ঞাপনের ব্যবসা ধ্বংসের দিকে চলে যাবে৷''

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন